খিলাফত


খিলাফত  হযরত মোহাম্মদ (সঃ)-এর মৃত্যুর পর ইসলামি রাষ্ট্রে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। খলিফা ছিলেন মুসলমানদের শাসক ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। তিনি ছিলেন ইসলামি ভূ-খন্ডের রক্ষক, প্রধান বিচারপতি এবং রাষ্ট্রের সংগঠক ও প্রশাসক। মুসলিম উম্মাহর প্রধান হিসেবে তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সঃ)-এর নির্বাচিত উত্তরসূরি। তিনি বিশ্বাসীদের নেতা (আমীর-উল-মুমিনীন) ছিলেন। পবিত্র আইন (কুরআন ও সুন্নাহ- যা তিনি রদ করতে পারতেন না) তাঁর ক্ষমতাকে সীমিত করেছিল, তবে তিনি ছিলেন কুরআন ও সুন্নাহর ব্যাখ্যাকারী এবং তা কার্যকর করা ছিল তাঁর কর্তব্য।

খিলাফতের স্থায়িত্ব ছিলো ৩০ বছর। এরপর শাসনভার উমাইয়াদের হাতে চলে যায়। উমাইয়াদের পতনের পর দ’ুটি প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর একটি প্রতিষ্ঠা করেন আববাসীয়রা বাগদাদে, অপরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উমাইয়াদের দ্বারা স্পেনে। পরবর্তীকালে মিশরে একটি ফাতেমি খিলাফতও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রাচ্যের ইসলামি ভূ-খন্ডে সুন্নী মুসলমানরা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সেখানে আববাসীয় খলিফাকে আইনসম্মত সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষরূপে বিবেচনা করা হতো। খলিফার স্বীকৃতি লাভ না করা পর্যন্ত কোনো মুসলমান রাজ্য বিধিসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে বিবেচিত হতো না। কাজেই দিল্লি ও বাংলার সুলতানগণ আববাসীয় খলিফার স্বীকৃতি লাভের চেষ্টা করেছিলেন। সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুৎমিশমুহম্মদ বিন তুগলক এবং  ফিরুজ শাহ তুগলক সুলতান পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার সনদপত্র লাভ করেছিলেন। শেষোক্ত দুজন এটা পেয়েছিলেন মিশরের ফাতেমি খলিফাদের কাছ থেকে। বাংলার কোনো সুলতান খলিফার স্বীকৃতি লাভ করেছিলেন কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না, তবে তাঁদের কেউ কেউ স্ব স্ব মুদ্রায় আববাসীয় খলিফাদের নাম উৎকীর্ণ করেছিলেন। কেউ কেউ নামোল্লেখ না করে খলিফার আনুগত্য, স্বীকারমূলক আখ্যা তাঁদের মুদ্রায় উৎকীর্ণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে সিকান্দর শাহ (১৩৫৮-১৩৯০) থেকে শুরু করে বাংলার কয়েকজন সুলতান নিজেরাই খলিফা উপাধি ধারণ করেছিলেন, অর্থাৎ তাঁরা বাংলায় একটি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  [আবদুল করিম]

গ্রন্থপঞ্জি  TW Arnold, The Caliphate, OUP, Pakistan Branch, 1966; IH Quraishi, Administration of the Sultanate of Delhi, 5th revised edition, 1971; A Karim, Social History of the Muslims in Bengal, 2nd edition, Chittagong, 1985.