তিস্তা প্লাবনভূমি


তিস্তা প্লাবনভূমি (Tista Floodplain)  তিস্তা নদী দ্বারা গঠিত প্লাবনভূমি। তিস্তা অন্যান্য আরও কিছু নদনদীর সহযোগিতায় বিভিন্ন আকৃতির  পলি বয়ে এনে এ  প্লাবনভূমি গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশ ভূ-ভাগের বেশিরভাগ জুড়ে রয়েছে সাম্প্রতিক কালের  পলল ও প্লাবনভূমির পলি। রংপুরের অধিকাংশ এলাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ তিস্তা প্লাবনভূমি দ্বারা গঠিত। এ প্লাবনভূমি  তিস্তা উপ-বদ্বীপ অংশ জুড়ে বিস্তৃত যাতে কয়েকটি ভিন্ন প্রকৃতির ভূদৃশ্য বিরাজমান। ভূ-প্রাকৃতিক দিক থেকে তিস্তা প্লাবনভূমি পশ্চিমে হিমালয় পাদদেশীয় সমভূমি এবং পূর্বে উত্তর-দক্ষিণ প্রবহমান ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর এ দুই ভূমিরূপের মাঝখানে অবস্থিত। তিস্তা নদী বিগত কয়েক হাজার বছর ধরে বর্তমান সময়কালের মহানন্দা, পুনর্ভবা, আত্রাই, ছোট যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর উপত্যকা অধিকার করাসহ বেশ কয়েকটি গতিপথ অধিকার এবং পরিত্যাগ করেছে। দুধকুমার এবং গঙ্গাধর নদীদ্বয়ের ক্ষুদ্র প্লাবনভূমিও তিস্তা প্লাবনভূমির অন্তর্গত।

মৌসুমি জলবায়ুর প্রাধান্যবিশিষ্ট এ অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়। এ প্লাবনভূমি অঞ্চলে গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১,৯০০ মিলিমিটারের চেয়ে কিছু বেশি। এলাকার প্রধান নদী তিস্তার গড় মাসিক প্রবাহ প্রায় ২,৪৩০ কিউমেক। তিববতের চিতামু হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়ে তিস্তা নদী রংপুর জেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ভারতের  দার্জিলিং জেলায় নদীটি শিভক গোলা নামে একটি দর্শনীয় গিরিসঙ্কটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দার্জিলিং পাহাড়ি অঞ্চলে নদীটি খরস্রোতা এবং এর উপত্যকা গভীর জঙ্গলে আচ্ছাদিত। তবে পাহাড়ি অঞ্চলে এর নিষ্কাশন অববাহিকার আয়তন মাত্র ১২,৫০০ বর্গ কিলোমিটার। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্তও তিস্তার প্রবাহ অন্যান্য নদীর মাধ্যমে গঙ্গা নদীতে পতিত হতো, কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী বন্যার পরে নদীটি অকস্মাৎ গতি পরিবর্তন করে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়। তিস্তা প্লাবনভূমির পশ্চিম সীমা রচনা করেছে ধরলা নদী। ধরলার গড় মাসিক প্রবাহ প্রায় ১,৪৪০ কিউমেক।  [কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ]