ডেঙ্গুজ্বর


ডেঙ্গুজ্বর (Dengue)  প্রধানত এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকার একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রামক ব্যাধি। ডেঙ্গু ভাইরাস Flaviviridae গোত্রভুক্ত, যার প্রায় ৭০ ধরনের ভাইরাসের মধ্যে আছে ইয়োলো ফিভার (yellow fever) ও কয়েক প্রকার এনসেফালাইটিসের ভাইরাস। ডেঙ্গুজ্বরের অনুরূপ একটি রোগের মহামারীর প্রথম তথ্য পাওয়া যায় ১৭৭৯ ও ১৭৮০ সালে চিকিৎসা সংক্রান্ত বইপুস্তকে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কলকাতায় প্রথম ডেঙ্গুজ্বর শনাক্ত হয়। ১৮৭১-৭২ সালে এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়। ওই সময় থেকে এ রোগের প্রকোপ এ উপমহাদেশে প্রায়শই ঘটে। ১৯৩৯-৪৫ সাল থেকে গোটা মহাদেশে ১০ থেকে ৩০ বছর পর পর ডেঙ্গুজ্বর দেখা দিতে থাকে। কোনো একটি বিশেষ স্থানে বারবার ডেঙ্গুর মহামারী দেখা দিত না। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বহু ডেঙ্গু ভাইরাস সেরোটাইপের সহসঞ্চালন দেখা দেয় এবং মহামারীর ঘটনা বৃদ্ধি পায়। ক্যারিবীয় অঞ্চল (১৯৭৭-১৯৮১), দক্ষিণ আমেরিকা (১৯৮০ সালের শুরুতে), প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (১৯৭৯) এবং আফ্রিকায় ব্যাপক আকারে ডেঙ্গু মহামারী দেখা দেয় যাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হয়। রক্তক্ষরা ডেঙ্গুজ্বর (dengue haemorrhagic fever/DHF) এবং ডেঙ্গু শক (shock) সিনড্রমের (DSS) প্রথম প্রাদুর্ভাব ঘটে ১৯৫৩-৫৪ সালে ম্যানিলায় এবং ১৯৭৫ সালের মধ্যে নিয়মিত বিরতিসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে। ১৯৮০ ও ১৯৯০ সালে মহামারী আকারে রক্তক্ষরা ডেঙ্গু ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পূর্বদিকে চীনে ছড়িয়ে পড়ে। রক্তক্ষরা ডেঙ্গুজ্বর ও শক-সিনড্রম ডেঙ্গু এখন এশিয়ায় হাসপাতালে ভর্তি ও শিশুমৃত্যুর একটি প্রধান কারণ।

ডেঙ্গুজ্বরের বাহক মশা

চার প্রকারের ডেঙ্গু ভাইরাস DEN 1, 2, 3, 4 হলো ডেঙ্গু ও রক্তক্ষরা ডেঙ্গুর কারণ এবং এগুলি প্রতিজনীভাবেও (antigenic) ঘনিষ্ঠ। যে কোনো একটি সেরোটাইপ বিশেষ কোনো ভাইরাসের বিরুদ্ধে আজীবন প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়, কিন্তু অন্য ভাইরাসগুলির বিরুদ্ধে নয়। উষ্ণমন্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় শহরাঞ্চলীয় চক্রেই ডেঙ্গু ভাইরাস স্থিতি লাভ করে। এজন্যই শহুরে লোকদের মধ্যেই রোগটি বেশি। মানুষের আবাসস্থলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দিনের বেলায় দংশনকারী Aedes aegypti মশা এসব ভাইরাসের বাহক। কোনো কোনো অঞ্চলে অন্যান্য প্রজাতি Aedes albopictus, A. polynesiensis মশাও সংক্রমণ ঘটায়। রোগীকে দংশনের দুই সপ্তাহ পর মশা সংক্রমণক্ষম হয়ে ওঠে এবং গোটা জীবনই সংক্রমণশীল থাকে।

রোগের লক্ষণ ১. ডেঙ্গুজ্বর ডেঙ্গু-ভাইরাসের সংক্রমণ উপসর্গবিহীন থেকে নানা রকমের উপসর্গযুক্ত হতে পারে, এমনকি তাতে মৃত্যুও ঘটে। সচরাচর দৃষ্ট ডেঙ্গুজ্বর, যাকে প্রায়ই ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু বলা হয়, সেটি একটি তীব্র ধরনের জ্বর যাতে হঠাৎ জ্বর হওয়া ছাড়াও থাকে মাথার সামনে ব্যথা, চক্ষুগোলকে ব্যথা, বমনেচ্ছা, বমি এবং লাল ফুসকুড়ি। প্রায়ই চোখে প্রদাহ এবং মারাত্মক পিঠব্যথা দেখা দেয়। এসব লক্ষণ ৫-৭ দিন স্থায়ী হয় এবং রোগী আরও কিছুদিন ক্লান্তি অনুভব করতে পারে এবং এরপর সেরে ওঠে।

বেশির ভাগ সংক্রমণই, বিশেষত ১৫ বছরের কমবয়সী শিশুর ক্ষেত্রে, সম্পূর্ণ লক্ষণহীন অথবা ন্যূনতম লক্ষণযুক্ত হতে পারে। ত্বকে স্ফোট দেখা দেয় প্রায় ৫০% ক্ষেত্রে, যা প্রথমে হাতে, পায়ে এবং পরে ঘাড়ে ছড়ায়। জ্বর চলাকালীন সময় মুখ, গলা বা বুক রক্তাভ দেখায়।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চোখে রক্তক্ষরণ

২. রক্তক্ষরা ডেঙ্গুজ্বর (DHF)  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধানত শিশুদের একটি রোগ। রক্তক্ষরা ডেঙ্গু হলো ডেঙ্গুর একটি মারাত্মক ধরন। মূল লক্ষণগুলি বয়স নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রেই অভিন্ন। এ ডেঙ্গুজ্বরের শুরুতে হঠাৎ দেহের তাপ বেড়ে যায় (৩৮০-৪০০ সে) এবং ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চলে। রক্তক্ষরণ বা ডেঙ্গু-শক সাধারণত ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দেখা দেয়। এতে থাকে মাথাব্যথা, ক্রমাগত জ্বর, দুর্বলতা এবং অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশীর তীব্র ব্যথা। শ্বাসযন্ত্রের ঊর্ধ্বাংশের সংক্রমণসহ রোগটি হালকাভাবে শুরু হলেও আচমকা শক ও ত্বকের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ ও কান দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়ে যায়। রক্তে ক্রমাগত অনুচক্রিকা কমতে থাকে এবং রক্তের বর্ধমান রক্তবিকেন্দ্রক (haematocrit) প্রবণতা থেকে আসন্ন শকের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। রক্তক্ষরা ডেঙ্গুরোগীর প্রয়োজন উত্তম সেবাশুশ্রূষা ও পর্যবেক্ষণ, কেননা উপরিউক্ত পরিবর্তনগুলি খুব দ্রুত ঘটতে পারে এবং রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে উঠতে পারে।

৩. ডেঙ্গু-শক সিনড্রম (DSS) এটি রক্তক্ষরা ডেঙ্গুরই আরেকটি রকমফের, তাতে সঙ্কুচিত নাড়িচাপ, নিম্ন রক্তচাপ অথবা সুস্পষ্ট শকসহ রক্তসঞ্চালনের বৈকল্য থাকে। দেহের বাইরে থেকে যকৃত স্পর্শ করা যায় ও নরম হয়ে ওঠে এবং উৎসেচকগুলিতে সাধারণত অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, তবে কদাচিৎ জন্ডিস হয়ে থাকে। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে অব্যাহত পেটব্যথা, থেকে থেকে বমি, অস্থিরতা বা অবসন্নতা এবং হঠাৎ জ্বর ছেড়ে ঘামসহ শরীর ঠান্ডা হওয়া ও দেহ সম্পূর্ণ নেতিয়ে পড়া।

মহামারী  নতুন জাতের ভাইরাস ও সেরোটাইপ (serotypes) দেখা দেওয়ায় ডেঙ্গুর মহামারী আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ১৯৮০ ও ১৯৯০ সালের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮০ সালের পূর্বে মারাত্মক ধরনের সংক্রমণ খুব কমই দেখা গেছে। কিন্তু ১৯৯৭ সালের মধ্যেই রক্তক্ষরা ডেঙ্গু বাংলাদেশসহ উষ্ণমন্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় দেশগুলিতে একটা স্বতন্ত্র রোগ হিসেবে বড় কয়েকটি এবং ছোট ছোট অনেকগুলি মহামারী ঘটায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী  বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। প্রতি বছর আক্রান্ত প্রায় ৫০ লক্ষ রোগীর মধ্যে অন্তত ৫ লক্ষ রক্তক্ষরা ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় যাদের একটা বড় অংশই শিশু এবং মারা যায় শতকরা প্রায় পাঁচ জন। বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর এ পুনরাবির্ভাব এবং রক্তক্ষরা ডেঙ্গু উৎপত্তির মূলে আছে নজিরবিহীন জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, বিমান ভ্রমণ বৃদ্ধি, মশক দমনের অভাব এবং গত ৩০ বছরে জনস্বাস্থ্যের কাঠামোর অবনতি।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু একটি পুনরাবির্ভূত রোগ হিসেবে গণ্য। সাম্প্রতিক (২০০০) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন মোতাবেক এদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বিস্ফোরক পর্যায়ে আছে। ১৯৮২-৮৩ সালের মধ্যে পরিচালিত ঢাকা মহানগরের স্কুলের শিশুদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে সর্বমোট ২,৪৫৬ রক্তের নমুনার মধ্যে ২৭৮টিতে ডেঙ্গুর লক্ষণ ধরা পড়ে। ১৯৮৪-৮৬ সালে ঢাকা শহরের হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত রক্তের ২১টি নমুনার সবগুলিতেই সংক্রমণের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল।

১৯৯৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসা প্রায় ১১% রোগীর (২৫০ জনের মধ্যে ২৭ জন) মধ্যে ডেঙ্গু অ্যান্টিজেনের পজিটিভ অ্যান্টিবডি টাইটার (titre) ধরা পড়েছিল। ১৯৯৯ সালে ঢাকার মহাখালির Institute of Epidemiology, Disease Control and Research (IEDCR) বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাঠানো সন্দেহজনক রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪১টির মধ্যে ৯৮টিতে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব পেয়েছিল। উক্ত ইনস্টিটিউট প্রদত্ত বিস্তারিত তথ্যে এগুলির মধ্যে কয়েকটি রক্তক্ষরা ডেঙ্গুরও তথ্য ছিল। ঢাকা শহরের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রক্তক্ষরা ডেঙ্গুর অস্তিত্বের কথা জানা গেছে।

ভাইরাসবিদ, চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্র থেকে ঢাকা শহরে আতঙ্কগ্রস্ত হারে ডেঙ্গুরোগ বিস্তারের আভাস পাওয়া গেছে। জুলাই ২০০০ সালের প্রথম দুই সপ্তাহে  বারডেম, শিশু হাসপাতাল ও  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ৭৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিল। শিশুসহ মৃত সাত জনের মধ্যে ছয় জন এ তিনটি হাসপাতালের এবং এক জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী। বারডেম হাসপাতালের রোগপ্রতিরোধ বিভাগ ছয় দিনে ৩১টি রোগের ঘটনা শনাক্ত করেছিল এবং তা আকস্মিক বৃদ্ধি হিসেবে অভিহিত হয়েছিল। ঢাকা শিশু হাসপাতালে জুলাই ২০০০ সালের প্রথমার্ধে ৯০টি ডেঙ্গুর ঘটনা ধরা পড়ে। ঢাকার মতো একটি জনাকীর্ণ শহরে ডেঙ্গুবাহক মশার আকস্মিক প্রকোপ খুবই উদ্বেগজনক, কেননা এখানে মশার অবাধ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ আছে।

বিশেষজ্ঞরা আশা করেছিলেন যে ২০০০ সালের শেষে শীতকাল শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে, কিন্তু দেখা গেল নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ সংক্রমণ হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলিতেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০০০ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ৯০ জন রোগী মারা গেছে, যদিও বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি। ঢাকা নগরীর ক্লিনিকগুলিতেই কেবল নভেম্বর মাসে কমপক্ষে ১,০০০ রোগী ভর্তি হয়েছিল। বলা হয়েছে, দেশ থেকে রোগ দূর হতে দেরি হবে এবং সংক্রমণ আরও কয়েক মাস চলবে। Aedes মশার সংখ্যা এখনও অত্যধিক এবং ‘যতদিন না এ মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ততদিন ডেঙ্গু টিকে থাকবে’ বলেছেন রোগনিয়ন্ত্রকরা। ২০০১ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ঢাকা শহরের অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বহু ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি হওয়ার কথা জানা যায়। ২০০২ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ঢাকা শহরে আবার ব্যাপকভাবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটে। এখানে এ দুই মাসে হাসপাতালে ভর্তিকৃত প্রায় ৪০০০ রোগীর মধ্যে মারা যায় প্রায় ৪৪ জন।

রোগসংক্রমণ  Aedes aegypti মশা জনবসতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থেকেই বংশবৃদ্ধি করে। এদের লার্ভা বেশির ভাগই পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি, ফেলে দেওয়া নারিকেলের খোল, ফুলদানি, ফুলের টবের নিচের থালায় জমে থাকা পানিতে, এমনকি জমে থাকা গাছের গর্তে এবং এ ধরনের অন্যান্য প্রাকৃতিক স্থানে বড় হয়। পূর্ণবয়স্ক মশা সাধারণত ঘরের ভিতর অন্ধকার জায়গায়– আলমারি, বিছানা বা খাটের তলায় থাকতে পারে। এ প্রজাতি দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে, বেশির ভাগ কামড়ের ঘটনা ঘটে সকালের প্রথম দিকে বা বিকালের শেষে। কোনো আক্রান্ত লোকের রক্ত খেয়ে থাকলেই মশা সংক্রমিত হয় এবং ১০-১২ দিনের নির্ধারিত উপ্তিকাল যাপনের পর সংক্রমণ ক্ষমতা      অর্জন করে। মশা সংক্রমনক্ষম হয়ে উঠলে লোকের শরীর থেকে রক্ত শোষণের সময় এমনকি ত্বকে শুঁড় ঢুকালেও ডেঙ্গু সংক্রমণ ঘটতে পারে।

ডেঙ্গুবাহক নিয়ন্ত্রণ ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ঔষধ বা প্রতিষেধক নেই। দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাই কেবল রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। সাধারণত ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুর বিরুদ্ধেই দেহের রোগপ্রতিরোধ সামর্থ্য থাকে, কিন্তু রক্তক্ষরা ডেঙ্গুতে বেশির ভাগ রোগীই মারা যায়। তাই মশার বিরুদ্ধেই নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত হওয়া আবশ্যক। বাংলাদেশে ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণের তেমন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নেই। দেশের কোনো কোনো শহরে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম থাকলেও তা Aedes মশার বিরুদ্ধে নয়। এ জাতের মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন, কারণ এগুলি পানিভরা পাত্রে বৃদ্ধি পায়, তাই কীটনাশক ছড়িয়ে সুফল ফলে না। ঘরের চারদিকে স্প্রে করা অথবা খুব সকালে বা সন্ধ্যার শেষে ঘরে বিষ ধোঁয়া (aerosol) দিলে দিনের বেলা দংশনকারী ‘এইডিস’ মশা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সহজসাধ্য নয়। কিন্তু নাগরিকরা মশা বৃদ্ধির অকুস্থল যেমন পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, নারিকেলের বা ডাবের খোসা ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে এবং বাসস্থানের আশপাশ থেকে জমা পানি নিষ্কাশন করতে পারেন। নগরে অসংখ্য বস্তি থাকায় এ কার্যক্রম অত্যন্ত কঠিন। কার্যকর ও টেকসই নিবারণ ব্যবস্থার জন্য ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অবশ্যই স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্তি আবশ্যক।  [এস.এম হুমায়ুন কবির]

আরও দেখুন কালাজ্বর; মশা; ম্যালেরিয়া