সুহ্রাওয়ার্দিয়া তরিকা


সুহ্রাওয়ার্দিয়া তরিকা  একটি আধ্যাত্মিক মতবাদ। দ্বাদশ শতকের মাঝামাঝি ইরানের শেখ নাজীবউদ্দীন আবদুল কাদির (মৃ. ১১৬৯ খ্রি) এই মতবাদ প্রচার করেন। তাঁর জন্ম ইরানের জীবাল প্রদেশের সুহ্রাওয়ার্দ নগরে। এ কারণেই এ তরিকার নাম হয়েছে সুহ্রাওয়ার্দিয়া।

আবদুল কাদিরের  মৃত্যুর পর তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র শাহাবউদ্দীন আবু হাফ্স উমর ইবন আবদুল­াহ এ তরিকার বিশেষ উৎকর্ষ সাধন করেন। এজন্য তাঁকেই সুহ্রাওয়ার্দিয়া তরিকার প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয়। ইরানের শাসকগণ তাঁর প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন; ফারসি কবি শেখ সাদীও তাঁর শিষ্য ছিলেন।

আবদুল্লাহ তাসাওউফ বিষয়ে আওয়ারিফ-উল্লমা’আরিফ গ্রন্থ রচনা করেন। তাতে সুফিদের খানকাহ, খানকাহ্র জীবনযাপন পদ্ধতি এবং প্রচলিত নিয়ম-কানুন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থখানি ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করে। ভারতে এ তরিকার আদি পুরুষ ছিলেন শেখ বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মুলতানী (১১৬৯-১২৬৬)। সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশ তাঁকে ‘শায়খ-উল-ইসলাম’ উপাধিতে ভূষিত করেন। শেখ শাহাবউদ্দীন সু্হ্রাওয়ার্দির শিষ্য ও শেখ বাহাউদ্দীন যাকারিয়ার বন্ধু শেখ জালালুদ্দীন তাবরিজি (র.) লক্ষ্মণসেনের সময় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং প্রথম সুহ্রাওয়ার্দিয়া মতবাদ প্রচার করেন। এখানে তাঁর শিষ্যগণ ‘জালালিয়া’ নামে পরিচিত।

সিলেটের হযরত শাহ জালাল (র.) সুহ্রাওয়ার্দিয়া মতবাদের অনুসারী ছিলেন। সুহ্রাওয়ার্দিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে সামা একটি প্রচলিত বিষয়। তারা এর মাধ্যমে হূদয়কে উজ্জীবিত করে ও আধ্যাত্মিকভাবে বিভোর হয়। এরূপ ভাবোন্মত্ত অবস্থায় কখনো কখনো তারা নৃত্যও করে থাকে।  [মুহাম্মদ রুহুল আমীন]