আহমদ, খোন্দকার মোশতাক


আহমদ, খোন্দকার মোশতাক (১৯১৯-১৯৯৬)  রাজনীতিক, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার দশপাড়া গ্রামে ১৯১৯ সালে তাঁর জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি লাভের পর ১৯৪২ সালে খোন্দকার মোশতাক আহমদ রাজনীতিতে যোগ দেন। পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি ছিলেন একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তিনি ছিলেন পূর্ব বাংলা আওয়ামী মুসলিম লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক।

খোন্দকার মোশতাক আহমদ

১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে  যুক্তফ্রণ্ট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মোশতাক আহমদ দাউদকান্দি-হোমনা নির্বাচনী এলাকা থেকে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ৯২-ক ধারা জারী করে যুক্তফ্রণ্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পর (১৯৫৪) তিনি গ্রেফতার হন এবং জেল থেকে মুক্তিলাভের পর ১৯৫৫ সালে যুক্তফ্রণ্ট সংসদীয় দলের চীফ হুইপ নিযুক্ত হন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন।

১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলন কালে তিনি গ্রেফতার হন। ১৯৬৯ সালের প্রথমদিকে ৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আইয়ুব বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর পূর্ব পাকিস্তান শাখার আহবায়ক নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে  আইয়ুব খান আহূত গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করেন (১৯৬৯)। খোন্দকার মোশতাক আহমদ ১৯৭০ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি  ছিলেন মুজিবনগর সরকারের পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদীয় মন্ত্রী। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি বিদ্যুৎ, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরে বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন (১৯৭২-১৯৭৫)। ১৯৭৫ সালে  বাকশাল গঠিত হলে তিনি এর কার্যনির্বাহি কমিটির সদস্য মনোনীত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সামরিক বাহিনীর কিছুসংখ্যক সদস্যের হাতে রাষ্ট্রপতি  শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হলে মোশতাক আহমদ নিজেকে দেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। তিনি মোট ৮৩ দিন এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি  ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয়বাংলা’র পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান চালু করেন, এবং ‘বাংলাদেশ বেতার’ এর নামকরণ করেন ‘রেডিও বাংলাদেশ’। তাঁর সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীন জাতীয় চার নেতা  সৈয়দ নজরুল ইসলামতাজউদ্দিন আহমদক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর আলী ও  আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান নির্মমভাবে নিহত হন। ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।

মোশতাক আহমদ ১৯৭৬ সালে ডেমোক্রেটিক লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। একই বছর তৎকালীন সামরিক সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিনি গ্রেফতার হন। সামরিক সরকারের দায়ের করা দুটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনি পাঁচ বছর কারাদন্ড ভোগ করেন। জেল থেকে মুক্তিলাভের পর তিনি পুনরায় রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৬ সালের ৫ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

[সালেহ আতহার খান]