কবিতার্কিক: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
 
২ নং লাইন: ২ নং লাইন:
'''কবিতার্কিক''' (১৬শ-১৭শ শতক)  লক্ষ্মণমাণিক্যের সভাকবি (মতান্তরে পুরোহিত বা প্রধানমন্ত্রী), সংস্কৃত কবি। প্রকৃত নাম রঘুনাথ, ‘কবিতার্কিক’ তাঁর উপাধি। ষোল শতকের শেষভাগে নোয়াখালী জেলার শ্রীরামপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা বাণীনাথও ছিলেন একজন সংস্কৃত কবি।
'''কবিতার্কিক''' (১৬শ-১৭শ শতক)  লক্ষ্মণমাণিক্যের সভাকবি (মতান্তরে পুরোহিত বা প্রধানমন্ত্রী), সংস্কৃত কবি। প্রকৃত নাম রঘুনাথ, ‘কবিতার্কিক’ তাঁর উপাধি। ষোল শতকের শেষভাগে নোয়াখালী জেলার শ্রীরামপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা বাণীনাথও ছিলেন একজন সংস্কৃত কবি।


কৌতুকরত্নাকর নামে কবিতার্কিকের একটি একাঙ্ক সংস্কৃত প্রহসনের  [[doc_১০৩২২৮|পুথি]] পাওয়া গেছে। পুথিটি ১৯৯৭ সালে  [[doc_১০২৩১৯|ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]] থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। প্রহসনটির বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব হলো, এর প্রস্তাবনায়  [[doc_১০৪৩৫৭|ভুলুয়া]] এবং ভুলুয়ার মাণিক্য রাজবংশ সম্পর্কে অনেক দুর্লভ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, সে সময় ভুলুয়া ছিল বাংলার শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। রাজা  [[doc_১০৫৩৫১|লক্ষ্মণমাণিক্য]] এবং তাঁর পিতা গন্ধর্বমাণিক্যের শৌর্যবীর্য সম্পর্কেও অনেক তথ্য এতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। লক্ষ্মণমাণিক্যের রাজসভায় যে পঞ্চরত্ন ছিলেন, কবিতার্কিক ছিলেন তাঁদেরই একজন।  
কৌতুকরত্নাকর নামে কবিতার্কিকের একটি একাঙ্ক সংস্কৃত প্রহসনের  [[পুথি|পুথি]] পাওয়া গেছে। পুথিটি ১৯৯৭ সালে  [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়|ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]] থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। প্রহসনটির বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব হলো, এর প্রস্তাবনায়  [[ভুলুয়া|ভুলুয়া]] এবং ভুলুয়ার মাণিক্য রাজবংশ সম্পর্কে অনেক দুর্লভ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, সে সময় ভুলুয়া ছিল বাংলার শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। রাজা  [[লক্ষ্মণমাণিক্য|লক্ষ্মণমাণিক্য]] এবং তাঁর পিতা গন্ধর্বমাণিক্যের শৌর্যবীর্য সম্পর্কেও অনেক তথ্য এতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। লক্ষ্মণমাণিক্যের রাজসভায় যে পঞ্চরত্ন ছিলেন, কবিতার্কিক ছিলেন তাঁদেরই একজন।  


সাহিত্যবিচারেও কৌতুকরত্নাকরের গুরুত্ব রয়েছে। ঘটনা ও রচনারীতির দিক থেকে এর সঙ্গে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ-র অনেকাংশে মিল দেখা যায়। সমাজের উঁচু তলার লোকদের অন্দরমহলের ব্যভিচার এবং বিপথগামী গুরু-পুরোহিতদের চারিত্রিক স্খলন চমৎকারভাবে এতে তুলে ধরা হয়েছে।  [দুলাল ভৌমিক]
সাহিত্যবিচারেও কৌতুকরত্নাকরের গুরুত্ব রয়েছে। ঘটনা ও রচনারীতির দিক থেকে এর সঙ্গে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ-র অনেকাংশে মিল দেখা যায়। সমাজের উঁচু তলার লোকদের অন্দরমহলের ব্যভিচার এবং বিপথগামী গুরু-পুরোহিতদের চারিত্রিক স্খলন চমৎকারভাবে এতে তুলে ধরা হয়েছে।  [দুলাল ভৌমিক]

০৫:২০, ২৭ জুলাই ২০১৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ

কবিতার্কিক (১৬শ-১৭শ শতক)  লক্ষ্মণমাণিক্যের সভাকবি (মতান্তরে পুরোহিত বা প্রধানমন্ত্রী), সংস্কৃত কবি। প্রকৃত নাম রঘুনাথ, ‘কবিতার্কিক’ তাঁর উপাধি। ষোল শতকের শেষভাগে নোয়াখালী জেলার শ্রীরামপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা বাণীনাথও ছিলেন একজন সংস্কৃত কবি।

কৌতুকরত্নাকর নামে কবিতার্কিকের একটি একাঙ্ক সংস্কৃত প্রহসনের  পুথি পাওয়া গেছে। পুথিটি ১৯৯৭ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। প্রহসনটির বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব হলো, এর প্রস্তাবনায়  ভুলুয়া এবং ভুলুয়ার মাণিক্য রাজবংশ সম্পর্কে অনেক দুর্লভ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, সে সময় ভুলুয়া ছিল বাংলার শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। রাজা  লক্ষ্মণমাণিক্য এবং তাঁর পিতা গন্ধর্বমাণিক্যের শৌর্যবীর্য সম্পর্কেও অনেক তথ্য এতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। লক্ষ্মণমাণিক্যের রাজসভায় যে পঞ্চরত্ন ছিলেন, কবিতার্কিক ছিলেন তাঁদেরই একজন।

সাহিত্যবিচারেও কৌতুকরত্নাকরের গুরুত্ব রয়েছে। ঘটনা ও রচনারীতির দিক থেকে এর সঙ্গে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ-র অনেকাংশে মিল দেখা যায়। সমাজের উঁচু তলার লোকদের অন্দরমহলের ব্যভিচার এবং বিপথগামী গুরু-পুরোহিতদের চারিত্রিক স্খলন চমৎকারভাবে এতে তুলে ধরা হয়েছে।  [দুলাল ভৌমিক]