চট্টগ্রাম পালি কলেজ


চট্টগ্রাম পালি কলেজ  বৌদ্ধধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৯৩৯ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন অগ্গমহাপন্ডিত  ধর্মবংশ মহাস্থবির। প্রতিষ্ঠা বছরেই তাঁর মৃত্যু হলে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পন্ডিত দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান মহাথের। তিনি আমৃত্যু এ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তাই তাঁর কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ কলেজের নতুন নামকরণ করা হয় ‘দীপঙ্কর পালি কলেজ’।

কলেজটি  চট্টগ্রাম শহরের বৌদ্ধমন্দির সড়কস্থ এনায়েত বাজার এলাকায় অবস্থিত। একটি তিনতলা ভবনের চারটি শ্রেণীকক্ষে ছাত্রদের পাঠদান করা হয়। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক এ কলেজ পরিচালিত হয়। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পরিচালনা পরিষদ নবায়ন করার সরকারি বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে টোল ও কলেজগুলির প্রশাসনিক ও শিক্ষা কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। এটি একটি অবৈতনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে সরকারি অনুদান এবং বিদ্যোৎসাহী দানশীল ব্যক্তিবর্গের বদান্যতায় কলেজের আর্থিক প্রয়োজন মেটানো হয়। ছাত্রছাত্রীদের অধ্যয়নের সুবিধার জন্য কলেজে রয়েছে ‘চিন্তামণি লাইব্রেরি’ নামে একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ পাঠাগার এবং একটি মিউজিয়াম। ন্যূনপক্ষে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীরাই এ কলেজে ভর্তি হতে পারে। শিক্ষার বিষয় পালি  ত্রিপিটক। ত্রিপিটকের সুত্ত বিভাগ, বিনয় বিভাগ ও অভিধম্ম বিভাগে আদ্য, মধ্য ও উপাধি শ্রেণীতে তিন বছর মেয়াদি ভিন্ন ভিন্ন কোর্স চালু আছে। যেকোনো একটি বিভাগে তিন বছর অধ্যয়ন করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সে বিষয়ে তাকে ‘বিশারদ’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। ‘উপাধি’ ডিগ্রিধারী ব্যক্তি সাধারণ শিক্ষাপদ্ধতিতে স্নাতক ডিগ্রিধারীর সমতুল্য। এরপর তারা সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে  স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হতে পারে। কলেজে বর্তমানে চারজন অধ্যাপক এবং ২৫০জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অধ্যক্ষ পরিচালনা পরিষদের সম্পাদক হিসেবে উভয় দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ শতকের প্রথম ভাগে চট্টগ্রাম পালি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে ওই অঞ্চলের বৌদ্ধদের মধ্যে শিক্ষাসংস্কৃতি চর্চার প্রতি বিপুল আগ্রহের সৃষ্টি হয়। একে কেন্দ্র করে  বৌদ্ধধর্ম ও  পালি ভাষা-সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য চর্চা হয়। বিগত বছরগুলিতে এ কলেজ থেকে পাস করে বহু কীর্তিমান ছাত্রছাত্রী সমাজের বিভিন্ন স্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। বৌদ্ধদের মধ্যে ত্রিপিটক শিক্ষাদানের মাধ্যমে সমাজ থেকে কুসংস্কার দূরীকরণ এবং সুখী ও সমৃদ্ধিশালী সমাজ গঠনে এ কলেজের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।  [রেবতপ্রিয় বড়ুয়া]