নার্সারি


নার্সারি (Nursery)  নানা ধরনের গাছগাছড়ার চারা উৎপাদন, বিতরণ বা বিক্রয়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিশেষ কেন্দ্র বা স্থান। একসময় নার্সারি বলতে মূল্যবান বনবৃক্ষ এবং ফলগাছের চারা উৎপাদনকারী বিশেষ প্রতিষ্ঠানকেই বোঝানো হতো। বাগানের গাছপালার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যাবার কারণে নার্সারির ধারণা এবং সেসঙ্গে তার কর্মকান্ড অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। উদ্ভিদ প্রজনন ও নতুন জাতের গাছপালা-বৃক্ষাদি ও ফল-ফুল উদ্ভাবনের কর্মসূচিও এখন নার্সারির আওতাভুক্ত। আধুনিক নার্সারি সাধারণত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যানতত্ত্বের বিশেষজ্ঞরা দেখাশুনা করেন।

বাড়ির আশেপাশে অর্থকরী গাছপালা লাগানো পুরানো প্রথা হলেও নার্সারিতে চারাগাছ উৎপাদন বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি শুধু বনায়নের জন্য বনবিভাগ প্রথম নার্সারির প্রবর্তন করে। তারপর সরকারি তত্ত্বাবধানে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলগাছের চারা উৎপাদনের জন্য নার্সারির প্রসার ঘটে। মধ্য-বিশ শতকে কেবল বাগানের গাছপালা উৎপাদনের লক্ষ্যে কয়েকটি বেসরকারি নার্সারি প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ দেশের বিভিন্ন স্থানে নার্সারি প্রতিষ্ঠা করে। বিগত শতকের আশির দশকে গাছপালার চাহিদা ও অর্থকরী বৃক্ষাদি রোপণের ব্যাপক আগ্রহের জন্য নার্সারি ব্যবসা বহুগুণে বেড়ে যায়।

নার্সারি

মেহগনি, শিশু, কড়ই, রেইনট্রি, নিম, আকাশমণি, সেগুন, গামারি, কদম, চাঁপা, পিতরাজ, জারুল ইত্যাদি  দারুবৃক্ষ এবং আম, সফেদা, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, নারিকেল, কুল, আমড়া, বেল, পেঁপে, গাব প্রভৃতি ফলবৃক্ষ নার্সারির প্রধান গাছ। ওরোকেরিয়া, থুজা, পাম, কৃষ্ণচূড়া ও ইউক্যালিপ্টাস সাধারণ বাহারি গাছ। মৌসুমি, বর্ষজীবী ও বহুবর্ষজীবীদের মধ্যে রয়েছে ডালিয়া, কসমস, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, ফ্লোকস ও অ্যালামান্ডা। সাধারণ সবজির মধ্যে টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ-কুমড়া ও বেগুনের চারাও নার্সারিতে উৎপন্ন হয়। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি নার্সারিতে ভেষজ উদ্ভিদের চারা উৎপন্ন করে তা রোপণের জন্য বিশেষ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনসাধারণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ ও পিরোজপুর জেলার ভাটি-অঞ্চলে কিছু বিশেষ ধরনের নার্সারি আছে। ডুবন্ত ও ভাসমান আগাছা এবং গভীর পানির ধানের গোড়া স্তূপীকৃত করে তৈরি ক্ষেতে সবজির চারা এবং লাউ, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, ঢেঁড়স, শাক ইত্যাদি সবজি ফলানো হয়। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় এসব ভাসমান ক্ষেতে বা পানির ওপর তৈরি বিশেষ ধরনের মাচায় পাতলা কাদার স্তর বিছিয়ে ধানের, বিশেষত বোরো ধানের চারাও উৎপাদন করা হয়।  [মোস্তফা কামাল পাশা]