বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ


বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ  ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার (National Agricultural Research System/NARS) শীর্ষ প্রতিষ্ঠান, ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ৩২-এর ভিত্তিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে দেশে ১০টি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে NARS কাজ করছে। সেগুলির মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৬টি যেমন: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত। বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে।

উপরিউক্ত চারটি সরকারি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য অধিকতর স্বাধীনতা প্রদান করতে ১৯৭৬ ও ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের সনদ সংশোধন করা হয়। শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ NARS-এর মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন করে এবং পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ গবেষণা বিষয়ের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং চলমান গবেষণা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও কার্যক্রমের ফলাবর্তন (feedback) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে NARS-কে পরিচালনা করে।

জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার IDA-র সহায়তায় গ্রহণ করে কৃষি গবেষণা ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (Agricultural Research Management Project/ARMP), যা সম্পদ বরাদ্দ, গবেষণা ব্যবস্থাপনা, কার্যক্রম পরিচালনায় স্বায়ত্তশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা সম্পর্কিত বিষয়গুলি তুলে ধরে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর আলোকপাত করে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ ও অধিকাংশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (Agricultural Research Institutes/ARIs) সর্বাধিক কার্যকর স্বায়ত্তশাসন প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালের মে ও আগস্টের মাঝামাঝি নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট ও মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এর জন্য কোন নতুন অধ্যাদেশ বা আইন জারি করা হয় নি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের কার্যক্রমে নতুন আইনগুলির আলোকে এর দায়দায়িত্ব বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং লক্ষ্যসমূহ করা হয়েছে আরও প্রশস্ত। এর প্রধান প্রধান লক্ষ্যসমূহ হচ্ছে জাতীয় কৃষিনীতির নির্দেশনা অনুযায়ী গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারসমূহ চিহ্নিত করা, ARIs-এর গবেষণা কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা প্রদান এবং গবেষণা কার্যক্রমের বাজেট প্রস্তাবসমূহে সুপারিশ করা; চুক্তিভিত্তিক গবেষণা প্রস্তাবসমূহের বাজেট যাচাই, মূল্যায়ন ও অনুমোদন করা; NARS প্রতিষ্ঠানসমূহে গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করা; গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র, পরীক্ষণ স্টেশন, গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্র, জাদুঘর, হার্বেরিয়াম (শুষ্ক উদ্ভিদের সংগ্রহশালা), উদ্ভিদ প্রবর্তন কেন্দ্র ও জার্মপ্লাজম ব্যাংক প্রতিষ্ঠা বা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা; প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা ও গবেষণা ফলাফল বাস্তবায়নে ARIs-কে পরামর্শ দেওয়া এবং মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের জন্য উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহকে জনপ্রিয় করা; কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার, কর্মশালা, সভা ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা সংস্থা/প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।

সাংগঠনিক কাঠামো  তিনটি প্রধান কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ গঠিত- পরিচালনা পরিষদ, নির্বাহী পরিষদ ও সচিবালয়। মোট ২৬ জন সদস্য নিয়ে গঠিত পরিচালনা পরিষদ গবেষণা পরিকল্পনা, সমন্বয় ও নীতি প্রণয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত। পরিষদে রয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রিগণ; এসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবগণ; পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (কৃষি); উপাচার্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়; উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাত সদস্যের পরিচালকমন্ডলী এবং তালিকাভুক্ত ইনস্টিটিউটসমূহের মহাপরিচালক/ পরিচালকগণকে নিয়ে গঠিত ১৮ সদস্যের একটি নির্বাহী পরিষদ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক, কারিগরি, প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ নির্দিষ্ট সময় অন্তর কৃষি গবেষণায় জনশক্তির ওপর সমীক্ষা পরিচালনা করে এবং NARS ইনস্টিটিউটগুলির বিজ্ঞানীদের জন্য জনশক্তি উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করে। দেশ-বিদেশের এসব কর্মসূচিতে শস্য, পশুসম্পদ, মৎস্য, কৃষি অর্থনীতি, কৃষি প্রকৌশল এবং কৃষি সম্পর্কিত অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে এমএস ও পিএইচ.ডি ডিগ্রি এমনকি পোস্ট-ডক্টোরাল প্রোগ্রামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা  বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ Consultative Groups of International Agricultural Research Centre (CGIAR)-এর গবেষণা কেন্দ্রসমূহ এবং বিভিন্ন দেশের গবেষণা সমন্বয় প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হিসেবে কাজ করে। ধান, গম, শাকসবজি, আলু ও ডাল ফসলের উন্নয়ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি চমৎকার উদাহরণ। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ বহুসংখ্যক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কার্যকর সম্পর্ক রক্ষা করছে। [মোঃ শহীদুল ইসলাম]

আরও দেখুন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট; বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট; বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট; বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট; মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট