ত্রৈলোক্যচন্দ্র


ত্রৈলোক্যচন্দ্র দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় চন্দ্রবংশের প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা হিসেবে অনুমিত। তাঁর রাজত্বকাল ৯০০-৯৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল বলে মনে করা হয়। তাঁর পিতার নাম সুবর্ণচন্দ্র।

ত্রৈলোক্যচন্দ্রের রাজত্বকালের কোনো লিপি প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তবে পন্ডিতগণের ধারণা, সম্ভবত তিনিই চন্দ্রবংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রথমদিকে তিনি রোহিতাগিরির ভূ-স্বামী বা সামন্তরাজা ছিলেন। পরবর্তী চন্দ্ররাজাদের তাম্রশাসনএ তাঁকে হরিকেল রাজার ক্ষমতার আধার বা প্রধান অবলম্বন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হয়তো এ অবস্থান থেকেই তিনি চন্দ্রদ্বীপএর স্বাধীন নৃপতি হয়েছিলেন।

ত্রৈলোক্যচন্দ্র সম্পর্কে চন্দ্রবংশের প্রায় সব তাম্রশাসনেই সাধারণভাবে প্রশংসা করা হয়েছে। শ্রীচন্দ্রের পশ্চিমভাগ তাম্রশাসনে ত্রৈলোক্যচন্দ্রের সমতট জয়ের উল্লেখ রয়েছে। পূর্ববর্তী দেব রাজাদের শাসনকেন্দ্র দেবপর্বত ছিল তাঁর ক্ষমতার উৎস এবং সে স্থানের সৈন্যদল নিয়েই তিনি সমতট অধিকার করেছিলেন বলেও মনে করা হয় এবং ’মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। লড়হচন্দ্রের ময়নামতী তাম্রশাসনে উল্লিখিত হয়েছে যে, ত্রৈলোক্যচন্দ্রের শাসনকালে বঙ্গ অত্যুন্নতিশালী ছিল। কল্যাণচন্দ্রের ঢাকা তাম্রশাসনে ত্রৈলোক্য কর্তৃক গৌড়দের পরাস্ত করার উল্লেখ রয়েছে।

সম্ভবত একজন সামন্ত থেকে নিজের উত্তরণ ঘটিয়ে ত্রৈলোক্যচন্দ্র চন্দ্রবংশের প্রতিষ্ঠা করেন এবং সমতট ও বঙ্গে সার্বভৌম ক্ষমতালাভ করেন।  [আকসাদুল আলম]