বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভা


বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভা   ১৯৩৬ সালে বামপন্থী কংগ্রেস কর্মীদের উদ্যোগে গঠিত একটি কৃষক সংগঠন। তাদের লক্ষ্য ছিল পল্লী পুনর্গঠন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষক সম্প্রদায়কে সংগঠিত করে শেষপর্যন্ত একটি কৃষিবিপ্লব সাধন। স্পষ্টত, বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভা গঠন করা হয়েছিল এ.কে ফজলুল হকের এর কৃষক প্রজা পার্টির কার্যকলাপকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে। ১৯১৯ সালের সংবিধানের অধীনে নির্বাচনী রাজনীতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রামাঞ্চলের জনগণের সমর্থন লাভের দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করে। সে উদ্দেশ্যে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি ও বিভিন্ন সম্প্রদায় স্থানীয়ভাবে কৃষক সমিতি গঠন করতে থাকে। স্থানীয় সমিতিগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে এদের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বঙ্গীয় পর্যায়ে কৃষক সমিতিসমূহ গঠিত হয়। বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভা হচ্ছে এ ধরনের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান ছিল নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি। কৃষক সভার প্রথম বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সম্মেলন ১৯৩৬ সালের ১৬-১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। কৃষক সভা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পটভূমিতে কৃষক সংগ্রামের ভাবধারায় আবিষ্ট হয়। এই সংগঠনকে নেতৃত্ব দেয় কম্যুনিস্ট পার্টি ও কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি। তখন ভারতীয় কম্যুনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকায় এ দলের সদস্যগণ জাতীয় কংগ্রেসের আমূল সংস্কারবাদী অঙ্গ কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টির পতাকাতলে কাজ করত। কৃষক সভার মূল কর্মীরা ছিলেন আইন অমান্য আন্দোলন ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দরুন গ্রেফতারকৃত প্রাক্তন দন্ডিত অপরাধী ও আটক ব্যক্তিবর্গ। দরিদ্র কৃষকশ্রেণির মধ্যে জমিতে তাদের অধিকারবোধ জাগিয়ে তোলার ব্যাপারে তারা বড় ধরনের সাফল্য লাভ করেন। নানকার, টঙ্ক, তেভাগা-র ন্যায় স্থানীয় যেসব আন্দোলন ১৯৪০ সালে বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টি করে সেগুলিও বঙ্গীয় প্রাদেশিক কৃষক সভার কর্মীদের দ্বারা পরিকল্পিত ও পরিচালিত হয়েছিল।  [সিরাজুল ইসলাম]