হাবিবুল্লাহ, এ.বি.এম


হাবিবুল্লাহ, এ.বি.এম (১৯১১-১৯৮৪)  ঐতিহাসিক ও লেখক। তিনি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আবদুল লতিফ বর্ধমান বিভাগের স্কুল পরিদর্শক ছিলেন এবং তাঁর পিতামহ আরবি ও ফারসি ভাষার শিক্ষক ছিলেন। হাবিবুল্লাহ হুগলি মাদ্রাসা থেকে হাই মাদ্রাসা পরীক্ষা (১৯২৬), ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আই.এ (১৯২৮), হুগলি কলেজ থেকে ইতিহাসে স্মাতক সম্মান (১৯৩১) এবং  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম.এ (১৯৩৩) পাস করেন। তিনি লিটন বৃত্তি নিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। পাঠাগার বিজ্ঞানে তাঁর ডিপ্লোমা ছিল।

এ.বি.এম হাবিবুল্লাহ

১৯৩৮ সালে এ.বি.এম হাবিবুল্লাহ কলকাতা  আলিয়া মাদ্রাসার লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরের বছরই তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবসৃষ্ট ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে যোগ দেন। প্রফেসর হাবিবুল­াহ ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হন এবং ১৯৭৩ সালে তাঁর অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিনি কলা অনুষদের ডীন (১৯৬১-৬৩), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি (১৯৬৮-৭২), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান (১৯৭৬-৭৭) এবং ঢাকা  জাদুঘরের কিউরেটার ছিলেন। তিনি পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটির (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন।

এ.বি.এম হাবিবুল্লাহ মধ্যযুগের ভারতের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর রচিত Foundation of Muslim Rule in India এখন পর্যন্ত উপমহাদেশের প্রাথমিক মধ্যযুগের ইতিহাসের একটি নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থাবলির মধ্যে The Descriptive Catalogue of the Persian, Urdu and Arabic Manuscripts in the Dhaka University Library (2 vols), Bilayet Nama, Tarikh-i-Assam এবং আল বিরুনীর ‘তাহকিক্-ই-হিন্দ’ গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ উল্লেখযোগ্য। [রতনলাল চক্রবর্তী]