নবীবংশ


নবীবংশ সৈয়দ সুলতান রচিত  হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জীবনীকাব্য। ১৫৮৪ সালে এটি রচিত হয়। কাব্যটি দুখন্ডে বিভক্ত। প্রথম খন্ডে সৃষ্টির পত্তন থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর পূর্বপর্যন্ত পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন ব্যক্তির জীবন ও কর্মের বিবরণ আছে। এতে আদম, শীশ, নূহ, ইব্রাহিম, মুসা, ঈসা প্রমুখের সঙ্গে  ব্রহ্মাবিষ্ণু, মহেশ্বর, নরসিংহ, বামন,  রামকৃষ্ণ প্রমুখ হিন্দু পৌরাণিক চরিত্রের কথাও বলা হয়েছে। দ্বিতীয় খন্ডে আছে ‘রসুল চরিত’ কথা; এখানে হযরত মুহাম্মাদ (স.)-এর আবির্ভাব, তাঁর ঘটনাবহুল জীবন,  ইসলাম প্রচার, মেরাজগমন এবং সর্বশেষে তাঁর ওফাৎপ্রাপ্তি সবিস্তার বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামের পয়গম্বরদের পাশাপাশি হিন্দু দেবতাদের বর্ণনায় কবির উদার মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায় বটে, তবে লেখক কর্তৃক ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্যও প্রকাশিত হয়েছে। বিশাল এই গ্রন্থ থেকে কবির সমসাময়িক কালে দেশ ও সমাজের সংস্কার, রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার, প্রকৃতি-পরিবেশ প্রভৃতি সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়।  [বদিউজ্জামান]