দুর্গ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
২ নং লাইন: ২ নং লাইন:
'''দুর্গ''' প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এটি একটি অপরিহার্য কাঠামো যা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকে। প্রথাগতভাবে দুর্গে সৈন্যরা বসবাস করে। সাধারণত দু’ধরনের দুর্গ দেখা যায়- স্থায়ী ও অস্থায়ী। প্রথম উল্লিখিত দুর্গ রীতি অনুযায়ী বেশ শক্তিশালী এবং শান্তির সময়ে আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাকল্পে নির্মিত হয়ে থাকে। এধরনের দুর্গগুলি শহর, সীমান্ত চৌকি, সমুদ্র কিংবা নদীর উপকূলবর্তী অঞ্চল ও বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিকে রক্ষা করার জন্যই নির্মিত হয়। স্থায়ী দুর্গগুলি দেওয়াল দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এর মধ্যে সৈন্যরা বসবাস করে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই থাকে। অস্থায়ী দুর্গগুলি যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধের প্রয়োজনে তাড়াহুড়া করে নির্মাণ করা হয়। পরিখা, আত্মরক্ষার্থে খোঁড়া গর্ত, যুদ্ধাস্ত্র-স্থাপনের মঞ্চ, মাইন পাতা স্থান, তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি মাটির প্রাচীরাদি প্রভৃতি এবং কাঁটা তারের বেড়া এর অন্তর্ভুক্ত।  
'''দুর্গ''' প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এটি একটি অপরিহার্য কাঠামো যা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকে। প্রথাগতভাবে দুর্গে সৈন্যরা বসবাস করে। সাধারণত দু’ধরনের দুর্গ দেখা যায়- স্থায়ী ও অস্থায়ী। প্রথম উল্লিখিত দুর্গ রীতি অনুযায়ী বেশ শক্তিশালী এবং শান্তির সময়ে আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাকল্পে নির্মিত হয়ে থাকে। এধরনের দুর্গগুলি শহর, সীমান্ত চৌকি, সমুদ্র কিংবা নদীর উপকূলবর্তী অঞ্চল ও বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিকে রক্ষা করার জন্যই নির্মিত হয়। স্থায়ী দুর্গগুলি দেওয়াল দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এর মধ্যে সৈন্যরা বসবাস করে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই থাকে। অস্থায়ী দুর্গগুলি যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধের প্রয়োজনে তাড়াহুড়া করে নির্মাণ করা হয়। পরিখা, আত্মরক্ষার্থে খোঁড়া গর্ত, যুদ্ধাস্ত্র-স্থাপনের মঞ্চ, মাইন পাতা স্থান, তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি মাটির প্রাচীরাদি প্রভৃতি এবং কাঁটা তারের বেড়া এর অন্তর্ভুক্ত।  


[[Image:FortsOfBangladesh.jpg|thumb|300px|right]]
[[Image:FortsOfBangladesh.jpg|thumb|400px|right]]
 
কৌটিল্য (অর্থশাস্ত্রে) দুর্গকে ছয়টি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। এগুলি হলো ধন্বদুর্গ (মরুদুর্গ), মাহিদুর্গ (মাটির দুর্গ), জলদুর্গ, গিরিদুর্গ, বনদুর্গ এবং নরদুর্গ। ভারতের শহরগুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়,  যথা- অকৃত্রিম দুর্গ ও কৃত্রিম দুর্গ।  
কৌটিল্য (অর্থশাস্ত্রে) দুর্গকে ছয়টি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। এগুলি হলো ধন্বদুর্গ (মরুদুর্গ), মাহিদুর্গ (মাটির দুর্গ), জলদুর্গ, গিরিদুর্গ, বনদুর্গ এবং নরদুর্গ। ভারতের শহরগুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়,  যথা- অকৃত্রিম দুর্গ ও কৃত্রিম দুর্গ।  


১০ নং লাইন: ৯ নং লাইন:
কিছু কিছু সাহিত্যিক উপাদানে আমরা বাংলার অনেক মাটির দুর্গের অস্তিত্বের উল্লেখ পাই। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থার কারণে বাংলায় এ ধরনের কাঠামোর আবির্ভাব ঘটেছিল। ঠিক একই কারণে অন্য ধরনের দুর্গ এখানে নির্মিত হয় নি। বাংলার দুর্গগুলির শক্তি প্রধানত এর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে জড়িত এবং তা শুধু এর নিরাপত্তামূলক দেওয়ালগুলির উপর নির্ভরশীল ছিল না। ফলে বাংলায় প্রধানত দুধরনের দুর্গ - মাহিদুর্গ (মাটির-দুর্গ) ও জলদুর্গ বিকাশ লাভ করে।  
কিছু কিছু সাহিত্যিক উপাদানে আমরা বাংলার অনেক মাটির দুর্গের অস্তিত্বের উল্লেখ পাই। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থার কারণে বাংলায় এ ধরনের কাঠামোর আবির্ভাব ঘটেছিল। ঠিক একই কারণে অন্য ধরনের দুর্গ এখানে নির্মিত হয় নি। বাংলার দুর্গগুলির শক্তি প্রধানত এর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে জড়িত এবং তা শুধু এর নিরাপত্তামূলক দেওয়ালগুলির উপর নির্ভরশীল ছিল না। ফলে বাংলায় প্রধানত দুধরনের দুর্গ - মাহিদুর্গ (মাটির-দুর্গ) ও জলদুর্গ বিকাশ লাভ করে।  


[[Image:LalbagFortGateway.jpg|thumb|লালবাগ দুর্গের দক্ষিণের প্রধান ফটক]]
[[Image:LalbagFortGateway.jpg|thumb|left|লালবাগ দুর্গের দক্ষিণের প্রধান ফটক]]
 
প্রাচীন বাংলার সমগ্র এলাকায় অসংখ্য দুর্গের চিহ্ন দেখা যায়। পাথরের অভাবে এখানে দুর্গগুলি সাধারণত মাটির তৈরি। প্রাক্-মুসলিম বাংলার প্রায় সকল দুর্গ ছিল মাটির তৈরি এবং কালপরিক্রমায় এগুলি ধ্বংস হয়ে মাটির ঢিবিতে পরিণত হয়েছে। তাই প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার ক্ষেত্রে কাঠামোগত প্রমাণাদির স্বল্পতার কারণে বাংলার ইতিহাস ও তার দুর্গগুলির স্থাপত্যিক শৈলীর ইতিহাস রচনা করা খুবই কষ্টসাধ্য।  
প্রাচীন বাংলার সমগ্র এলাকায় অসংখ্য দুর্গের চিহ্ন দেখা যায়। পাথরের অভাবে এখানে দুর্গগুলি সাধারণত মাটির তৈরি। প্রাক্-মুসলিম বাংলার প্রায় সকল দুর্গ ছিল মাটির তৈরি এবং কালপরিক্রমায় এগুলি ধ্বংস হয়ে মাটির ঢিবিতে পরিণত হয়েছে। তাই প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার ক্ষেত্রে কাঠামোগত প্রমাণাদির স্বল্পতার কারণে বাংলার ইতিহাস ও তার দুর্গগুলির স্থাপত্যিক শৈলীর ইতিহাস রচনা করা খুবই কষ্টসাধ্য।  


১৮ নং লাইন: ১৬ নং লাইন:
কালের বিবর্তনে উদ্ভূত ব্যবস্থাবলি মুসলিমদের প্রবর্তিত দুর্গ ও দুর্গপ্রাচীরসমূহের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। মধ্যযুগীয় বাংলার দুর্গ ও দুর্গ প্রাচীরসমূহ বলবৎ আছে এবং অধিকাংশই দুটি প্রধান উৎসের সংশ্লেষণের ফলে গড়ে উঠেছে। এ দুটি উৎস হলো বাংলার প্রাক্-মুসলিম ঐতিহ্য এবং মুসলিমদের দুর্গনির্মাণ রীতি যা তারা বাইরে থেকে নিয়ে এসেছেন। পাঁচশত বছরেরও অধিক সময় ধরে সুলতানি ও মুগল- এ দুটি ধারায় দুর্গ স্থাপত্যের উন্নয়ন ও বিকাশ লাভ করেছে।  
কালের বিবর্তনে উদ্ভূত ব্যবস্থাবলি মুসলিমদের প্রবর্তিত দুর্গ ও দুর্গপ্রাচীরসমূহের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। মধ্যযুগীয় বাংলার দুর্গ ও দুর্গ প্রাচীরসমূহ বলবৎ আছে এবং অধিকাংশই দুটি প্রধান উৎসের সংশ্লেষণের ফলে গড়ে উঠেছে। এ দুটি উৎস হলো বাংলার প্রাক্-মুসলিম ঐতিহ্য এবং মুসলিমদের দুর্গনির্মাণ রীতি যা তারা বাইরে থেকে নিয়ে এসেছেন। পাঁচশত বছরেরও অধিক সময় ধরে সুলতানি ও মুগল- এ দুটি ধারায় দুর্গ স্থাপত্যের উন্নয়ন ও বিকাশ লাভ করেছে।  


[[Image:FortSonakanda.jpg|thumb|left|সোনাকান্দা দুর্গ, নারায়ণগঞ্জ]]
[[Image:FortSonakanda.jpg|thumb|right|সোনাকান্দা দুর্গ, নারায়ণগঞ্জ]]
 
সংখ্যায় অল্প হলেও সুলতানি আমলের বিদ্যমান ইমারতগুলি এবং ভারতের অন্যান্য স্থানের সমসাময়িককালের রাজকীয় দুর্গের কাঠামোসমূহও বাংলার সুলতানি আমলের দুর্গগুলির প্রকৃতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়। এ সময়ের দুর্গগুলি নিম্নে উল্লিখিত শ্রেণিতে বিভক্ত: (ক) দমদমা দুর্গ (অবরোধ দুর্গ), (খ) রাজধানী দুর্গ এবং (গ) সীমান্ত ফাঁড়ি। মুগল যুগে বাংলায় নির্মিত দুর্গগুলিকেও তিন ভাগে বিন্যস্ত করা যায়– যথা, (ক) সীমান্ত ফাঁড়ি (খ) জলদুর্গ (নদী দুর্গ) ও (গ) প্রাসাদ দুর্গ। নদীর ভাঙ্গণের কারণে মধ্যযুগীয় নগরগুলি যেমন [[সোনারগাঁও|সোনারগাঁও]] ও খলিফতাবাদের দুর্গ প্রাচীরগুলির চিহ্ন যথাযথভাবে শনাক্ত করা যায় না।  
সংখ্যায় অল্প হলেও সুলতানি আমলের বিদ্যমান ইমারতগুলি এবং ভারতের অন্যান্য স্থানের সমসাময়িককালের রাজকীয় দুর্গের কাঠামোসমূহও বাংলার সুলতানি আমলের দুর্গগুলির প্রকৃতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়। এ সময়ের দুর্গগুলি নিম্নে উল্লিখিত শ্রেণিতে বিভক্ত: (ক) দমদমা দুর্গ (অবরোধ দুর্গ), (খ) রাজধানী দুর্গ এবং (গ) সীমান্ত ফাঁড়ি। মুগল যুগে বাংলায় নির্মিত দুর্গগুলিকেও তিন ভাগে বিন্যস্ত করা যায়– যথা, (ক) সীমান্ত ফাঁড়ি (খ) জলদুর্গ (নদী দুর্গ) ও (গ) প্রাসাদ দুর্গ। নদীর ভাঙ্গণের কারণে মধ্যযুগীয় নগরগুলি যেমন [[সোনারগাঁও|সোনারগাঁও]] ও খলিফতাবাদের দুর্গ প্রাচীরগুলির চিহ্ন যথাযথভাবে শনাক্ত করা যায় না।  


২৬ নং লাইন: ২৩ নং লাইন:
প্রধান নগরদুর্গসহ [[গৌড়, নগর|গৌড় নগরী]] টিকে থাকা দুর্গস্থাপত্য কাঠামোর একমাত্র নিদর্শন এবং এ ধরনের দুর্গের সর্বশেষ নমুনা। এর বেশসংখ্যক ইমারত বিলীন হয়ে গেছে। তবুও কিছুসংখ্যক ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় একদা বিখ্যাত রাজধানী নগরীতে এখনও বিদ্যমান আছে। মধ্যযুগের অধিকাংশ নগরকেই দুর্গপ্রাচীর সাহায্যে রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হতো। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নগরের এক কোণায় খুবই সুরক্ষিত নগরদুর্গসমূহ স্থাপন করা হতো। বাইরের দুর্গ প্রাচীর এবং গৌড়ের প্রধান নগরদুর্গ, এমন কি এগুলির ধ্বংসাবশেষ অবস্থায়ও চিহ্নিত করতে অসুবিধা হয় না।  
প্রধান নগরদুর্গসহ [[গৌড়, নগর|গৌড় নগরী]] টিকে থাকা দুর্গস্থাপত্য কাঠামোর একমাত্র নিদর্শন এবং এ ধরনের দুর্গের সর্বশেষ নমুনা। এর বেশসংখ্যক ইমারত বিলীন হয়ে গেছে। তবুও কিছুসংখ্যক ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় একদা বিখ্যাত রাজধানী নগরীতে এখনও বিদ্যমান আছে। মধ্যযুগের অধিকাংশ নগরকেই দুর্গপ্রাচীর সাহায্যে রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হতো। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নগরের এক কোণায় খুবই সুরক্ষিত নগরদুর্গসমূহ স্থাপন করা হতো। বাইরের দুর্গ প্রাচীর এবং গৌড়ের প্রধান নগরদুর্গ, এমন কি এগুলির ধ্বংসাবশেষ অবস্থায়ও চিহ্নিত করতে অসুবিধা হয় না।  


[[Image:FortHajiganj.jpg|thumb|হাজীগঞ্জ দুর্গ, নারায়ণগঞ্জ]]
[[Image:FortHajiganj.jpg|thumb|left|হাজীগঞ্জ দুর্গ, নারায়ণগঞ্জ]]
 
বাংলার মধ্যযুগীয় দুর্গ স্থাপত্যের উৎপত্তি, বিকাশ ও উন্নয়ন ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, মুগল যুগে দুর্গস্থাপত্যশৈলী চরম উৎকর্ষ লাভ করেনি। দুর্গ ইমারতের আদর্শ নমুনা স্বাধীন সুলতানি আমলে নির্মিত হয়েছিল এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল অর্জন দেখা যায় গৌড়ের পূর্ণাঙ্গ নগরদুর্গে।  
বাংলার মধ্যযুগীয় দুর্গ স্থাপত্যের উৎপত্তি, বিকাশ ও উন্নয়ন ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, মুগল যুগে দুর্গস্থাপত্যশৈলী চরম উৎকর্ষ লাভ করেনি। দুর্গ ইমারতের আদর্শ নমুনা স্বাধীন সুলতানি আমলে নির্মিত হয়েছিল এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল অর্জন দেখা যায় গৌড়ের পূর্ণাঙ্গ নগরদুর্গে।  


স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মুগলগণ বাংলায় তাদের ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্য সীমান্ত ফাঁড়ি হিসেবে অনেক দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এগুলির মধ্যে বিদ্যমান দুর্গগুলির কয়েকটি হলো চাটমোহর দুর্গ (পাবনা), সুজাবাদ দুর্গ (বরিশাল), [[বোকাইনগর দুর্গ|বোকাইনগর দুর্গ]], গৌরীপুর দুর্গ, [[এগারসিন্ধুর দুর্গ|এগারসিন্ধুর দুর্গ]], [[জঙ্গলবাড়ি দুর্গ|জঙ্গলবাড়ি দুর্গ]], [[তাজপুর দুর্গ|তাজপুর দুর্গ]] (ময়মনসিংহ) ও অন্দর কিলা (চট্টগ্রাম)।
স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মুগলগণ বাংলায় তাদের ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্য সীমান্ত ফাঁড়ি হিসেবে অনেক দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এগুলির মধ্যে বিদ্যমান দুর্গগুলির কয়েকটি হলো চাটমোহর দুর্গ (পাবনা), সুজাবাদ দুর্গ (বরিশাল), [[বোকাইনগর দুর্গ|বোকাইনগর দুর্গ]], গৌরীপুর দুর্গ, [[এগারসিন্ধুর দুর্গ|এগারসিন্ধুর দুর্গ]], [[জঙ্গলবাড়ি দুর্গ|জঙ্গলবাড়ি দুর্গ]], [[তাজপুর দুর্গ|তাজপুর দুর্গ]] (ময়মনসিংহ) ও অন্দর কিলা (চট্টগ্রাম)।


[[Image:FortIndrakpur.jpg|thumb|left|ইদ্রাকপুর দুর্গ ,মুন্সিগঞ্জ]]
[[Image:FortIndrakpur.jpg|thumb|right|ইদ্রাকপুর দুর্গ ,মুন্সিগঞ্জ]]
 
বাংলার মধ্যযুগীয় দুর্গগুলির তিনটি সঙ্গতিপূর্ণ অংশ হলো দেওয়াল, বুরুজ ও প্রবেশপথসমূহ। সাধারণত, মুগল দুর্গগুলির স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যাবলি পূর্বেকার রীতির অনুসরণে সৃষ্ট। এটা দেখা যায় যে, এদেশের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে অপরিচিত মুগলগণ প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং প্রথম দুর্গসমূহ স্থাপন করেন। মুগলদের নির্মিত নদীদুর্গগুলির মধ্যে [[হাজীগঞ্জ দুর্গ|হাজীগঞ্জ]], [[সোনাকান্দা দুর্গ|সোনাকান্দা]] ও [[ইদ্রাকপুর দুর্গ|ইদ্রাকপুরের]] নদীদুর্গগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  [[পর্তুগিজ, জাতি|পর্তুগিজ]] ও মুগদের আক্রমণ থেকে রাজধানী ঢাকা শহরকে রক্ষা করার জন্য মুগলগণ এ নদীদুর্গগুলি নির্মাণ করেছিলেন। এ দুর্গগুলিতে মুগলদের প্রতিরক্ষামূলক চাহিদা এবং বাংলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যাবলির অপূর্ব মিশ্রণ সংযোগ দেখা যায়।  
বাংলার মধ্যযুগীয় দুর্গগুলির তিনটি সঙ্গতিপূর্ণ অংশ হলো দেওয়াল, বুরুজ ও প্রবেশপথসমূহ। সাধারণত, মুগল দুর্গগুলির স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যাবলি পূর্বেকার রীতির অনুসরণে সৃষ্ট। এটা দেখা যায় যে, এদেশের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে অপরিচিত মুগলগণ প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং প্রথম দুর্গসমূহ স্থাপন করেন। মুগলদের নির্মিত নদীদুর্গগুলির মধ্যে [[হাজীগঞ্জ দুর্গ|হাজীগঞ্জ]], [[সোনাকান্দা দুর্গ|সোনাকান্দা]] ও [[ইদ্রাকপুর দুর্গ|ইদ্রাকপুরের]] নদীদুর্গগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  [[পর্তুগিজ, জাতি|পর্তুগিজ]] ও মুগদের আক্রমণ থেকে রাজধানী ঢাকা শহরকে রক্ষা করার জন্য মুগলগণ এ নদীদুর্গগুলি নির্মাণ করেছিলেন। এ দুর্গগুলিতে মুগলদের প্রতিরক্ষামূলক চাহিদা এবং বাংলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যাবলির অপূর্ব মিশ্রণ সংযোগ দেখা যায়।  



০৫:৪৪, ১৪ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ

দুর্গ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এটি একটি অপরিহার্য কাঠামো যা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকে। প্রথাগতভাবে দুর্গে সৈন্যরা বসবাস করে। সাধারণত দু’ধরনের দুর্গ দেখা যায়- স্থায়ী ও অস্থায়ী। প্রথম উল্লিখিত দুর্গ রীতি অনুযায়ী বেশ শক্তিশালী এবং শান্তির সময়ে আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষাকল্পে নির্মিত হয়ে থাকে। এধরনের দুর্গগুলি শহর, সীমান্ত চৌকি, সমুদ্র কিংবা নদীর উপকূলবর্তী অঞ্চল ও বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিকে রক্ষা করার জন্যই নির্মিত হয়। স্থায়ী দুর্গগুলি দেওয়াল দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এর মধ্যে সৈন্যরা বসবাস করে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুই থাকে। অস্থায়ী দুর্গগুলি যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধের প্রয়োজনে তাড়াহুড়া করে নির্মাণ করা হয়। পরিখা, আত্মরক্ষার্থে খোঁড়া গর্ত, যুদ্ধাস্ত্র-স্থাপনের মঞ্চ, মাইন পাতা স্থান, তাৎক্ষণিকভাবে তৈরি মাটির প্রাচীরাদি প্রভৃতি এবং কাঁটা তারের বেড়া এর অন্তর্ভুক্ত।

কৌটিল্য (অর্থশাস্ত্রে) দুর্গকে ছয়টি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। এগুলি হলো ধন্বদুর্গ (মরুদুর্গ), মাহিদুর্গ (মাটির দুর্গ), জলদুর্গ, গিরিদুর্গ, বনদুর্গ এবং নরদুর্গ। ভারতের শহরগুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়,  যথা- অকৃত্রিম দুর্গ ও কৃত্রিম দুর্গ।

বাংলা ভাষায় দুর্গ বলতে সাধারণত সব ধরনের দুর্গকেই বুঝিয়ে থাকে। এ ছাড়াও দুর্গের কতকগুলি প্রতিশব্দ আছে  যেমন: দুয়ার, কোট, কেল্লা, বুরজ, খিত্তা, দমদমা, চৌকি প্রভৃতি। বাংলা ভূখন্ডের ভূ-অবস্থানের বিশেষত্বের মধ্যে দুর্গ শব্দটি সব ধরনের দুর্গের সাথে সম্পর্কিত। নদীবহুল বাংলায় দুর্গগুলি সাধারণত নদীর সংযোগস্থলে কিংবা নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল। দেশের ভূ-প্রকৃতি ও ভূ-অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দুর্গগুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য খাল, নালা, বড় পুকুর (দিঘি) এবং পরিখা খনন করা হতো। বাংলার মৌসুমি বায়ু এবং এর প্রকৃতির খেয়ালি খেলার সাথে ঋতুগুলির পর্যায়ক্রমিক আবর্তনও দুর্গগুলির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দৃঢ় করেছে। বর্ষা ঋতুতে পানির বিস্তার ও প্রায় নিয়মিত বন্যা বাংলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্ভেদ্য করে তোলে। ফলে ধারণা করতে অসুবিধা হয় না যে, বাংলার নদীগুলি শিরা হিসেবে কাজ করছিল যা বাংলার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্ধারণে অনেকাংশে ভূমিকা পালন করত। নিঃসন্দেহে এ ব্যবস্থা মহাস্থান ও কোটালিপাড়ার বিখ্যাত প্রাচীন দুর্গগুলির প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করেছিল।

কিছু কিছু সাহিত্যিক উপাদানে আমরা বাংলার অনেক মাটির দুর্গের অস্তিত্বের উল্লেখ পাই। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থার কারণে বাংলায় এ ধরনের কাঠামোর আবির্ভাব ঘটেছিল। ঠিক একই কারণে অন্য ধরনের দুর্গ এখানে নির্মিত হয় নি। বাংলার দুর্গগুলির শক্তি প্রধানত এর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে জড়িত এবং তা শুধু এর নিরাপত্তামূলক দেওয়ালগুলির উপর নির্ভরশীল ছিল না। ফলে বাংলায় প্রধানত দুধরনের দুর্গ - মাহিদুর্গ (মাটির-দুর্গ) ও জলদুর্গ বিকাশ লাভ করে।

লালবাগ দুর্গের দক্ষিণের প্রধান ফটক

প্রাচীন বাংলার সমগ্র এলাকায় অসংখ্য দুর্গের চিহ্ন দেখা যায়। পাথরের অভাবে এখানে দুর্গগুলি সাধারণত মাটির তৈরি। প্রাক্-মুসলিম বাংলার প্রায় সকল দুর্গ ছিল মাটির তৈরি এবং কালপরিক্রমায় এগুলি ধ্বংস হয়ে মাটির ঢিবিতে পরিণত হয়েছে। তাই প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার ক্ষেত্রে কাঠামোগত প্রমাণাদির স্বল্পতার কারণে বাংলার ইতিহাস ও তার দুর্গগুলির স্থাপত্যিক শৈলীর ইতিহাস রচনা করা খুবই কষ্টসাধ্য।

মহাস্থানগড়ে খননের ফলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের প্রাচীনতম সুরক্ষিত নগর পুন্ড্রনগর করতোয়া নদী এবং প্রাচীন দুর্গসমূহের অন্যান্য ব্যবস্থাদি, যেমন মাটির দেয়াল দ্বারা স্বাভাবিকভাবে সুরক্ষিত ছিল। মহাস্থানগড়ে বাংলার প্রাচীন নগর দুর্গের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায়। নগরের আয়তাকারের পরিকল্পনা গতানুগতিক এবং তা সারা বাংলায় ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়।

কালের বিবর্তনে উদ্ভূত ব্যবস্থাবলি মুসলিমদের প্রবর্তিত দুর্গ ও দুর্গপ্রাচীরসমূহের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে। মধ্যযুগীয় বাংলার দুর্গ ও দুর্গ প্রাচীরসমূহ বলবৎ আছে এবং অধিকাংশই দুটি প্রধান উৎসের সংশ্লেষণের ফলে গড়ে উঠেছে। এ দুটি উৎস হলো বাংলার প্রাক্-মুসলিম ঐতিহ্য এবং মুসলিমদের দুর্গনির্মাণ রীতি যা তারা বাইরে থেকে নিয়ে এসেছেন। পাঁচশত বছরেরও অধিক সময় ধরে সুলতানি ও মুগল- এ দুটি ধারায় দুর্গ স্থাপত্যের উন্নয়ন ও বিকাশ লাভ করেছে।

সোনাকান্দা দুর্গ, নারায়ণগঞ্জ

সংখ্যায় অল্প হলেও সুলতানি আমলের বিদ্যমান ইমারতগুলি এবং ভারতের অন্যান্য স্থানের সমসাময়িককালের রাজকীয় দুর্গের কাঠামোসমূহও বাংলার সুলতানি আমলের দুর্গগুলির প্রকৃতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়। এ সময়ের দুর্গগুলি নিম্নে উল্লিখিত শ্রেণিতে বিভক্ত: (ক) দমদমা দুর্গ (অবরোধ দুর্গ), (খ) রাজধানী দুর্গ এবং (গ) সীমান্ত ফাঁড়ি। মুগল যুগে বাংলায় নির্মিত দুর্গগুলিকেও তিন ভাগে বিন্যস্ত করা যায়– যথা, (ক) সীমান্ত ফাঁড়ি (খ) জলদুর্গ (নদী দুর্গ) ও (গ) প্রাসাদ দুর্গ। নদীর ভাঙ্গণের কারণে মধ্যযুগীয় নগরগুলি যেমন সোনারগাঁও ও খলিফতাবাদের দুর্গ প্রাচীরগুলির চিহ্ন যথাযথভাবে শনাক্ত করা যায় না।

পান্ডুয়ার রাজধানী নগরীতে প্রাচীর দেওয়ালের কিছু কিছু ধ্বংসাবশেষ টিকে আছে। একডালা দুর্গটি অবরোধ দুর্গ বা দমদমা দুর্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এ ধরনের দুর্গ সুলতানি বাংলায় সচরাচরই দেখা যায়।

প্রধান নগরদুর্গসহ গৌড় নগরী টিকে থাকা দুর্গস্থাপত্য কাঠামোর একমাত্র নিদর্শন এবং এ ধরনের দুর্গের সর্বশেষ নমুনা। এর বেশসংখ্যক ইমারত বিলীন হয়ে গেছে। তবুও কিছুসংখ্যক ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় একদা বিখ্যাত রাজধানী নগরীতে এখনও বিদ্যমান আছে। মধ্যযুগের অধিকাংশ নগরকেই দুর্গপ্রাচীর সাহায্যে রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হতো। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরপত্তামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নগরের এক কোণায় খুবই সুরক্ষিত নগরদুর্গসমূহ স্থাপন করা হতো। বাইরের দুর্গ প্রাচীর এবং গৌড়ের প্রধান নগরদুর্গ, এমন কি এগুলির ধ্বংসাবশেষ অবস্থায়ও চিহ্নিত করতে অসুবিধা হয় না।

হাজীগঞ্জ দুর্গ, নারায়ণগঞ্জ

বাংলার মধ্যযুগীয় দুর্গ স্থাপত্যের উৎপত্তি, বিকাশ ও উন্নয়ন ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে, মুগল যুগে দুর্গস্থাপত্যশৈলী চরম উৎকর্ষ লাভ করেনি। দুর্গ ইমারতের আদর্শ নমুনা স্বাধীন সুলতানি আমলে নির্মিত হয়েছিল এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল অর্জন দেখা যায় গৌড়ের পূর্ণাঙ্গ নগরদুর্গে।

স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মুগলগণ বাংলায় তাদের ক্ষমতাকে সুসংহত করার জন্য সীমান্ত ফাঁড়ি হিসেবে অনেক দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এগুলির মধ্যে বিদ্যমান দুর্গগুলির কয়েকটি হলো চাটমোহর দুর্গ (পাবনা), সুজাবাদ দুর্গ (বরিশাল), বোকাইনগর দুর্গ, গৌরীপুর দুর্গ, এগারসিন্ধুর দুর্গ, জঙ্গলবাড়ি দুর্গ, তাজপুর দুর্গ (ময়মনসিংহ) ও অন্দর কিলা (চট্টগ্রাম)।

ইদ্রাকপুর দুর্গ ,মুন্সিগঞ্জ

বাংলার মধ্যযুগীয় দুর্গগুলির তিনটি সঙ্গতিপূর্ণ অংশ হলো দেওয়াল, বুরুজ ও প্রবেশপথসমূহ। সাধারণত, মুগল দুর্গগুলির স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্যাবলি পূর্বেকার রীতির অনুসরণে সৃষ্ট। এটা দেখা যায় যে, এদেশের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে অপরিচিত মুগলগণ প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং প্রথম দুর্গসমূহ স্থাপন করেন। মুগলদের নির্মিত নদীদুর্গগুলির মধ্যে হাজীগঞ্জ, সোনাকান্দাইদ্রাকপুরের নদীদুর্গগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  পর্তুগিজ ও মুগদের আক্রমণ থেকে রাজধানী ঢাকা শহরকে রক্ষা করার জন্য মুগলগণ এ নদীদুর্গগুলি নির্মাণ করেছিলেন। এ দুর্গগুলিতে মুগলদের প্রতিরক্ষামূলক চাহিদা এবং বাংলার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যাবলির অপূর্ব মিশ্রণ সংযোগ দেখা যায়।

মুগলগণ প্রাসাদদুর্গও নির্মাণ করেন। কিন্তু এগুলির কোনোটিই উত্তর ভারতের প্রাসাদদুর্গের মতো মানসম্পন্ন ছিল না। জিনজিরা (কেরানিগঞ্জ) ও লালবাগএর (ঢাকা) প্রাসাদদুর্গ দুটি মুগলদের রাজধানী শহরগুলিতে নির্মিত প্রাসাদ দুর্গের অতি নগণ্য নমুনা মাত্র।

বাংলায় ইংরেজদের আগমনের প্রাথমিক পর্যায়ে সুরক্ষিত স্থানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা হয় এবং একারণেই ফোর্ট উইলিয়ম নির্মাণ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ইংরেজদের জন্য সুরক্ষিত স্থান হলেও, কালক্রমে তা তাদের প্রশাসনিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। কিন্তু কালপরিক্রমায় আবার তা অকেজো হয়ে যায়।  [আয়শা বেগম]