দারুবৃৃৃক্ষ


দারুবৃক্ষ (Timber tree) বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার্য কাঠ-উৎপাদক বৃক্ষ। কাঠ অাঁশযুক্ত কাঠামোর এবং প্রধানত লিগনিন ও সেলুলোজ দ্বারা গঠিত উদ্ভিজ্জ পদার্থ। উচ্চমাত্রার লিগনিন (২৫%) কাঠকে দৃঢ়তা যোগায়। কাঠ দুই শ্রেণিভুক্ত: লঘুকাঠ (softwood) ও গুরুকাঠ (hard wood)। প্রথমটি যোগায় নগ্নবীজ উদ্ভিদ (প্রধানত পাইন) এবং দ্বিতীয়টির উৎস আবৃতবীজ বৃক্ষ (মুখ্যত দ্বিবীজপত্রী)। কাঠের ব্যবহার বহুবিধ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে কাঠের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বসতবাড়ির আঙিনায় ও প্রাকৃতিক বনে বৃক্ষ প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৫০০। এগুলির অধিকাংশই গুরুকাঠের গাছ।

নিম্নে বাংলাদেশের সাধারণ কতক দারুবৃক্ষের বর্ণনা, প্রধান ব্যবহার ও বাংলাদেশে অবস্থানস্থল উল্লেখ করা হয়েছে।

খয়ের (Acacia catechu) শক্ত, ভারি, বুনন সোজা বা জড়ানো; কৃষি সরঞ্জাম ও যন্ত্রের হাতল তৈরিতে এবং সারকাঠ খয়ের তৈরিতে ব্যবহূত হয়। দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বাড়ির আঙিনায় ও  কৃষি জমিতে বেশি দেখা যায়। বাবলা (Acacia nilotica) শক্ত ও ভারি, গ্রথন অমসৃণ, বুনন জড়ানো; গরুর গাড়ির চাকা, কৃষি সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহূত হয়। দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বসতবাড়ির আঙিনায় ও কৃষি জমিতে দেখা যায়। কড়ই (Albizia species) মাঝারি ভারি ও মধ্যম শক্ত, গ্রথন অমসৃণ, বুনন জড়ানো; নির্মাণ কাজ, আসবাবপত্র, নকশার কাজ, ভিনিয়ার, যন্ত্রের হাতল, দরজা ও জানালার প্যানেল, কৃষি সরঞ্জাম, রেলের স্লিপার তৈরিতে ব্যবহূত হয়। পার্বত্যবন, শালবন ও গ্রামের জঙ্গলে জন্মে। শিলকড়ই (Albizia procera) মাঝারি ভারি ও মধ্যম শক্ত, অমসৃণ, গ্রথন সুষম, বুনন সোজা বা কিছুটা জড়ানো; হালকা কাঠামো, আসবাবপত্র, দরজা-জানালা, নকশাদার ভিনিয়ার তৈরিতে ব্যবহূত হয়। পার্বত্যবন, শালবন ও সারা দেশের গ্রামের বনেবাদাড়ে জন্মে।পীতরাজ (Aphanomixis polystachya) মাঝারি ভারি ও শক্ত, গ্রথন অমসৃণ, বুনন সোজা বা কখনও জড়ানো; শালতি, ক্যানো, কড়ি-বরগা, দরজার ফ্রেম ও হালকা নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়। পাহাড় ও শালবনে, গ্রামের জঙ্গলে এ গাছ জন্মে। চাম/চাপলাশ (Artocarpus chama) মাঝারি শক্ত, মসৃণ; আসবাবপত্র, শালতি, নৌকা, সামুদ্রিক ভিত্তিদন্ড (pile) ও প্যানেল তৈরিতে ব্যবহূত হয়। এ গাছ দেখা যায় পাহাড় ও শালবনে।  কাঁঠাল (Artocarpus heterophyllus) মাঝারি ভারি, অমসৃণ, গ্রথন সুষম, বুনন সোজা ও কিছুটা জড়ানো, চকচকে; আসবাবপত্র, প্যানেল, তক্তা ও বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হয়। নিম (Azadirachta indica) শক্ত ও গ্রথন ভারি, মাঝারি থেকে অমসৃণ, বুনন জড়ানো; হালকা নির্মাণ কাজ, আসবাবপত্র ও প্যানেল তৈরিতে ব্যবহূত হয়; বসতবাড়ির আশেপাশে জন্মে। কামদেব (Calophyllum polyanthum) মাঝারি ভারি ও শক্ত, গ্রথন মাঝারি, বুনন জড়ানো; নির্মাণকাজ, রেলের স্লিপার ও আসবাবপত্র তৈরিতে এর ব্যবহার। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর সিলেটের পাহাড়ে জন্মে।বরুণ (Crataeva magna) হালকা ও নরম, গ্র্রথন মাঝারি অমসৃণ, বুনন সোজা; কমদামি আসবাবপত্র ও খেলনা তৈরিতে লাগে; নদীতীরের বন ও নিম্নাঞ্চলের গ্রামের বনে জন্মে। শিশু (Dalbergia sissoo) ভারি ও শক্ত, বুনন জড়ানো, গ্রথন মধ্যম; দামি আসবাবপত্র, সিন্দুক/আলমারি, রেলের স্লিপার নির্মাণে এটি ব্যবহূত হয়। প্রধানত দেশের উত্তর ও পশ্চিমের জেলাগুলিতে জন্মে। তেলিয়া গর্জন (Dipterocarpus turbinatus) ভারি ও শক্ত, বুনন ভাসাভাসা জড়ানো, গ্রথন অমসৃণ, অনুজ্জ্বল ও তেলতেলে; নির্মাণ কাজ, নৌকা, রেলের স্লিপার, জাহাজঘাটা, লরির কাঠামো নির্মাণে ব্যবহূত হয়। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাহাড়ে জন্মে। গামারি (Gmelina arborea) মাঝারি ভারি ও শক্ত, গ্রথন মধ্যম রুক্ষ, বুনন সোজা থেকে তরঙ্গিত; নির্মাণকাজ, আসবাব, দরজা ও জানালার ফ্রেম, মন্ড, ভিনিয়ার, নৌকা, গাণিতিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহূত; পার্বত্যবন, শালবন ও গ্রামের জঙ্গলে জন্মে। সুন্দরী (Heritiera fomes) ভারি থেকে অতি ভারি, অত্যন্ত শক্ত, বুনন সোজা থেকে আংশিক জড়ানো, গ্রথন সুষম ও মধ্যম-মিহি, মসৃণ; নৌকা, গাড়ি, নির্মাণকার্য, ঘরের খুঁটি, কৃষিসরঞ্জাম, আসবাবপত্র তৈরিতে কাজে লাগে। সুন্দরবনে অধিক জন্মে। তেলসুর (Hopea odorata) ভারি ও শক্ত, বুনন জড়ানো, চকচকে, গ্রথন মাঝারি; নির্মাণকার্য, নৌকা, লরির কাঠামো, দরজা ও জানালার ফ্রেম তৈরিতে এর ব্যবহার। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বনে জন্মে। আম (Mangifera indica) মাঝারি ভারি, নরম, সরু বাটালি দিয়ে নকশা কাটা যায়, খসখসে; সস্তা আসবাবপত্র, দরজা ও জানালার প্যানেল তৈরিতে ব্যবহূত হয়। সারা দেশে বসতবাড়িতে জন্মে। রেইনট্রি, ফুলকড়ই (Samanea saman) মাঝারি শক্ত ও ভারি, গ্রথন মধ্যম থেকে মিহি, বুনন সোজা থেকে জড়ানো; নির্মাণ কাজ, আসবাবপত্র, ভিনিয়ার, জ্বালানি কাঠ হিসেবে ব্যবহূত হয়। দক্ষিণ আমেরিকার এ প্রজাতিটি অধিকাংশ জেলার বসতবাড়ির আশপাশে জন্মে, দক্ষিণাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। শাল (Shorea robusta) অত্যন্ত ভারি ও শক্ত, বুনন অত্যধিক জড়ানো, গ্রথন মাঝারি, মসৃণ; ঘরের খুঁটি, পাইলিং, নৌকা, রেলের স্লিপার তৈরিতে ব্যবহূত হয়। দেশের সকল শালবনে এ গাছ জন্মে। মেহগিনি (Swietenia macrophyllaS. mahagony) মাঝারি শক্ত, ভারি, গ্রথন মধ্যম-মিহি, বুনন সোজা থেকে জড়ানো; আসবাবপত্র, প্যানেলিং, বাক্স পেটরা, খোদাইসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহূত হয়। দক্ষিণ আমেরিকার প্রজাতি, অধিকাংশ জেলাতেই এর চাষ হয়। সিভিট (Swintonia floribunda) হালকা থেকে মাঝারি ভারি, বুনন সোজা, চকচকে, গ্রথন মধ্যম-রুক্ষ; ভিনিয়ার, চায়ের বাক্স, সস্তা আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহূত হয়। চট্টগ্রাম, পার্বত্যচট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পার্বত্যবনে জন্মে। জাম (Syzygium species) ভারি, বুনন অল্পবিস্তর বিষম ও প্রায়শ জড়ানো, গ্রথন মধ্যম রুক্ষ, ফ্যাকাশে বা সামান্য চকচকে; নির্মাণকার্য, কৃষিসরঞ্জাম, যন্ত্রের হাতল, আসবাব তৈরিতে ব্যবহূত হয়। বসতবাড়ির আশেপাশে ও গ্রামের বনে জন্মে। সেগুন (Tectona grandis) মাঝারি ভারি, বুনন সোজা, সোনালি বা হলুদ রঙের, গ্রথন রুক্ষ ও অসম, তেলতেলে; আসবাবপত্র তৈরির উত্তম কাঠ, দরজা-জানালা ও জাহাজ নির্মাণে ব্যবহূত হয়। উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চল ও জলাভূমি ছাড়া দেশের সর্বত্র জন্মে। তুন/কুমা (Toona ciliata) মাঝারি শক্ত ও ভারি, গ্রথন মধ্যম-রুক্ষ ও অসমান, বুনন সোজা; আসবাব, হালকা নিমার্ণ কাজ, গরুর গাড়ি, প্লাইউড, বাদ্যযন্ত্র, নকশাদার ভিনিয়ার, রিক্সার কাঠামো তৈরিতে ব্যবহূত হয়। পার্বত্যবন, শালবন ও গ্রামের আশেপাশে জন্মে। লোহাকাঠ (Xylia kerri) অত্যন্ত ভারি, বুনন সোজা, তরঙ্গিত বা সুস্পষ্টভাবে জড়ানো; নির্মাণ কাজ, চালের আড়া, সরু তক্তা, কড়িকাঠ, রেলের স্লিপার, নৌকা তৈরিতে ব্যবহূত হয়। বৃহত্তর সিলেটের বনে জন্মে।  [মোঃ খায়রুল আলম]

কাঠজাত সামগ্রী (Timber product) নির্মাণ কাজ, আসবাবপত্র ও কাগজের মন্ড তৈরিতে ব্যবহূত সকল কাঠই নির্মাণ কাঠ এবং এ কাঠ দ্বারা যা কিছু তৈরি হয় বা পাওয়া যায় সেসব জিনিসই কাঠজাত দ্রব্য। এগুলির মধ্যে রয়েছে বাঁশজাত দ্রব্য, বেতজাত দ্রব্য প্রভৃতি। তালজাতীয় বৃক্ষের কান্ড থেকে তৈরি দ্রব্যাদিকেও কখনও কখনও কাঠজাত দ্রব্য বলা হয়। নির্দিষ্ট কোনো দ্রব্য উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের উপযোগী জাতের কাঠের মধ্য থেকে নির্মাণ কাঠ বা নির্মাণ কাঠের অংশ বাছাই করা হয়। অন্যান্য দ্রব্য যা বৃক্ষ থেকে পাওয়া যায় বা উৎপাদিত হয়, যেমন খাদ্যদ্রব্য, পানীয় দ্রব্য, তেল, অাঁশ জাতীয় দ্রব্য, রং, সুগন্ধি দ্রব্য, প্রসাধন দ্রব্য, ওষুধ, প্লাস্টিক, রেসিন, ট্যানিন (tannins), রেয়ন, লিনেন, রাবার, সংরক্ষণকারী দ্রব্য, কীটনাশক, অ্যালক্যালয়েড (alkaloids), বিষ, প্রভৃতি দ্রব্যকে ভেষজ দ্রব্য বলা হয়। গৃহ নির্মাণের কাজে অন্যান্য সামগ্রী যেমন ধাতব দ্রব্য, কংক্রিট, প্লাস্টিক, গ্লাসফাইবার ইত্যাদির তুলনায় যান্ত্রিক ও ভৌত-রাসায়নিক দিক থেকে গুণগত বৈশিষ্ট্যে কাঠ অনুপম।

বাংলাদেশে সরকারি বনভূমিতে ও বসতবাড়ির আঙিনায় ৫০০ এর অধিক (দেশী ও বিদেশি) প্রজাতির ব্যবহারযোগ্য কাঠের বৃক্ষ রয়েছে। এসব প্রজাতির প্রায় ৫০ ভাগ দেশিয়। কর্ণফুলি কাগজের মিলে মুলি বাঁশ থেকে কাগজ তৈরি করা হয়। পাকশী কাগজের কলে আখের ছোবড়া ব্যবহূত হয়, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলে ব্যবহার হয় সুন্দরবনের গেওয়া কাঠ এবং সিলেট কাগজের কলে নলখাগড়া ও মালাকানা কড়ই থেকে কাগজ তৈরি করা হয়। সম্প্রতি কাঁচা পাটগাছ কাগজের মন্ড তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও বাংলাদেশে কতিপয় ক্ষুদ্র বেসরকারি কাগজশিল্প রয়েছে যা স্থানীয়, আমদানিকৃত বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য দ্রব্যাদি ব্যবহার করে। খুলনা হার্ডবোর্ড মিলে সুন্দরী কাঠ থেকে হার্ডবোর্ড তৈরি করা হয়। কাঠের পাতলা ফালিকে ভিনিয়ার (veneer) বলে এবং তা বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পকারখানায় তৈরি হয়। কদম, ছাতিম এবং শিমুল কাঠ দিয়ে দেয়াশলাইয়ের বাক্স তৈরি করা হয়। যখন অসম সংখ্যক বৃহৎ ভিনিয়ার ফালি আঠা দিয়ে জোড়া দেওয়া হয় এবং তা চাপ দিয়ে বোর্ড তৈরি করা হয় তখন এ প্রস্ত্তত দ্রব্যটিকে প্লাইউড বলে। প্লাইউড তৈরি করতে সাধারণত সস্তা দামের কাঠ ব্যবহার করা হয়। ফ্লাশডোর, সিলিং, পার্টিশন এবং প্যাকিং বাক্স তৈরির কাজে প্লাইউড ব্যবহার করা হয়। এগুলি বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং অন্যান্য কতিপয় বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক তৈরি হয়। প্লাইউডের ন্যায় অন্য একটি ভিন্ন ধরনের বোর্ড যাকে পার্টিকেল বোর্ড অথবা উডটেক্স বলা হয়, তাও সস্তা কাঠজাত দ্রব্য দিয়ে তৈরি করা হয়। এটিও  বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন কর্তৃক তৈরি হচ্ছে। এটি যখন পাটখড়ির দ্রব্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয়, তখন একে পারটেক্স বলা হয়। মেসার্স স্টার পার্টিকেল বোর্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এটি তৈরি করে। এসব বোর্ড প্রধানত গর্জন, সেগুন, চম্পা অথবা টিক চম্বল, চিকরাশি প্রভৃতি কাঠ থেকে প্রস্ত্তত ভিনিয়ারের আকর্ষণীয় আবরণ দ্বারা অধিক সৌন্দর্যবৃদ্ধি করা হয়।

বাংলাদেশের সর্বত্র দরজা, জানালা, আসবাবপত্র, কেবিনেট প্রভৃতি তৈরিতে সারবান কাঠ ব্যবহূত হয় এবং এতে সেগুন, চাপলাইশ, চিকরাশি, গামারি, শিলকড়ই, জারুল ইত্যাদি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। কৃষি সরঞ্জামাদি এবং নৌকা তৈরির কাজে প্রথা অনুসারে স্থানীয় কাঠ ব্যবহার করা হয়। উন্নত ধরনের নৌকা ও লঞ্চ তৈরির কাজে সেগুন, জারুল ও সুন্দরী কাঠের ব্যবহার বেশি। লাঙল ও গরুর গাড়ি তৈরি করতে বাবলা কাঠ এবং অনেক কাজে গর্জন কাঠ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।

পোয়া (Melia azadirach) প্রজাতির কাঠ সংগীতের যন্ত্রপাতি তৈরিতে কাজে লাগে এবং গামারি ও মেহগনি কাঠ মিহি বুনন, কার্যকারিতা ও স্বাভাবিক স্থায়িত্বের জন্য সূক্ষ্ম দ্রব্যাদি ও খেলনা তৈরির কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড শোধিত কাঠজাত দ্রব্যাদির সর্ববৃহৎ ভোক্তা। সুন্দরী, সেগুন, গর্জন, সিভিট ইত্যাদি কাঠ দিয়ে কাঠের খুঁটির একমাত্র স্থানীয় প্রস্ত্ততকারক হলো বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন। দেবদারু গাছও খুঁটি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। বৈদ্যুতিক মিটার বোর্ড ও প্যাকিং দ্রব্যাদি প্রধানত আম, রেইনট্রি, কদম, সিভিট ও গর্জন কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়। [অরুণ কুমার লাহিড়ী]

আরও দেখুন আসবাবপত্র