আলী, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর


আলী, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর (১৯১৯-১৯৭৫)  আইনজীবী, রাজনীতিক। ১৯১৯ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার কুড়িপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম.এ এবং আইন ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি পাবনা জেলা আদালতে আইনব্যবসা শুরু করেন।

মোহাম্মদ মনসুর আলী

১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত মনসুর আলী পাবনা জেলা মুসলিম লীগের সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৪৮ সালে পি.এল জি’র ক্যাপ্টেন পদে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্টে প্রশিক্ষণ নেন। এ সময় থেকেই তিনি ‘ক্যাপ্টেন মনসুর’ নামে পরিচিত হন। মনসুর আলী ১৯৫১ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন এবং আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দলের পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি পাবনায় ভাষা আন্দোলন সংগঠনকালে গ্রেফতার হন। ১৯৫৪ সালে তিনি যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পূর্ব বাংলা আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন পূর্ববঙ্গ কোয়ালিশন সরকারের আইন ও সংসদ, খাদ্য ও কৃষি এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারি হলে তিনি নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং ১৯৫৯ সালের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা আন্দোলনে মনসুর আলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি মুজিবনগরে গঠিত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রীর এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন।

মনসুর আলী স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগাযোগ মন্ত্রী এবং পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি দলের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে দেশে একদলীয় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি চালু হলে তিনি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বব্দবষলু  শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হলে মনসুর আলী আত্মগোপন করেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পর  খোন্দকার মোশতাক আহমদ আওয়ামী লীগে তাঁর কতিপয় সহকর্মীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করেন। কিন্তু মনসুর আলী ও অপর তিন জাতীয় নেতা মন্ত্রিসভায় যোগদানে অস্বীকৃতি জানালে ২৩ আগস্ট তাঁদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়। কারাগারে আটক অবস্থায় ৩ নভেম্বর অপর তিন নেতাসহ মনসুর আলীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।  [মোঃ আজম বেগ]