রায়, সতীশচন্দ্র১

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৬:৫৬, ৪ জুন ২০২৬ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ ("'''রায়, সতীশচন্দ্র১''' (১৮৬৬-১৯৩১) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক। ১৮৬৬ সালের ১৭ অক্টোবর পাবনা জেলার শাহাজাদপুরে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবে..." দিয়ে পাতা তৈরি)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

রায়, সতীশচন্দ্র১ (১৮৬৬-১৯৩১) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক। ১৮৬৬ সালের ১৭ অক্টোবর পাবনা জেলার শাহাজাদপুরে এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা, ঢাকা কলেজ থেকে এফ.এ, কলকাতা জেনারেল অ্যাসেম্‌ব্লিজ থেকে বি.এ এবং সংস্কৃত কলেজ থেকে এম.এ পাস করেন।

ঢাকার জগন্নাথ কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে সতীশচন্দ্রের কর্মজীবন শুরু হয়। পরে অধ্যাপনা ত্যাগ করে তিনি সাহিত্যসাধনা ও গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও প্রত্নতত্ত্বে তাঁর বিশেষ ব্যুৎপত্তি ছিল; হিন্দি ভাষা ও সাহিত্যেও তিনি পারদর্শী ছিলেন।

সতীশচন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনেক প্রাচীন পুথি সংগ্রহ করেছিলেন, যেগুলি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। এসব পুথি নিয়ে তিনি গবেষণাও করেছেন। তিনি ভবানন্দের হরিবংশ নামে একটি প্রাচীন বাংলা কাব্য সম্পাদনা করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তাঁর সম্পাদিত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো: গোপালচরিতম্, নায়িকারত্নমালা, পদকল্পতরু ইত্যাদি।

সতীশচন্দ্র বেশ কয়েকটি সংস্কৃত গ্রন্থের বাংলা পদ্যানুবাদ করেন। সেগুলির মধ্যে কালিদাসের মেঘদূত, জয়দেবের গীতগোবিন্দম্ এবং কালুদেবের রসমঞ্জরী উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা মোট দশ এবং গবেষণা-প্রবন্ধ চল্লিশ। প্রবন্ধগুলির মধ্যে ছয়-সাতটি হিন্দি ভাষায় রচিত।

সতীশচন্দ্র বঙ্গীয় সাতিহ্য পরিষদের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি সঙ্গীতশাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন এবং মৃদঙ্গ ও <তবলা> বাদক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। ১৯৩১ সালের ২৯ মে নারায়ণগঞ্জ জেলার ধামগড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। [সত্যনারায়ণ চত্রবর্তী]