বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University/ BSMMU)  ১৯৯৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও গবেষণার জন্য দেশের একমাত্র  মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। পাকিস্তান আমলে বর্তমান বাংলাদেশ ভূখন্ডে কয়েকটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ছিল, যেগুলি চিকিৎসা ক্ষেত্রে এম.বি.বি.এস ডিগ্রি প্রদান করত। এই ডিগ্রির জন্য ৫ বছরের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাক্রম চালু ছিল। কিন্তু এদেশে উচ্চতর স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনার কোন ব্যবস্থা ছিল না। চিকিৎসা শিক্ষায় স্নাতকোত্তর কোর্স প্রদানের জন্য ১৯৬৫ সালে ঢাকায় ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ (IPGMR) প্রতিষ্ঠিত হয়। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণার দায়িতপ্রাপ্ত হলেও এই সংস্থার ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা ছিল না। এটি ন্যস্ত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। IPGMR কার্যক্রমসহ অনেকগুলি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের এম.বি.বি.এস ডিগ্রি প্রদান করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ শতকের নববইয়ের দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশ সরকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা ও কৃষি শাখায় বেশ কয়েকটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ফলে ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল সংসদীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে IPGMR একটি পূর্ণাঙ্গ  মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নামানুসারে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। এটি বর্তমানে পূর্ববর্তী IPGMR-এর মতো একই স্থানে একইভাবে নিজস্ব কার্যক্রম চালু রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এম.ডি, এম.এস, এম.ফিল ও পি.এইচডি ডিগ্রি প্রদান করে থাকে। অভিজ্ঞ চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি কয়েকটি বিষয়ে ডিপ্লোমাও প্রদান করে। দেশের ১৩টি সরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শিক্ষা কর্মসূচি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আওতায় এলেও চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়গুলির স্নাতক পর্যায়ের এম.বি.বি.এস কার্যক্রম এখনও সরকার পরিচালিত সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপরই ন্যস্ত আছে। বর্তমানে অনেকগুলো বেসরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় রয়েছে এবং সেগুলি এম.বি.বি.এস ডিগ্রি প্রদান করে থাকে। এসব চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের ডিগ্রি প্রদানের কার্যক্রম দেশের সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। স্নাতকপূর্ব চিকিৎসা শিক্ষা পরিকল্পনা, যাতে এম.বি.বি.এস শিক্ষাক্রমই মুখ্য, তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সমন্বিত করার বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সময়ের প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু অধ্যাদেশের শর্তানুসারে এই সমন্বয়করণ যতটা যৌক্তিক ততটাই বাধ্যতামূলক।

ঢাকার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। ঠিক পাশেই রয়েছে আরেকটি বায়োমেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবোলিক ডিসঅর্ডারস (BIRDEM)। এর ফলে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আদান-প্রদান সহজতর হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী হিসেবে ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোর আওতাধীন সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সরকার ও সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রণীত কাঠামো ও কর্মনীতি অনুযায়ী সার্বিক দায়িত্ব তাঁর ওপরই ন্যস্ত। সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রশাসনিক এবং শিক্ষামূলক কার্যাবলি পরিচালনা করে থাকে।  [জিয়া উদ্দিন আহমেদ]