তিস্তা উপ-বদ্বীপ


তিস্তা উপ-বদ্বীপ (Tista Fan)  হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলীয় সম্মুখভূমিতে অবস্থিত তিস্তা নদী গঠিত উপ-বদ্বীপ। উপ-বদ্বীপ পলিজ পাখা নামেও আখ্যায়িত হয়ে থাকে।  পলি বহনকারী নদী পর্বতের পাদদেশে সমতল ভূমিতে পতিত হলে সেখানে ব্যাপক আকারে পলি সঞ্চিত হয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির বদ্বীপের ন্যায় ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, যাকে উপ-বদ্বীপ বলা হয়ে থাকে। এ পলিজ পাখা বা উপ-বদ্বীপ অনেক ক্ষেত্রে উত্তল কোণ বা শঙ্কু আকৃতির হয়ে থাকে যা উজান অঞ্চলের দিকে ঊর্ধ্বমুখী থাকে। হিমালয় পর্বতের পাদদেশে অসংখ্য উপ-বদ্বীপের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।  তিস্তা নদী হিমালয়ের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ভারতের সিকিম রাজ্যে সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ৭,২০০ মিটার উচ্চে অবস্থিত চিতামু হ্রদ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পর নদীটি সমভূমিতে পতিত হওয়ার মুহুর্তে একটি বৃহৎ ও সুবিস্তৃত পলিজ উপ-বদ্বীপ গঠন করেছে যা ভারত ও বাংলাদেশ - উভয় দেশেই বিস্তৃত। উপ-বদ্বীপটির চূড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের  দার্জিলিং-এ অবস্থিত যার উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় ২৫০ মিটার। এ উপ-বদ্বীপের নিম্নতর মধ্যভাগ এবং নিম্নাংশ বিস্তৃত হয়েছে বাংলাদেশ ভূখন্ডের রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় এবং ঠাকুরগাঁও জেলার কিছু কিছু এলাকায়। দক্ষিণে এ উপ-বদ্বীপ একেবারে  বরেন্দ্রভূমি পর্যন্ত গিয়ে মিশেছে। তিস্তা উপ-বদ্বীপের ভিত্তি প্রায় ৩৪ মিটার পর্যন্ত উত্থিত।  মহানন্দা নদী উপ-বদ্বীপের পশ্চিম সীমা এবং তিস্তা নদী পূর্ব সীমা রচনা করার মাধ্যমে উপ-বদ্বীপটিকে একটি উপবৃত্তের আকৃতি প্রদান করেছে। উল্লিখিত দুটি নদী ছাড়াও কুলিক, টাংগন, পুনর্ভবা, আত্রাই, ছোট যমুনা, করতোয়া এবং ঘাঘট নদী এ উপ-বদ্বীপের বুক চিড়ে প্রবাহিত হচ্ছে যাদের কতগুলো রৈখিক এবং অন্যগুলো বিনুনি প্রকৃতির প্রবাহবিশিষ্ট। তিস্তা উপ-বদ্বীপ প্রধানত মোটা দানাবিশিষ্ট বালুস্তর, তির্যক স্তরায়িত বেলেপাথর এবং নুড়িবাহী আন্তঃস্তর ও কর্দম শিলাস্তরসহ মাঝে মধ্যে কোয়াটারনারী থেকে সাম্প্রতিককালের নুড়িপাথর দ্বারা গঠিত। দক্ষিণ-পূর্ব অভিমুখে এ উপ-বদ্বীপের মধ্যভাগ প্রতি ১.৬ কিলোমিটারে ১.৩ মিটার হারে এবং পশ্চাদ্ভাগ ০.৭ মিটার হারে ঢালু হয়ে সমভূমিতে মিশেছে।  [কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ]