বিষ্ণু


বিষ্ণু

বিষ্ণু হিন্দু দেবতা। তিনি সমগ্র সৃষ্টির রক্ষাকারী ও পালনকর্তারূপে শাস্ত্রে বর্ণিত। ঋগ্বেদ ও পুরাণে তাঁর নানাবিধ মহিমাকীর্তন আছে। কথিত হয় যে, সৃষ্টি রক্ষাকল্পে বিষ্ণু দশবার দশরূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন, যাকে বলা হয় দশাবতার। বামনাবতাররূপে বলিবিনাশ, বরাহাবতাররূপে নিমজ্জমানা পৃথিবীর উত্তোলন, নৃসিংহরূপে হিরণ্যকশিপুবধ, দাশরথি রামরূপে রাবণবধ প্রভৃতি তাঁর অবতার-কেন্দ্রিক কাহিনী। বুদ্ধরূপে তিনি অমর হয়ে আছেন। দশম  কল্কি এখনও আবির্ভূত হননি।

ভগবদ্গীতায় (৪। ৭-৮) বলা হয়েছে যে, অধর্মের বিনাশ ও ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দুর্বৃত্তের দমন ও সাধু ব্যক্তিদের পরিত্রাণের জন্য বিষ্ণু বিভিন্ন রূপে যুগে যুগে অবতীর্ণ হন। সত্ত্বগুণময় বিষ্ণুর পত্নী লক্ষ্মী, বাহন গরুড়, অস্ত্র সুদর্শনচক্র, ধনু শার্ঙ্গ, নিবাস বৈকুণ্ঠ, অসি নন্দক, গদা কৌমোদকী, শঙ্খ পাঞ্চজন্য এবং শয্যা অনন্তনাগ। অনন্তশয্যায় শয়ান বিষ্ণুর নাভিপদ্ম থেকে প্রজাপতি ব্রহ্মার জন্ম। চতুর্ভুজ বিষ্ণু শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী। উপেন্দ্র, কেশব, ত্রিবিক্রম, পুন্ডরীকাক্ষ, মুরারি প্রভৃতি নামে তিনি পরিচিত।

বিষ্ণুর উপাসকরা বৈষ্ণব নামে খ্যাত এবং তাঁকে কেন্দ্র করে যে ধর্ম-দর্শনের উৎপত্তি তা বৈষ্ণবধর্ম নামে পরিচিত। শ্রীচৈতন্য বঙ্গদেশে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের প্রবর্তন করেন। সাহিত্য, চিত্রকলা, ভাস্কর্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিষ্ণু সুবিদিত। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন মন্দির ও জাদুঘরে বিষ্ণুর অনেক মূর্তি আছে।

ভারতের বিহারে অবস্থিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান গয়ায় বিষ্ণুপাদপদ্মে পিতৃপুরুষকে পিন্ডদান করা হিন্দুদের জন্য অতীব পুণ্যকর্ম বলে বিবেচিত হয়।   [সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]