কসবা মসজিদ


কসবা মসজিদ  বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার অন্তর্গত কসবা গ্রামে অবস্থিত নয় গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। গ্রামটির অবস্থান বরিশাল-ফরিদপুর সড়কের মাত্র কয়েক গজ ভেতরে। মসজিদের সামনে এখন প্রায় শুকিয়ে যাওয়া পুকুরটি দেখে বোঝা যায় যে, এক সময় উযু করার জন্য এটি খনন করা হয়েছিল।

প্রচলিত রীতির বহুগম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদ ভালোভাবে পোড়ানো লাল ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ছাদের উপরের গম্বুজগুলি চারটে পাথরের স্তম্ভের উপর ভর করে তৈরি করা হয়েছে। দেয়ালগুলি প্রায় ২.৫ মিটার চওড়া। কোণের বৃত্তাকার বুরুজসমূহ ছাদ পর্যন্ত প্রলম্বিত। মসজিদের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে একটি করে মোট তিনটি খিলানপথ রয়েছে। প্রতি দেয়ালে রয়েছে তিনটি করে খিলান। এগুলির মধ্যে কেন্দ্রীয় খিলানটি অন্য দুটির চেয়ে বড়। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালের কেন্দ্রীয় খিলানগুলিই শুধু খোলা রয়েছে। বাকি খিলানগুলি ভরাট করে দেওয়া হয়েছে ইট দিয়ে। কিবলা দেয়ালের তিনটি মিহরাব-কুলুঙ্গি পূর্ব দেয়ালের খিলানগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হয়েছে।

মসজিদের অভ্যন্তরভাগ চারটি পাথরের স্তম্ভ দ্বারা নয়টি চতুষ্কোণ ‘বে’-তে বিভক্ত করা হয়েছে। চারটি পাথরের স্তম্ভের উপর স্থাপিত খিলানগুলিতে ভর করে মসজিদের নয়টি গম্বুজ নির্মিত হয়েছে। প্রতি বে-তে গম্বুজের ভিত্তির নিচে পরস্পর ছেদকারী খিলানগুলির চারটি ত্রিকোণাকার জায়গায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পেন্ডেন্টিভ অলঙ্করণ। চারকোণের বুরুজগুলির ভিত্তি কিছুটা বাঁকানো এবং চূড়া একেবারে সমান। ইমারতটির কার্ণিশ প্রচলিত বাঙালি রীতিতে কিছুটা বাঁকানো। মসজিদের অলংকরণে ছিল পোড়ামাটির বুটিদার নকশা, খাঁজ কাটা হীরক আকৃতির নকশা, প্যাঁচানো নকশা, শিকল নকশা এবং গোলাপ নকশা। বর্তমানে এগুলির নমুনা টিকে আছে মিহরাবের কুলুঙ্গিতে এবং দরজার খিলানে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক পুনর্গঠন ও সংস্কারের পরে বর্তমানে মসজিদটি বাংলার অন্যতম সু-সংরক্ষিত ইমারত হিসেবে চিহ্নিত এবং এখানে মুসল্লিগণ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন। এ মসজিদ নির্মাণের তারিখ সংযুক্ত কোনো শিলালিপি পাওয়া যায় নি। সাধারণভাবে বলা হয়ে থাকে যে, জনৈক সাবহি খান ষোল শতকের প্রথমদিকে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। অবশ্য নির্মাতার আর কোনো পরিচয় পাওয়া যায় না। কসবা মসজিদের ভূমি-নকশা, পরিমাপ, অভ্যন্তরীণ বিন্যাস, ছাদের উপর গম্বুজের অবস্থান, প্রবেশ দরজার অবস্থান ও অলংকরণ, চারকোণের বুরুজসমূহ প্রভৃতি দেখলে একে বাগেরহাটের খান জাহান নির্মিত নয়গম্বুজ মসজিদ এবং খুলনার মসজিদকুড় মসজিদ এর অনুকৃতি বলে মনে হবে। খান জাহানি স্থাপত্য রীতির সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠ মিল থাকায় মনে করা হয় যে,  খান জাহান কর্তৃক এ অঞ্চল মুসলিম অধিকারে আসার পর পনেরো শতকের মাঝামাঝি সময়ে কসবা মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।  [এম.এ বারি]