কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট


কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (Central Extension Resources Development Institute)  কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের একটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। ১৯৭৫ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ১৯৭৬ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং জাপান সরকারের যৌথ সহযোগিতায় ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইনস্টিটিউটের ২০ হেক্টর জমির মধ্যে প্রায় ৯ হেক্টর খামার প্রকল্প ও মাঠ পর্যায়ের গবেষণার জন্য রক্ষিত। এ ছাড়া উপযুক্ত সম্প্রসারণ পদ্ধতি ও মাধ্যম উন্নয়নের জন্য ইনস্টিটিউটের অধীনে জয়দেবপুরের তিনটি প্রধান ইউনিট কার্যালয়ে তিনটি কমিউনিটি উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলি এক সময় মাঠ পর্যায়ের গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহূত হতো, কিন্তু পরবর্তী সময়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের খাদ্যশস্য শাখার নিকট হস্তান্তরিত হয়।

১৯৮৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের যৌথ প্রকল্প হিসেবে ইনস্টিটিউটটি পরিচালিত হয়েছে। ১৯৮৩ সালের শেষভাগে জাপানি সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমগুলি পুনর্বিন্যাস করা হয় এবং ১৯৮৪ সালের ২৭ জুন বিশেষ গেজেট ঘোষণায় তা পুর্নবন্টিত হয়।

বাংলাদেশ সরকার নিম্নলিখিত কার্যক্রম কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উপর ন্যস্ত করেছে ১. পরিকল্পনা, সংগঠন, পরিচালনা, পরামর্শ ও মূল্যায়ন (ক) প্রশিক্ষক হিসেবে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ; (খ) সম্প্রসারণ পদ্ধতি, এর সূচনা ও যোগাযোগ কৌশল সম্পর্কে সম্প্রসারণ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ; (গ) সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বি.সি.এস (কৃষি) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ; (ঘ) সম্প্রসারণ কাজে নিয়োজিত মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ। ২. প্রশিক্ষকদের ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ উপকরণ সামগ্রী উন্নয়ন; ৩. মাঠোপযোগী পরীক্ষার মাধ্যমে গবেষণা প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য গবেষণা ও সম্প্রসারণের মধ্যে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং খামার সরঞ্জামাদির ওপর প্রশিক্ষণ। ৪. প্রশিক্ষণ উপকরণ উন্নয়নের কাজে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকাগুলিতে সম্প্রসারণ কাজের বিভিন্ন পদ্ধতি পরীক্ষা।

কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ৪টি কার্যকর ইউনিট আছে- সমন্বয়কারী ইউনিট, খামার সরঞ্জাম অভিযোজন ইউনিট, প্রশিক্ষণ উপকরণ উন্নয়ন ইউনিট এবং প্রশাসন ও অর্থসংস্থান ইউনিট। নির্বাহি পরিচালক হলেন এ ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং তাঁকে সহায়তা করেন ২২ জন টেকনিক্যাল কর্মকর্তা এবং ১১৯ সহযোগী কর্মচারী।

কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের রয়েছে যন্ত্রপাতিসজ্জিত গবেষণাগার, শ্রেণিকক্ষ, অডিও-ভিস্যুয়াল যন্ত্রপাতি, খামার-যন্ত্রপাতি, আবাসন, অফসেট ছাপাখানা, ফটো-প্রসেসিং ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার ও কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থাসহ পর্যাপ্ত ভৌত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও  বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে এ ইনস্টিটিউট সহযোগিতার মাধ্যমে মাঠোপযোগী পরীক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে যাতে মাঠ পর্যায়ের সম্প্রসারণ কাজে নিয়োজিত কর্মীরা উপযুক্ত প্রযুক্তির সুবিধা পায়। প্রতি বছর শত শত কর্মী কেন্দ্রীয় সম্প্রসারণ সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ লাভ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, সমন্বিত ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষকের প্রশিক্ষণ, মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ ও কৃষিঋণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, গ্রামীণ কারিগর প্রশিক্ষণ, বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রশিক্ষণ, শাকসবজি উৎপাদন প্রশিক্ষণ, গ্রামীণ যুবকদের প্রশিক্ষণ, গ্রামীণ নারীদের প্রশিক্ষণ, ফলশাকসবজি তোলার পর সেগুলির ব্যবস্থাপনা ও বিপণনের প্রশিক্ষণ এবং নার্সারি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ। [মোঃ শহীদুল ইসলাম]