চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(Added Ennglish article link)
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
(একই ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত একটি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না)
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
[[Category:বাংলাপিডিয়া]]
'''চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়'''  চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেপূর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার ১৭৫৩.৮৮ একর পাহাড়ি ভূমিতে অবস্থিত দেশের তৃতীয় বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু।
'''চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়''' চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার ১৭৫৩.৮৮ একর পাহাড়ি ভূমিতে অবস্থিত দেশের তৃতীয় বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু।
 
বিশ শতকের প্রথম থেকেই চট্টগ্রামের বিদ্বৎসমাজ স্থানীয়ভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করছিল। ১৯৪০ সালের ২৮ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে মওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী চট্টগ্রামে একটি ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি চট্টগ্রামের  [[আনোয়ারা উপজেলা|আনোয়ারা উপজেলা]]র দেয়াং পাহাড়ে ভূমিও ক্রয় করেন। ১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি  নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করেন।
[[Image:ChittagongUniversity.jpg|thumb|right|400px|চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ]]
 
বিশ শতকের প্রথম থেকেই চট্টগ্রামের বিদ্বৎসমাজ স্থানীয়ভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করছিল। ১৯৪০ সালের ২৮ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে মওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী চট্টগ্রামে একটি ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে ভূমিও ক্রয় করেন। ১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করেন।
[[Image:ChittagongUniversity.jpg|thumb|right|চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ]]


পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রামে একটি ‘বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত চট্টগ্রাম সরকারি কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য ক্যাম্পাস হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬২ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীকালে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রামে একটি ‘বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত চট্টগ্রাম সরকারি কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য ক্যাম্পাস হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬২ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীকালে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।


[[Image:ChittagongUniversityCentralLibrariy.jpg|thumb|right|চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি]]
চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের স্থানে পূর্ব-পাকিস্তানের তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হওয়ার পর, ১৯৬১ সালের ৭ মে চট্টগ্রামের বিদ্ব্যৎ সমাজের উদ্যোগে স্থানীয় মুসলিম হলে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে ড. [[শহীদুল্লাহ, মুহম্মদ|মুহম্মদ শহীদুল্লাহ]] চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন। পরবর্তীকালে এই ধারায় ১৯৬২ সালে ৩০ ডিসেম্বর ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। এই সকল সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান, পত্রপত্রিকায় বিবৃতি, সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে থাকে। সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৬২ সালের ৯ ডিসেম্বর লালদিঘী ময়দানে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৯৬৩ সালের ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
 
# #চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের স্থানে পূর্ব-পাকিস্তানের তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হওয়ার পর, ১৯৬১ সালের ৭ মে চট্টগ্রামের বিদ্ব্যৎ সমাজের উদ্যোগে স্থানীয় মুসলিম হলে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে ড.  [[শহীদুল্লাহ, মুহম্মদ|মুহম্মদ শহীদুল্লাহ]] চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন। পরবর্তীকালে এই ধারায় ১৯৬২ সালে ৩০ ডিসেম্বর ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। এই সকল সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান, পত্রপত্রিকায় বিবৃতি, সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে থাকে। সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৬২ সালের ৯ ডিসেম্বর লালদিঘী ময়দানে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৯৬৩ সালের ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।
[[Image:ChittagongUniversityCentralLibrariy.jpg|thumb|400px|left|চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি]]
 
এদিকে ১৯৬৩ সালের ২৯ নভেম্বর ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার মনোনীত হন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের অনুপস্থিতিতে ১৯৬৩ সালের ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রীসভার বৈঠকে সভাপতিত্বকালে ফজলুল কাদের চৌধুরী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এ.টি.এম মোস্তফাকে পূর্ব-পাকিস্তানের তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রামে স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। এরপর [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়|ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]]-এর উপাচার্য ড. এম ওসমান গণিকে চেয়ারম্যান এবং [[কুদরাত-এ-খুদা, মুহম্মদ|মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা]] ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এম ফেরদৌস খান ও ড. [[আহমদ, মফিজউদ্দীন|মফিজউদ্দীন আহমদ]]-কে সদস্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’ গঠন করা হয়। কমিশন সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার নির্জন পাহাড়ি ভূমিকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে সুপারিশ করে। ১৯৬৪ সালের ১৭-১৯ জুলাই অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইসলামাবাদে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত এবং এতৎসংক্রান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
 
এদিকে ১৯৬৩ সালের ২৯ নভেম্বর ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার মনোনীত হন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের অনুপস্থিতিতে ১৯৬৩ সালের ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রীসভার বৈঠকে সভাপতিত্বকালে ফজলুল কাদের চৌধুরী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এ.টি.এম মোস্তফাকে পূর্ব-পাকিস্তানের তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রামে স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এম ওসমান গণিকে চেয়ারম্যান এবং ড. [[কুদরাত-এ-খুদা, মুহম্মদ|কুদরাত]][[কুদরাত-এ-খুদা, মুহম্মদ|-এ]][[কুদরাত-এ-খুদা, মুহম্মদ|-খুদা]], ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এম ফেরদৌস খান ও ড.  [[আহমদ, মফিজউদ্দীন|মফিজউদ্দীন আহমদ]]-কে সদস্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’ গঠন করা হয়। কমিশন সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপূর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার নির্জন পাহাড়ি ভূমিকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে সুপারিশ করে। ১৯৬৪ সালের ১৭-১৯ জুলাই অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইসলামাবাদে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত এবং এতৎসংক্রান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
 
১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ও বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রাক্তন কিউরেটর ড. আজিজুর রহমান মল্লিককে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রকল্প-পরিচালক’ নিযুক্ত করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩নং সড়কের ‘কাকাসান’ নামের একটি ভবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের অফিস স্থাপন করেন। ১৯৬৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর এক সরকারি প্রজ্ঞাপন বলে তৎকালীন পাকিস্তান শিক্ষা পরিদপ্তরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমস্ত কর্মকর্তাকর্মচারীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অফিসে বদলি করা হয়। স্থপতি মাজহারুল ইসলামের ‘বাস্তকলা’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাষ্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১টি দ্বিতল প্রশাসনিক ভবন, বিভাগীয় অফিস, শ্রেণিকক্ষ ও লাইব্রেরির জন্য একতলা ভবন তৈরি করা হয়। শিক্ষক ও ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়।
 
[[Image:ChittagongUniversityShahidMinar.jpg|thumb|right|চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার]]


১৯৬৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ড.  [[মল্লিক, এ.আর|এ]][[মল্লিক, এ.আর|.আর মল্লিক]]কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভোধন করেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল মোনেম খান। প্রথমে কলা অনুষদের অন্তর্গত বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতি বিভাগে ২০০ জন শিক্ষার্থী এবং ৭ জন শিক্ষক নিয়ে ১৯৬৬ সালের ২৮ নভেম্বর এম.এ প্রথমপর্ব (প্রিলিমিনারি) ক্লাস শুরু হয়।
১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ও বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রাক্তন কিউরেটর ড. আজিজুর রহমান মল্লিককে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রকল্প-পরিচালক’ নিযুক্ত করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩নং সড়কের ‘কাকাসান’ নামের একটি ভবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের অফিস স্থাপন করেন। ১৯৬৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর এক সরকারি প্রজ্ঞাপন বলে তৎকালীন পাকিস্তান শিক্ষা পরিদপ্তরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অফিসে বদলি করা হয়। স্থপতি মাজহারুল ইসলামের ‘বাস্তুকলা’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১টি দ্বিতল প্রশাসনিক ভবন, বিভাগীয় অফিস, শ্রেণিকক্ষ ও লাইব্রেরির জন্য একতলা ভবন তৈরি করা হয়। শিক্ষক ও ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়।
[[Image:ChittagongUniversityShahidMinar.jpg|thumb|400px|right|চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার]]
১৯৬৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ড. এ.আর মল্লিককে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল মোনেম খান। প্রথমে কলা অনুষদের অন্তর্গত বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতি বিভাগে ২০০ জন শিক্ষার্থী এবং ৭ জন শিক্ষক নিয়ে ১৯৬৬ সালের ২৮ নভেম্বর এম.এ প্রথম পর্ব (প্রিলিমিনারি) ক্লাস শুরু হয়।


ড. আব্দুল করিম ইতিহাস বিভাগের প্রধান ও রিডার, ড. জাকিউদ্দিন আহম্মেদ সিনিয়র লেকচারার, আবুল কালাম মঞ্জুর মোর্শেদ বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার, মোহাম্মদ আলী ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও রিডার এবং ড. শফিউল আলম অর্থনীতি বিভাগের রিডার ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পূর্ণ অধ্যাপক নিযুক্ত হন অধ্যাপক  [[আহসান, সৈয়দ আলী|সৈয়দ আলী আহসান]]।
ড. আব্দুল করিম ইতিহাস বিভাগের প্রধান ও রিডার, ড. জাকিউদ্দিন আহম্মেদ সিনিয়র লেকচারার, আবুল কালাম মঞ্জুর মোর্শেদ বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার, মোহাম্মদ আলী ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও রিডার এবং ড. শফিউল আলম অর্থনীতি বিভাগের রিডার ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পূর্ণ অধ্যাপক নিযুক্ত হন অধ্যাপক [[আহসান, সৈয়দ আলী|সৈয়দ আলী আহসান]]।


১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন সকল ডিগ্রি কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত করা হয়। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ৫টি বিভাগ রাজনীতি বিজ্ঞান, বাণিজ্য, সমন্বিত গণিত, পরিসংখ্যান, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা চালু করা হয়। ১৯৭০ সালে চালু হয় সমাজতত্ত্ব ও চারুকলা বিভাগ। ১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতিতে ৩ বৎসরের স্নাতক (সম্মান) কোর্স শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে বিজ্ঞান অনুষদ এবং ১৯৭১ সালে সমাজবিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন সকল ডিগ্রি কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত করা হয়। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ৫টি বিভাগ রাজনীতি বিজ্ঞান, বাণিজ্য, সমন্বিত গণিত, পরিসংখ্যান, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা চালু করা হয়। ১৯৭০ সালে চালু হয় সমাজতত্ত্ব ও চারুকলা বিভাগ। ১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতিতে ৩ বৎসরের স্নাতক (সম্মান) কোর্স শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে বিজ্ঞান অনুষদ এবং ১৯৭১ সালে সমাজবিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয়।


বর্তমানে (২০১০) বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদ- কলা, বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, সমাজবিজ্ঞান, আইন ও জীববিজ্ঞান; ৪টি ইনস্টিটিউট- ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারীজ, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, সমাজবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট; ১টি অধিভুক্ত অনুষদ- চিকিৎসা অনুষদ; ২টি অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট- ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফ থালমোলজি, ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেল্থ এবং ১১টি অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে।
বর্তমানে (২০২১) বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদ- কলা, বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, সমাজবিজ্ঞান, সামুদ্রিক বিজ্ঞান, শিক্ষা, প্রকৌশল, আইন ও জীববিজ্ঞান; ৪টি ইনস্টিটিউট- ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, সমাজবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট; ১টি অধিভুক্ত অনুষদ- চিকিৎসা অনুষদ; ২টি অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট- ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি, ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেল্থ এবং ১১টি অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে।


বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে একাধিক অনুষদের অধীনস্থ কোর্স হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পাঠ দান ও পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করে। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যথাক্রমে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী (ভাটিয়ারী), বাংলাদেশ মেরিন একাডেমী (পতেঙ্গা), বাংলাদেশ বন মহাবিদ্যালয় (ষোলশহর), চারুকলা কলেজ ও নেভাল একাডেমী (পতেঙ্গা)।
বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে একাধিক অনুষদের অধীনস্থ কোর্স হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করে। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যথাক্রমে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (ভাটিয়ারী), বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (পতেঙ্গা), বাংলাদেশ বন মহাবিদ্যালয় (ষোলশহর), চারুকলা কলেজ ও নেভাল একাডেমি (পতেঙ্গা)।


বর্তমানে বিভিন্ন অনুষদের অর্ন্তভুক্ত ৩৬টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, ডিভিএম, ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া এম.ফিল, পিএইচ.ডি, এম.ডি এবং এমপি.এইচ উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বর্তমানে বিভিন্ন অনুষদের অর্ন্তভুক্ত ৫৪টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, ডিভিএম, ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া এম.ফিল, পিএইচ.ডি, এম.ডি এবং এমপি.এইচ উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাকর্মচারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ উপাচার্য ড. এ.আর মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষক, ১১ জন ছাত্র এবং ৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী শহীদ হন। যুদ্ধে বীরত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেন ‘বীর প্রতীক’  খেতাবে ভূষিত হন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাকর্মচারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ উপাচার্য ড. [[মল্লিক, এ.আর|এ]][[মল্লিক, এ.আর|.আর মল্লিক]]-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষক, ১১ জন ছাত্র এবং ৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী শহীদ হন। যুদ্ধে বীরত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেন ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা পত্রিকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ, বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত পান্ডুলিপি, ইতিহাস বিভাগ থেকে প্রকাশিত ইতিহাস পত্রিকা এবং অর্থনীতি বিভাগ থেকে ইকনমিক ইকো পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি বেশ সমৃদ্ধ। এ গ্রন্থাগারে প্রায় ৩ লক্ষের অধিক বই এবং ৩,৫০০ বিভিন্ন ধরণের পত্রপত্রিকা এবং ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে।  [[গ্রন্থাগার|গ্রন্থাগার]] ভবনের একাংশে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর এতদঞ্চলের বহু পুরাকীর্তির সংরক্ষণ করছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা পত্রিকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ, বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত পান্ডুলিপি, ইতিহাস বিভাগ থেকে প্রকাশিত ইতিহাস পত্রিকা এবং অর্থনীতি বিভাগ থেকে ইকনমিক ইকো পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি বেশ সমৃদ্ধ। এ গ্রন্থাগারে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজারের অধিক বই এবং ৩,৫০০ বিভিন্ন ধরনের পত্রপত্রিকা এবং ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। গ্রন্থাগার ভবনের একাংশে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর এতদঞ্চলের বহু পুরাকীর্তির সংরক্ষণ করছে। গ্রন্থাগারটিতে জাতির পিতাকে উৎসর্গ করে একটি বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হয়েছে।


পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড,  [[খেলাধুলা|খেলাধুলা]], বিতর্ক প্রতিযোগিতা, [[বাংলাদেশ জাতীয় ক্যাডেট কোর|বিএনসিসি]],  [[রোভার স্কাউট|রোভার স্কাউট]]-সহ বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কর্মকান্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে।
গবেষণা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্বমানের গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইটি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড, কেমব্রিজ, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং কিংস কলেজ লন্ডন থেকে সম্মানজনক বৃত্তি পেয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা এখন গুগল, ফেসবুক, ইন্টেল, মাইক্রোসফট, উবার, এনআইএইচ, এনসিআই, এফডিএ, টেসলা, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট এবং ফোর্ড সহ শীর্ষ কর্পোরেট, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করছে।


বর্তমানে (২০১০) বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি আবাসিক হল, ১টি হোস্টেল এবং শিক্ষকশিক্ষিকা ও কর্মকর্তাকর্মচারীদের আবাসিক ভবন রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ১৮,৭৮১, শিক্ষকশিক্ষিকার সংখ্যা ৬৪৮ এবং কর্মকর্তাকর্মচারীর সংখ্যা ১৯৪৭।
পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড,  খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিএনসিসি,  রোভার স্কাউট-সহ বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কর্মকান্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে।
বর্তমানে (২০২১) বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪টি আবাসিক হল, ১টি হোস্টেল এবং শিক্ষকশিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসিক ভবন রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ২৭,০০০ এর অধিক, শিক্ষকশিক্ষিকার সংখ্যা ৯০০ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারির সংখ্যা ১১৮২।


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। এর আগে ১৯৮১ সালে একটি বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই  সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববরেণ্য পদার্থবিদ ও নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালামকে সম্মানসূচক ডি.এসসি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে  [[ইসলাম, কাজী নজরুল|কাজী নজরুল ইসলাম]]এর নামে একটি বিশেষ অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। [ফয়েজুল আজিম]
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। এর আগে ১৯৮১ সালে একটি বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই  সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববরেণ্য পদার্থবিদ ও নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালামকে সম্মানসূচক ডি.এসসি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে [[ইসলাম, কাজী নজরুল|কাজী নজরুল ইসলাম]]-এর নামে একটি বিশেষ অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। [ফয়েজুল আজিম]


[[en:University of Chittagong]]
[[en:University of Chittagong]]

১৩:০২, ২০ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তরে হাটহাজারী থানার ফতেপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার ১৭৫৩.৮৮ একর পাহাড়ি ভূমিতে অবস্থিত দেশের তৃতীয় বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ

বিশ শতকের প্রথম থেকেই চট্টগ্রামের বিদ্বৎসমাজ স্থানীয়ভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করছিল। ১৯৪০ সালের ২৮ ডিসেম্বর কলকাতায় অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সর্বভারতীয় সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে মওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী চট্টগ্রামে একটি ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে ভূমিও ক্রয় করেন। ১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করেন।

পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রামে একটি ‘বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত চট্টগ্রাম সরকারি কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য ক্যাম্পাস হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬২ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীকালে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের স্থানে পূর্ব-পাকিস্তানের তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হওয়ার পর, ১৯৬১ সালের ৭ মে চট্টগ্রামের বিদ্ব্যৎ সমাজের উদ্যোগে স্থানীয় মুসলিম হলে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে ড. . মুহম্মদ শহীদুল্লাহ চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করেন। পরবর্তীকালে এই ধারায় ১৯৬২ সালে ৩০ ডিসেম্বর ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। এই সকল সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান, পত্রপত্রিকায় বিবৃতি, সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে থাকে। সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ১৯৬২ সালের ৯ ডিসেম্বর লালদিঘী ময়দানে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৯৬৩ সালের ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

এদিকে ১৯৬৩ সালের ২৯ নভেম্বর ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার মনোনীত হন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের অনুপস্থিতিতে ১৯৬৩ সালের ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রীসভার বৈঠকে সভাপতিত্বকালে ফজলুল কাদের চৌধুরী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এ.টি.এম মোস্তফাকে পূর্ব-পাকিস্তানের তৃতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি চট্টগ্রামে স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য ড. এম ওসমান গণিকে চেয়ারম্যান এবং মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এম ফেরদৌস খান ও ড. মফিজউদ্দীন আহমদ-কে সদস্য করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’ গঠন করা হয়। কমিশন সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার নির্জন পাহাড়ি ভূমিকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে সুপারিশ করে। ১৯৬৪ সালের ১৭-১৯ জুলাই অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইসলামাবাদে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত এবং এতৎসংক্রান্ত চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ূব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

১৯৬৫ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ও বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রাক্তন কিউরেটর ড. আজিজুর রহমান মল্লিককে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রকল্প-পরিচালক’ নিযুক্ত করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম শহরের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩নং সড়কের ‘কাকাসান’ নামের একটি ভবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পের অফিস স্থাপন করেন। ১৯৬৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর এক সরকারি প্রজ্ঞাপন বলে তৎকালীন পাকিস্তান শিক্ষা পরিদপ্তরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অফিসে বদলি করা হয়। স্থপতি মাজহারুল ইসলামের ‘বাস্তুকলা’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১টি দ্বিতল প্রশাসনিক ভবন, বিভাগীয় অফিস, শ্রেণিকক্ষ ও লাইব্রেরির জন্য একতলা ভবন তৈরি করা হয়। শিক্ষক ও ছাত্রদের আবাসনের ব্যবস্থাও করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার

১৯৬৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ড. এ.আর মল্লিককে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আব্দুল মোনেম খান। প্রথমে কলা অনুষদের অন্তর্গত বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতি বিভাগে ২০০ জন শিক্ষার্থী এবং ৭ জন শিক্ষক নিয়ে ১৯৬৬ সালের ২৮ নভেম্বর এম.এ প্রথম পর্ব (প্রিলিমিনারি) ক্লাস শুরু হয়।

ড. আব্দুল করিম ইতিহাস বিভাগের প্রধান ও রিডার, ড. জাকিউদ্দিন আহম্মেদ সিনিয়র লেকচারার, আবুল কালাম মঞ্জুর মোর্শেদ বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার, মোহাম্মদ আলী ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও রিডার এবং ড. শফিউল আলম অর্থনীতি বিভাগের রিডার ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পূর্ণ অধ্যাপক নিযুক্ত হন অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান

১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন সকল ডিগ্রি কলেজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত করা হয়। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ৫টি বিভাগ রাজনীতি বিজ্ঞান, বাণিজ্য, সমন্বিত গণিত, পরিসংখ্যান, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যা চালু করা হয়। ১৯৭০ সালে চালু হয় সমাজতত্ত্ব ও চারুকলা বিভাগ। ১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অর্থনীতিতে ৩ বৎসরের স্নাতক (সম্মান) কোর্স শুরু হয়। ১৯৬৯ সালে বিজ্ঞান অনুষদ এবং ১৯৭১ সালে সমাজবিজ্ঞান ও বাণিজ্য অনুষদ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে (২০২১) বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদ- কলা, বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, সমাজবিজ্ঞান, সামুদ্রিক বিজ্ঞান, শিক্ষা, প্রকৌশল, আইন ও জীববিজ্ঞান; ৪টি ইনস্টিটিউট- ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস, সমাজবিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট; ১টি অধিভুক্ত অনুষদ- চিকিৎসা অনুষদ; ২টি অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট- ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজি, ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেল্থ এবং ১১টি অধিভুক্ত কলেজ রয়েছে।

বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষা কার্যক্রমের অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে একাধিক অনুষদের অধীনস্থ কোর্স হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করে। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে যথাক্রমে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (ভাটিয়ারী), বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি (পতেঙ্গা), বাংলাদেশ বন মহাবিদ্যালয় (ষোলশহর), চারুকলা কলেজ ও নেভাল একাডেমি (পতেঙ্গা)।

বর্তমানে বিভিন্ন অনুষদের অর্ন্তভুক্ত ৫৪টি বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর, এমবিবিএস, ডিভিএম, ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া এম.ফিল, পিএইচ.ডি, এম.ডি এবং এমপি.এইচ উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাকর্মচারীরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ উপাচার্য ড. .আর মল্লিক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষক, ১১ জন ছাত্র এবং ৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী শহীদ হন। যুদ্ধে বীরত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেন ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা পত্রিকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ, বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত পান্ডুলিপি, ইতিহাস বিভাগ থেকে প্রকাশিত ইতিহাস পত্রিকা এবং অর্থনীতি বিভাগ থেকে ইকনমিক ইকো পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি বেশ সমৃদ্ধ। এ গ্রন্থাগারে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজারের অধিক বই এবং ৩,৫০০ বিভিন্ন ধরনের পত্রপত্রিকা এবং ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে। গ্রন্থাগার ভবনের একাংশে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর এতদঞ্চলের বহু পুরাকীর্তির সংরক্ষণ করছে। গ্রন্থাগারটিতে জাতির পিতাকে উৎসর্গ করে একটি বঙ্গবন্ধু কর্নার করা হয়েছে।

গবেষণা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্বমানের গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইটি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড, কেমব্রিজ, মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন এবং কিংস কলেজ লন্ডন থেকে সম্মানজনক বৃত্তি পেয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্ররা এখন গুগল, ফেসবুক, ইন্টেল, মাইক্রোসফট, উবার, এনআইএইচ, এনসিআই, এফডিএ, টেসলা, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট এবং ফোর্ড সহ শীর্ষ কর্পোরেট, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করছে।

পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট-সহ বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কর্মকান্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে। বর্তমানে (২০২১) বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪টি আবাসিক হল, ১টি হোস্টেল এবং শিক্ষকশিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আবাসিক ভবন রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ২৭,০০০ এর অধিক, শিক্ষকশিক্ষিকার সংখ্যা ৯০০ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারির সংখ্যা ১১৮২।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। এর আগে ১৯৮১ সালে একটি বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববরেণ্য পদার্থবিদ ও নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী আবদুস সালামকে সম্মানসূচক ডি.এসসি ডিগ্রি প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজী নজরুল ইসলাম-এর নামে একটি বিশেষ অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। [ফয়েজুল আজিম]