"বেগম, আমেনা"-এর বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য


(Text replacement - "\[মুয়ায্যম হুসায়ন খান\]" to "[মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]")
 
১১ নং লাইন: ১১ নং লাইন:
 
১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলবিধির আওতায় জাতীয় লীগ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর আমেনা বেগম রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সাত দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় লীগের মুখপাত্র হিসেবে তিনি জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালে দলের সভাপতি আতাউর রহমান খান জেনারেল এরশাদের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের পর আমেনা বেগম জাতীয় লীগকে পুনর্গঠন করে দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
 
১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলবিধির আওতায় জাতীয় লীগ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর আমেনা বেগম রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সাত দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় লীগের মুখপাত্র হিসেবে তিনি জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালে দলের সভাপতি আতাউর রহমান খান জেনারেল এরশাদের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের পর আমেনা বেগম জাতীয় লীগকে পুনর্গঠন করে দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
  
আমেনা বেগম ১৯৮৯ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  [মুয়ায্যম হুসায়ন খান]
+
আমেনা বেগম ১৯৮৯ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]
  
 
[[en:Begum, Amena]]
 
[[en:Begum, Amena]]

২২:১৮, ১৭ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে সম্পাদিত বর্তমান সংস্করণ

আমেনা বেগম

বেগম, আমেনা (১৯২৫-১৯৮৯)  রাজনীতিক। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার ফরিদগঞ্জ গ্রামে ১৯২৫ সালে তাঁর জন্ম। তিনি ১৯৪০ সালে কুমিল্লার নওয়াব ফয়জুন্নেসা গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৪২ সালে ঢাকার ইডেন গার্লস কলেজ থেকে আইএ পাস করেন।

আমেনা বেগম ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-সিলেট নির্বাচনী এলাকা থেকে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন।

১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলনের সূচনা পর্বে আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের পর ওই বছর ২৭ জুলাই আমেনা বেগমকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সহ-সভাপতি আতাউর রহমান খান হন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। সারাদেশে আওয়ামী লীগ কর্মীদের উপর স্বৈরাচারী আইউব সরকারের নির্যাতন নিপীড়নের ওই সঙ্কটময় সময়ে আমেনা বেগম দলের কার্যক্রম পরিচালনায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন এবং দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে ছয়দফা আন্দোলনকে বেগবান করে তোলেন। ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে ছাত্রদের এগারো দফা আন্দোলনের সূচনা এবং ১৯৬৯ সালে আইউব বিরোধী গণআন্দোলন সংগঠনেও তাঁর অসামান্য অবদান ছিল।

আওয়ামী লীগে তাঁর পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে খুবই সচেতন ছিলেন আমেনা বেগম। দলের পরবর্তী কাউন্সিল অধিবেশনে (১৯৭০) তিনি সাধারণ সম্পাদকের পদ দাবি করেন। কিন্তু ইপ্সিত পদলাভে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি আতাউর রহমান খানের নবগঠিত দল (১৯৬৯) জাতীয় লীগে যোগ দেন। ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট তিনি জাতীয় লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হন। আমেনা বেগম ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

১৯৭৬ সালে রাজনৈতিক দলবিধির আওতায় জাতীয় লীগ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর আমেনা বেগম রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সাত দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় লীগের মুখপাত্র হিসেবে তিনি জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালে দলের সভাপতি আতাউর রহমান খান জেনারেল এরশাদের মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণের পর আমেনা বেগম জাতীয় লীগকে পুনর্গঠন করে দলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আমেনা বেগম ১৯৮৯ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।  [মুয়ায্‌যম হুসায়ন খান]