রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  রাজশাহী শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার পূর্বদিকে অবস্থিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উত্তর বাংলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ১৯১৭ সালে গঠিত Calcutta University Commission (যা স্যাডলার কমিশন নামেও পরিচিত) রাজশাহী শহরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। কিন্তু স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ তখন বাস্তবায়িত হয়নি, তবে বাংলা সরকারের নির্দেশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তার অধিভুক্ত রাজশাহী কলেজে বেশ কয়েকটি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করার অনুমতি দেয়। ১৯৫২ সালে পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হবীবুল্লাহ বাহারকে রাজশাহী কলেজের ছাত্র সংসদ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঐ অনুষ্ঠানের পর রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবশ্যকতা বিবেচনা করে নূরুল আমিন সরকার ১৯৫২ সালের নভেম্বর মাসে পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বিল উত্থাপন করেন। ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ বিলটি The Rajshahi University Act, 1953 (The East Bengal Act XV of 1953) নামে ব্যবস্থাপক পরিষদে পাস করা হয়। ৬ জুন গভর্নর এই বিলে সম্মতি দেন। ১৬ জুন ১৯৫৩ তারিখে অ্যাক্টটি ঢাকা গেজেট এক্সট্রা অর্ডিনারিতে প্রকাশিত হয়। ৬ জুলাই রাজশাহী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডক্টর ইতরাৎ হোসেন জুবেরীকে প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য নিযুক্ত করা হয়। ঐদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ডক্টর জুবেরী এবং মাদার বখ্শ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনার খসড়া প্রণয়ন করেন।

প্রশাসনিক ভবন

বর্তমান রাজশাহী ও খুলনা বিভাগীয় অঞ্চলের ইন্টারমিডিয়েট ও ডিগ্রি কলেজসমূহ এবং বৃত্তিমূলক ও কারিগরি কলেজগুলির affiliation দেওয়া এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাই ছিল অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য। পূর্ববাংলার গভর্নর ছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে ১৯৭৩ সালে প্রণীত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৭৩ সালের অ্যাক্ট অনুযায়ী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি। অ্যাক্টের আওতায় গঠিত সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, ফাইন্যান্স কমিটি এবং অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ কমিটি দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালিত হয়। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে আছেন উপাচার্য। ১৯৭৩ সালের অ্যাক্ট অনুযায়ী চ্যান্সেলর, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং স্ট্যাটিউট বর্ণিত অন্যান্য পদের অধিকারীরা হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম অফিস হিসেবে স্থানীয় সার্কিট হাউসের দুটি ছোট কক্ষ ব্যবহার করা হয়। এরপর পদ্মা তীরের ‘বড়কুঠি’ নামে পরিচিত ঐতিহাসিক রেশম কুঠির নিচতলা উপাচার্যের দপ্তর এবং দোতলা তাঁর বাসভবন হিসেবে ব্যবহূত হয়। বড়কুঠি পাড়ার ‘মাতৃধাম’ নামক ভবনে কলেজ পরিদর্শকের অফিস ও বাসস্থান এবং ঘোড়ামারা ডাকঘরের নিকটবর্তী কুঞ্জমোহন মৈত্রের জমিদার বাড়ির একাংশে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর স্থাপিত হয়। শহরস্থ বি.বি হিন্দু একাডেমীতে স্থাপিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, শিক্ষক লাউঞ্জ এবং চিকিৎসা কেন্দ্র।

সাবাস বাংলাদেশ

১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম সেশনে দর্শন, ইতিহাস, বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স চালু হয়। পরবর্তী তিন শিক্ষাবর্ষে ভূগোল, মনোবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং বাণিজ্য বিভাগ চালু হয়। নবপ্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লাস গ্রহণের ব্যবস্থা হয় রাজশাহী কলেজে সকাল শিফটে (৭.৩০-৯.৩০ মি)। মনোবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছিল সার্কিট হাউসের নিকটবর্তী একটি ভবনে যা বর্তমানে রিভার ভিউ স্কুল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে রাজশাহী কলেজের বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তাঁরা নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ফ্যাকাল্টি গঠনে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। তখন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠে ছাত্রাবাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করার লক্ষ্যে বর্তমান ক্যাম্পাস মতিহার এলাকায় (যা মতিহার সবুজ চত্বর নামে পরিচিত) ২৯৮.২০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জন এ জোমানেক নামক একজন বিদেশি আর্কিটেক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেন। ১৯৫৮ থেকে নতুন ক্যাম্পাসে দালান-কোঠা, রাস্তাঘাট নির্মাণ শুরু হয়। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অফিস ও বিভাগ বর্তমান ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে দুটি প্রশাসনিক ভবন, সিনেট ভবন, ৮টি একাডেমিক ভবন, ১৫টি আবাসিক হল (১১টি ছাত্রদের এবং ৪টি ছাত্রীদের জন্য), উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের বাসভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবন, আইবিএস-এর প্রশাসনিক ভবন ও ডরমিটরি, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় মিলনায়তন, শিক্ষক-ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রাকসু ভবন, মেডিক্যাল সেন্টার, বিশ্ববিদ্যালয় ছাপাখানা, জুবেরী ভবন (এখানে গেস্ট হাউস ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব অবস্থিত), ক্যাফেটরিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ ভবন, চারুকলা বিভাগ, রেল স্টেশন, শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘সাবাস বাংলাদেশ’, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, বড়কুঠি ভবন ইত্যাদি।

শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল পোস্ট গ্রাজুয়েট কোর্স চালু ছিল। ১৯৬২ থেকে অনার্স কোর্স চালু হয়। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন ফ্যাকাল্টি ও বিভাগ খোলা হতে থাকে। ফলে ছাত্র-শিক্ষক সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। ১৯৫৩-৫৪ সেশনে ২টি অনুষদে (কলা ও আইন) ৭টি বিভাগ খোলা হয়েছিল। ২০১০-১১ সেশনে অনুষদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ এবং বিভাগের সংখ্যা ৪৭। বিভাগগুলিতে কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শাস্ত্রের নানা বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়ার পূর্বপর্যন্ত রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সকল ডিগ্রি কলেজ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, শারীরিক শিক্ষা কলেজ প্রভৃতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। বর্তমানে মেডিক্যাল কলেজগুলি ছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোন অধিভুক্ত কলেজ নেই।

১৯৫৪-৫৫ সেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ছাত্র সংখ্যা ছিল ১৫৬ এবং ছাত্রী সংখ্যা ৫। এ সময় অনার্সের সকল বর্ষ এবং মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর মোট সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার, শিক্ষক সংখ্যা ৮০৪, কর্মকর্তা ৪৭২, সহায়ক কর্মচারী ৪৪৪, সাধারণ কর্মচারী ১,১৩৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রদত্ত ডিগ্রি সমূহের নাম হচ্ছে: অনার্স পর্যায়ে বি.এ, বি.এফ.এ, বি.এসসি, বি.ফার্ম, বি.এস.এস, বি.বি.এ, এল.এল.বি, এম.বি.বি.এস; মাস্টার্স পর্যায়ে এম.এ, এম.এফ.এ, এম.এসসি, এম.ফার্ম, এম.এস.এস, এম.বি.এ, এল.এল.এম; উচ্চতর গবেষণা পর্যায়ে এম.ফিল ও পিএইচ.ডি; সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা পর্যায়ে সার্টিফিকেট ইন ল্যাংঙ্গুয়েজেস (ফরাসি, জার্মান, ফারসি, হিন্দি, সংস্কৃত), ডিপ্লোমা-ইন-লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স, ডিপ্লোমা-ইন-জেনারেল সেরিকালচার।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা পর্যায়ে ৫টি ইনস্টিটিউট আছে: ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস, ১৯৭৪), ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস (আইবিএসসি, ১৯৮৯), ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (২০০০), ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (২০০০), ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (২০০০)। আইবিএস এবং আইবিএসসিতে এম.ফিল ও পিএইচ.ডি কোর্সে গবেষণা হয়। ইতোমধ্যে আইবিএস থেকে ৫৯ জন এম.ফিল এবং ৭০ জন পিএইচ.ডি ডিগ্রি এবং আইবিএসসি থেকে ১৭ জন এম.ফিল ও ২৯ জন পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ইনস্টিটিউট দুটি ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে এম.ফিল ও পিএইচ.ডি ডিগ্রির জন্য গবেষণার সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিভাগ থেকে ৯২ জন এমফিল ও ১৯০ জন পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবন ১৯৬৪ সালে নির্মিত হয়। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রন্থাগার। এখানে প্রায় আড়াই লক্ষ বই এবং প্রায় ২,০০০ টাইটেল-এর সাময়িকী আছে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ছাড়াও প্রতিটি বিভাগ, আবাসিক হল এবং ইনস্টিটিউটে লাইব্রেরি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কাজে সুবিধাদানের জন্য ১৯৮৫ সালে কম্পিউটার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে কম্পিউটার কেন্দ্র ই-মেইল ও অন-লাইন ইন্টারনেট সুবিধা দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস শহর থেকে ৫ কিমি দূরে হওয়ায় এবং অনেক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করায় তাদের পরিবহণ সুবিধার্থে ১৯৬৭ সালে পরিবহণ ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ দপ্তরের ২৯টি বাস পরিবহণ কাজে নিয়োজিত আছে।

খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই সক্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা বিভাগে ২৭ জন শিক্ষক আছেন। শরীরচর্চা বিভাগের অধীনে ২৫,০০০ আসনবিশিষ্ট ১টি স্টেডিয়াম, ২টি জিমনেসিয়াম (১টি পুরুষ ও ১টি মহিলাদের জন্য), ১টি সুইমিংপুল, ৪টি ফুটবল খেলার মাঠ, ১টি হকি মাঠ, ৪টি লন টেনিস হার্ডকোর্ট, ২টি বাস্কেটবল হার্ডকোর্ট, ১টি স্কোয়াশ কোর্ট আছে।

নবীনবরণ, বসন্তবরণ, বর্ষবরণ, বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান প্রভৃতি উপলক্ষে সঙ্গীত, নাটক, গীতিনকশা পরিবেশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীদের অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন আছে, যেগুলির বেশ কয়েকটি জাতীয়ভাবে সুপরিচিত। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে সংস্কৃতি কর্মীদের সহযোগিতা দানের জন্য ১৯৯১-৯২ বর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ২,৫০০ আসনবিশিষ্ট নজরুল ইসলাম মিলনায়তন নামে একটি বড় মিলনায়তন আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ অংশগ্রহণ করে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর শামসুজ্জোহা প্রক্টর হিসেবে শান্তিরক্ষার দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হলে আইয়ুব খানের পতন ত্বরান্বিত হয়। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক (গণিত বিভাগের হবিবুর রহমান, মনোবিজ্ঞান বিভাগের মীর আব্দুল কাইয়ুম এবং ভাষা বিভাগের সুখরঞ্জন সমাদ্দার) এবং ৫ জন সহায়ক কর্মচারী, ১০ জন সাধারণ কর্মচারী ও ৯ জন ছাত্র শহীদ হন। সে সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডক্টর শামসুজ্জোহা হলটি ছিল পাকিস্তান বাহিনীর বড় ঘাঁটি ও বন্দিশিবির এবং হলের পূর্বদিকের মাঠটি ছিল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বধ্যভূমি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে এসেছে। এখানে শিক্ষকতা করেছেন ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, ইতিহাসবিদ ডক্টর এ.আর মল্রিক। আইবিএস-এর ফেলো হিসেবে প্রখ্যাত তিহাসিক ডক্টর আব্দুল করিম এখানে বসেই রচনা করেছেন দুই খন্ড বাংলার ইতিহাস। ১৯৭৩ সালে বিশিষ্ট ফরাসি দার্শনিক ও মানবতাবাদী আন্দ্রে মালরোকে সম্মানসূচক ডি-লিট প্রদান করা হয়।  [মো. মাহবুবর রহমান]