কাদেরিয়া


কাদেরিয়া  একটি সুফি তরিকা। এ তরিকার উদ্ভব ষষ্ঠ হিজরিতে (বারো শতকে) এবং এর প্রবর্তক হযরত সায়্যিদ আবদুল কাদির জিলানী (র.) (মৃ. ৫৬১হি./১১৬৬খ্রি.)। তিনি ‘দারিদ্র্য আমার গর্ব’-এ তত্ত্ব অনুসরণ করেন। এ তরিকার দরবেশগণ ইবাদতের জন্য সর্বাপেক্ষা কঠোর অনুশীলন করেন এবং জাগতিক সকল প্রকার ভোগবিলাসিতা থেকে নিজেদের দূরে রাখেন। এ কারণে একে ফকিরি মতবাদও বলা হয়।

আবদুল কাদির জিলানী (র.) একজন সংস্কারক ছিলেন। তাঁর আবির্ভাবের সময় আববাসী সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ে। খ্রিস্টানরা জেরুযালেম দখল করে নেয় এবং ওই সময় প্রায়ই গুপ্তহত্যা সংঘটিত হতো। হযরত জিলানী (র.) মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন এবং ধর্ম প্রচারের জন্য নিয়মিত পাঠ ও বাণী দিতেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে: ফতহ-আল-রববানী, ক্বাসীদা এবং ফুতুহ-উল-গায়াব। শেষোক্ত গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন মৌলানা মোহাম্মদ হাসান। তাঁর বহু কেরামতির কথা বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।

হযরত জিলানী (র.) সব সময়ই শরী‘আতকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখেছেন। তিনি কখনো ইবাদতে মগ্ন থেকে  নামায বা ধর্মের নিয়ম-কানুনকে অবহেলা করেননি। তিনি তাঁর রোগশয্যায় মৃত্যুর পূর্বে  উযু করেন এবং নামায আদায় করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুদিবস ১১ রবিউস্সানিকে বলা হয় ফাতিহা-ই-ইয়াযদহম। এ দিবস বাংলাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়।

হযরত জিলানী (র.) প্রথমে তরিকাটি চালু করেন বাগদাদে। পরবর্তীকালে এটি এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশে (বিশেষত মিশর, মরক্কো, তুরস্ক এবং ভারতে) ছড়িয়ে পরে। তাঁর একজন শিষ্য আবদুর রাজ্জাক (র.) ১১৮০ হিজরিতে (১৭৬৬-৬৭ সালে) ভারতে আসেন। তাঁর বংশধররা প্রথমে মেদিনীপুর এবং পরে কলকাতায় বসবাস করেন। কাদেরিয়া তরিকাটি বাংলাদেশে বেশ প্রচলিত।   [মীর মোবাশ্বের আলী]