জাফর, সিকান্দার আবু: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
৩ নং লাইন: ৩ নং লাইন:
'''জাফর, সিকান্দার আবু'''  (১৯১৯-১৯৭৫)  সাহিত্যিক, সাংবাদিক। তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার। ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে; সেখান থেকে তাঁর পিতামহ মাওলানা সৈয়দ আলম শাহ হাশেমী ওই গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।
'''জাফর, সিকান্দার আবু'''  (১৯১৯-১৯৭৫)  সাহিত্যিক, সাংবাদিক। তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার। ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে; সেখান থেকে তাঁর পিতামহ মাওলানা সৈয়দ আলম শাহ হাশেমী ওই গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।


আবু জাফর স্থানীয় তালা বিদে ইনস্টিটিউট থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৬) এবং কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। কলকাতার মিলিটারি একাউন্টস বিভাগে (১৯৩৯) তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন এবং পরে সিভিল সাপ্লাই অফিসে চাকরি করেন। সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের ‘গ্লোব নিউজ এজেন্সী’ নামক সংবাদ-সংস্থায়ও তিনি কিছুকাল কাজ করেন; এ সময় তিনি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। আবু জাফর ১৯৫০ সালে  [[কলকাতা|কলকাতা]] থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক [[নবযুগ|নবযুগ]],  [[ইত্তেফাক, দৈনিক|ইত্তেফাক]],  [[সংবাদ|সংবাদ]] ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি মাসিক  [[সমকাল|সমকাল]] পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সমকাল মুদ্রায়ণ’ নামে একটি ছাপাখানা ও ‘সমকাল প্রকাশনী’ নামে একটি প্রকাশনালয় স্থাপন করেন।  
আবু জাফর স্থানীয় তালা বিদে ইনস্টিটিউট থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৬) এবং কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। কলকাতার মিলিটারি একাউন্টস বিভাগে (১৯৩৯) তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন এবং পরে সিভিল সাপ্লাই অফিসে চাকরি করেন। সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের ‘গ্লোব নিউজ এজেন্সী’ নামক সংবাদ-সংস্থায়ও তিনি কিছুকাল কাজ করেন; এ সময় তিনি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। আবু জাফর ১৯৫০ সালে  [[কলকাতা|কলকাতা]] থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক [[নবযুগ|নবযুগ]],  [[ইত্তেফাক, দৈনিক|ইত্তেফাক]],  [[সংবাদ, দৈনিক|সংবাদ]] ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি মাসিক  [[সমকাল|সমকাল]] পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সমকাল মুদ্রায়ণ’ নামে একটি ছাপাখানা ও ‘সমকাল প্রকাশনী’ নামে একটি প্রকাশনালয় স্থাপন করেন।  


ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার যে ধারা গড়ে ওঠে, আবু জাফর ছিলেন তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও বিপ্লবের চেতনাসম্পন্ন অনেক গান রচনা করেন।  
ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার যে ধারা গড়ে ওঠে, আবু জাফর ছিলেন তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও বিপ্লবের চেতনাসম্পন্ন অনেক গান রচনা করেন।  


তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। আবু জাফর গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন; তবে তাঁর সর্বাধিক খ্যাতি কবি হিসেবে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ: উপন্যাস পূরবী (১৯৪১), নতুন সকাল (১৯৪৬); ছোটগল্প মাটি আর অশ্রু (১৯৪২); কবিতা প্রসন্ন শহর (১৯৬৫), তিমিরান্তিক (১৯৬৫), বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫), বৃশ্চিক''-''লগ্ন (১৯৭১), বাংলা ছাড়ো (১৯৭১); নাটক সিরাজ''-''উদ''-''দৌলা (১৯৬৫), মহাকবি আলাউল (১৯৬৬); সঙ্গীত মালব কৌশিক (১৯৬৬)।
তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। আবু জাফর গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন; তবে তাঁর সর্বাধিক খ্যাতি কবি হিসেবে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ: উপন্যাস পূরবী (১৯৪১), নতুন সকাল (১৯৪৬); ছোটগল্প মাটি আর অশ্রু (১৯৪২); কবিতা প্রসন্ন শহর (১৯৬৫), তিমিরান্তিক (১৯৬৫), বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫), বৃশ্চিক-লগ্ন (১৯৭১), বাংলা ছাড়ো (১৯৭১); নাটক সিরাজ-উদ-দৌলা (১৯৬৫), মহাকবি আলাউল (১৯৬৬); সঙ্গীত মালব কৌশিক (১৯৬৬)।


আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ: যাদুর কলস (১৯৫৯), সেন্ট লুইয়ের সেতু (১৯৬১), রুবাইয়াৎ : ওমর খৈয়াম (১৯৬৬) ইত্যাদি। তিনি নাটকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।  [গোলাম কিবরিয়া পিনু]
আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ: যাদুর কলস (১৯৫৯), সেন্ট লুইয়ের সেতু (১৯৬১), রুবাইয়াৎ : ওমর খৈয়াম (১৯৬৬) ইত্যাদি। তিনি নাটকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।  [গোলাম কিবরিয়া পিনু]


[[en:Zafar, Sikander Abu]]
[[en:Zafar, Sikander Abu]]

০৬:৫৯, ১০ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

সিকান্দার আবু জাফর

জাফর, সিকান্দার আবু (১৯১৯-১৯৭৫)  সাহিত্যিক, সাংবাদিক। তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার। ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে; সেখান থেকে তাঁর পিতামহ মাওলানা সৈয়দ আলম শাহ হাশেমী ওই গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন।

আবু জাফর স্থানীয় তালা বিদে ইনস্টিটিউট থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৬) এবং কলকাতার রিপন কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। কলকাতার মিলিটারি একাউন্টস বিভাগে (১৯৩৯) তিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন এবং পরে সিভিল সাপ্লাই অফিসে চাকরি করেন। সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের ‘গ্লোব নিউজ এজেন্সী’ নামক সংবাদ-সংস্থায়ও তিনি কিছুকাল কাজ করেন; এ সময় তিনি ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগইত্তেফাকসংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি মাসিক  সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সমকাল মুদ্রায়ণ’ নামে একটি ছাপাখানা ও ‘সমকাল প্রকাশনী’ নামে একটি প্রকাশনালয় স্থাপন করেন।

ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার যে ধারা গড়ে ওঠে, আবু জাফর ছিলেন তার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীনতা, দেশপ্রেম ও বিপ্লবের চেতনাসম্পন্ন অনেক গান রচনা করেন।

তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। আবু জাফর গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন; তবে তাঁর সর্বাধিক খ্যাতি কবি হিসেবে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ: উপন্যাস পূরবী (১৯৪১), নতুন সকাল (১৯৪৬); ছোটগল্প মাটি আর অশ্রু (১৯৪২); কবিতা প্রসন্ন শহর (১৯৬৫), তিমিরান্তিক (১৯৬৫), বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫), বৃশ্চিক-লগ্ন (১৯৭১), বাংলা ছাড়ো (১৯৭১); নাটক সিরাজ-উদ-দৌলা (১৯৬৫), মহাকবি আলাউল (১৯৬৬); সঙ্গীত মালব কৌশিক (১৯৬৬)।

আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ: যাদুর কলস (১৯৫৯), সেন্ট লুইয়ের সেতু (১৯৬১), রুবাইয়াৎ : ওমর খৈয়াম (১৯৬৬) ইত্যাদি। তিনি নাটকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।  [গোলাম কিবরিয়া পিনু]