সুলতান


সুলতান  বাগদাদের আববাসীয় খিলাফতের পতনের পর সৃষ্ট স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের শাসকদের গৃহীত উপাধি। রসুলুল্লাহ (সঃ)-এর ইন্তেকালের পর  খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়। সত্যিকার অর্থে এটা ছিল মুসলিম প্রজাতন্ত্র। ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কের উমাইয়া খিলাফতের পতনের পর খিলাফত দুই বা ততোধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে খিলাফত আরও বহু ভাগে বিভক্ত হয়, অবশ্য বাগদাদের খিলাফত ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বাগদাদে আববাসীয় খিলাফতের দুর্বলতার সুযোগে দূরবর্তী অঞ্চলসমূহে বহু স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়, উদাহরণস্বরূপ গজনী ও ঘোর রাজবংশের উল্লেখ করা যায়। এ সকল রাষ্ট্রের শাসনকর্তাগণ ‘সুলতান’ উপাধি গ্রহণ করেন। তাঁরা বাগদাদের খলিফার সম্মতি নিয়ে এবং কখনও কখনও সম্মতি ছাড়াই ক্ষমতা উপভোগ করতেন। ভারত উপমহাদেশে সকল প্রাক-মুগল শাসকরাই সুলতান উপাধি নিতেন।

ইসলামি আইনবিশারদদের লেখায় সুলতানদের ক্ষমতার আইনানুগ অনুমোদন ছিল। তাঁরা অভিমত দেন যে খলিফা যা নিষেধ করেন নি তাই আইনসম্মত। অতএব মুসলিম আইনবেত্তাদের দৃষ্টিতে দিল্লিতে বা বাংলাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত সালতানাতগুলি আইনসিদ্ধ ছিল। একজন সার্বভৌম নৃপতি হিসেবে যদিও সুলতান স্বীয় ইচ্ছামত রাজ্য শাসনের ক্ষমতা রাখতেন, তবুও তাঁর ক্ষমতা মুসলিম শরিয়া আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো।  [আবদুল করিম]

গ্রন্থপঞ্জি  IH Quraishi, Administration of the Sultanate of Delhi, 5th revised edition, 1971.