জাতীয় রাজস্ব বোর্ড


Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১০:৪৩, ৮ ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত সংস্করণে

(পরিবর্তন) ←পুর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ→ (পরিবর্তন)

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকারের সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত অর্থ মন্ত্রণালয়াধীন একটি সংস্থা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অর্জিত রাজস্ব দেশের বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদের অন্যতম উৎস এবং দেশ ও অর্থনীতির স্বয়ম্ভরতা অর্জনের অন্যতম নিয়ামক। রাজস্ব আহরণ উপলক্ষ্যে গৃহীত ব্যবস্থাদি যা সরকারের রাজস্ব নীতি বা ফিসক্যাল পলিসির পর্যায়ভুক্ত, তার একটা কার্যকারণগত প্রভাব পড়ে দেশের শিল্পায়ন, ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশে। রাজস্ব বোর্ডের ভূমিকা, এখতিয়ার ও প্রধান কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে (১) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আরোপ, পরীক্ষণ, পরিবীক্ষণ ও আহরণ; (২) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর আহরণ সম্পর্কিত আইন, বিধি-বিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগে ব্যাখ্যা প্রদান এবং বিশ্লেষণ; (৩) জ্ঞানভিত্তিক, ন্যায়নীতি নির্ভর এবং গ্রাহক বান্ধব পরিবেশে আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক,  মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক, আবগারী ও আয়কর আহরণে নিয়োজিত দপ্তরসমূহের কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ; (৪) কর নীতি ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায়, রাজস্ব বাজেট প্রস্ত্ততকরণে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশসমূহের সঙ্গে সাধারণ সহযোগিতা চুক্তি, অনুদান ও ঋণ সংক্রান্ত চুক্তি এবং কর সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা প্রদান; (৫) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের ক্ষেত্রে অব্যাহতি ও রেয়াত এর আওতা ও শর্ত নির্ধারণ; (৬) স্বেচ্ছা প্রতিপালনে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে করদাতা এবং রাজস্ব আহরণের পরিধি বৃদ্ধি ও সঠিক কর নিরূপনের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা; (৭) কর ফাঁকি রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ, আমদানি-রপ্তানি নীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় শিল্পের সংরক্ষণ ও বিকাশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে সরকারি নীতি প্রণয়ন।

কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ড আইন ১৯২৪ (১৯২৪ সনের ৪ নম্বর আইন) বাতিল করে ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৭৬ (The National Board of Revenue Order, 1972) বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালের ১২ নং আইনে রাজস্ব বোর্ডের গঠন প্রক্রিয়ায় সংশোধন আনা হয়। প্রত্যক্ষ করের ৪ জন এবং পরোক্ষ করের ৪ জন মোট ৮ জন সদস্য ও ১ জন চেয়ারম্যান সমন্বয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গঠিত। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব পদাধিকারবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান। সদস্যগণের পদমর্যাদা পদাধিকার বলে অতিরিক্ত সচিব এর সমান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে দপ্তর, অধিদপ্তর/পরিদপ্তরের মোট সংখ্যা ৪৫। প্রত্যক্ষ কর সম্পৃক্ত দপ্তরের সংখ্যা ২৫। তন্মধ্যে প্রত্যক্ষ কর রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত দপ্তরের সংখ্যা ১৮। অবশিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে ৫টি আপীল কার্যক্রম, ১টি প্রশিক্ষণ একাডেমী, ১টি পরিদর্শন ও ১টি জরিপ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। পরোক্ষ কর সম্পৃক্ত দপ্তরের সংখ্যা ২০। তন্মধ্যে পরোক্ষ কর রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত দপ্তরের সংখ্যা ১৪। অবশিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে ১টি আপিল, ১টি গোয়েন্দা ও তদন্ত, ১টি পরিদর্শন, ১টি রেয়াত ও প্রত্যর্পণ, ১টি প্রশিক্ষণ এবং ১টি পণ্য মূল্যায়ন (ভ্যালুয়েশন) দপ্তর রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক অনুবিভাগের অধীনস্থ বিভাগসমূহ দেশের সামগ্রিক আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়নসহ যাবতীয় কার্যক্রম বিভিন্ন আইনের বিধান প্রয়োগ, প্রক্রিয়া, পরিবীক্ষণ ও বাস্তবায়ন করে থাকে। শুল্ক আহরণ প্রধান দায়িত্ব হলেও বিভিন্ন আইনের বিধান প্রয়োগসহ বাণিজ্য উদারীকরণ ও সহজীকরণ এসব বিভাগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। দেশব্যাপি ৪টি কাস্টমস হাউস, ১টি বন্ড কমিশনারেট, ১টি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ১টি শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট এবং দেশের বিভিন্নস্থানে অবস্থিত মোট ২৮টি কার্যকর স্থল শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে মূল্য সংযোজন কর অনুবিভাগের অধীন দেশব্যাপী অবস্থিত ২টি অধিদপ্তর এবং ৮টি মূসক কমিশনারেট এর আওতাভুক্ত ৩০টি বিভাগ ও ১১২টি সার্কেল কার্যালয় রয়েছে। একটি আধুনিক, করদাতা বান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও গতিশীল রাজস্ব প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, দেশীয় উৎস হতে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং দেশের শিল্পোন্নয়ন, ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখাতে মূল্য সংযোজন কর অনুবিভাগের কর্মপরিধি পরিব্যাপ্ত। প্রত্যক্ষ কর অর্থাৎ আয়কর অনুবিভাগের অধীনে দেশব্যাপী ১৮টি অধিক্ষেত্রভুক্ত কর অঞ্চল এবং ৫টি আপীলাত কর অঞ্চল এবং ২টি পরিদপ্তর রয়েছে। ১৮টি অধিক্ষেত্রভুক্ত কর অঞ্চলের অধীনে মোট ৩০৩টি সার্কেল রয়েছে। আয়কর আইন যথাযথ পরিপালন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের শিল্প ও বাণিজ্যকে সহায়তা প্রদানসহ আয়ের বৈষম্য নিরসনের মাধ্যমে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার অবদান রাখা আয়কর অনুবিভাগের অন্যতম কর্তব্য।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে করদাতাদের তথ্য সংগ্রহ; গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর এবং শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে ও শুল্ক-কর ফাঁকি রোধে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্তের কাজ; প্রাপ্ত তথ্যাদি ও করদাতাদের আয়কর রেকর্ড বিশ্লেষণ; করদাতাদের আয়কর পরিহার, আয়গোপন ও আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী অপরাধসমূহ সনাক্তকরণ; কর পরিহার, আয়গোপন, আয়কর সংক্রান্ত যে কোন অনিয়ম, কর জালিয়াতি ইত্যাদি বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, জরিমানা আদায় ও প্রয়োজন বোধে ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগ বোর্ডের অধীনস্থ মাঠ পর্যায়ের দপ্তর হতে রাজস্ব আয় সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহপূর্বক বিন্যাস, সমন্বয় ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করে। [মোহাম্মদ আবদুল মজিদ]