সরস্বতী


দেবী সরস্বতী

সরস্বতী  রাজহংসবাহনা বিদ্যাদেবী। হিন্দুশাস্ত্রে তিনি সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার স্ত্রী বলে কথিত। তাঁর বর্ণ বরফের মতো সাদা, পরনে সাদা শাড়ি, গলায় সাদা পুঁতির মালা এবং হাতে থাকে কচ্ছপি নামের একটি বীণা। দেবতা  শিব ও  বিষ্ণু পর্যন্ত তাঁকে শ্রদ্ধা করেন। সরস্বতীর বর্ণনায় সাদা বর্ণের প্রাধান্য দেখা যায়, যা তাঁর শুদ্ধতার প্রতীক এবং স্বভাবে সাত্ত্বিক গুণের পরিচায়ক। হিন্দু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালাভের আশায় সরস্বতীর অর্চনা করে।

ঋগ্বেদের দুটি মন্ত্রে সরস্বতীর উলে­খ আছে। প্রাচীন ভারতে সরস্বতী নামে একটি নদী ছিল বলে জানা যায়, তবে এই নদী কোন পথে প্রবাহিত হতো তার সন্ধান পাওয়া যায়নি; তাই একে সাধারণত গুপ্তগামিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পবিত্র ভূমি প্রয়াগে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর মিলনস্থল সঙ্গম নামে পরিচিত। ধর্মীয় দিক থেকে এই সঙ্গমস্থান হিন্দুদের নিকট খুবই পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। তাদের  বিশ্বাস, জীবনে অন্তত একবার প্রয়াগ দর্শন করা উচিত। এভাবে সরস্বতী দেবী ও নদী হিসেবে দ্বৈত ভূমিকায় অবতীর্ণ। তাঁর নানা নাম বীণাপাণি, ভারতী ইত্যাদি। তিনি ভক্তদের ভেতর থেকে অজ্ঞানতা দূর করে তাদের জ্ঞান দান করেন। তাঁর আশীর্বাদ পেলে মূর্খও জ্ঞানী হতে পারে ভক্তদের মধ্যে এরূপ বিশ্বাস  প্রচলিত। মহাকবি কালিদাসকে বলা হয় সরস্বতীর বরপুত্র।

বাংলাদেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলিতে হিন্দু ছাত্রছাত্রী মাঘ মাসের শ্রীপঞ্চমীতে (শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে) শ্রদ্ধাভক্তির সাথে সরস্বতী পূজা করে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্ররা বহুকাল আগ থেকে সরস্বতী পূজা করে আসছে। অধিকাংশ হিন্দু পরিবার পারিবারিকভাবেও সরস্বতীপূজা করে থাকে। পূজার সময় পবিত্র গ্রন্থ, পাঠ্যপুস্তক এবং ছাত্রদের কলম-পেন্সিল দেবীর আশীর্বাদ লাভের আশায় পূজাবেদীর উপর রাখা হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।  [এস রঙ্গনাথ]