কবিতাকুসুমাবলী


কবিতাকুসুমাবলী  ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা কবিতা সাময়িকী। ১২৬৭ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসে (মে ১৮৬০) ঢাকার ‘বাঙ্গালা যন্ত্র’ থেকে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রথম বছর এর সম্পাদক ছিলেন  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার; তাঁর সঙ্গে ছিলেন হরিশ্চন্দ্র মিত্র ও প্রসন্নকুমার সেন। পত্রিকার প্রতি সংখ্যার মূল্য ছিল দেড় আনা। প্রথমদিকে এর আকার ছিল ‘রয়েল আটাংশির এক ফর্মা’, তৃতীয় সংখ্যা দুফর্মার এবং বারো সংখ্যাটি ছিল মোট ১৭২ পৃষ্ঠার।

পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্পাদক লিখেছেন: ‘বঙ্গীয় কবিতার উৎকর্ষসাধন ও বিশুদ্ধ কাব্যকলা প্রচার দ্বারা জনমন্ডলীর কল্যাণ বর্দ্ধনই এতৎ পত্রিকা প্রচারের উদ্দেশ্য।’ প্রথমদিকে এতে শুধু পদ্যই ছাপা হতো, পরে গদ্যও সংযোজিত হয়। প্রকাশকের মতে, পত্রিকার গ্রাহকসংখ্যা ছিল ৪০০। পত্রিকাটি সম্ভবত দুবছরের বেশি স্থায়ী হয়নি।  [মুনতাসীর মামুন]

কবিতার্কিক (১৬শ-১৭শ শতক)  লক্ষ্মণমাণিক্যের সভাকবি (মতান্তরে পুরোহিত বা প্রধানমন্ত্রী), সংস্কৃত কবি। প্রকৃত নাম রঘুনাথ, ‘কবিতার্কিক’ তাঁর উপাধি। ষোল শতকের শেষভাগে নোয়াখালী জেলার শ্রীরামপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা বাণীনাথও ছিলেন একজন সংস্কৃত কবি।

কৌতুকরত্নাকর নামে কবিতার্কিকের একটি একাঙ্ক সংস্কৃত প্রহসনের  পুথি পাওয়া গেছে। পুথিটি ১৯৯৭ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। প্রহসনটির বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব হলো, এর প্রস্তাবনায়  ভুলুয়া এবং ভুলুয়ার মাণিক্য রাজবংশ সম্পর্কে অনেক দুর্লভ তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে। এর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, সে সময় ভুলুয়া ছিল বাংলার শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। রাজা  লক্ষ্মণমাণিক্য এবং তাঁর পিতা গন্ধর্বমাণিক্যের শৌর্যবীর্য সম্পর্কেও অনেক তথ্য এতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। লক্ষ্মণমাণিক্যের রাজসভায় যে পঞ্চরত্ন ছিলেন, কবিতার্কিক ছিলেন তাঁদেরই একজন।

সাহিত্যবিচারেও কৌতুকরত্নাকরের গুরুত্ব রয়েছে। ঘটনা ও রচনারীতির দিক থেকে এর সঙ্গে মাইকেল মধুসূদন দত্তের বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ-র অনেকাংশে মিল দেখা যায়। সমাজের উঁচু তলার লোকদের অন্দরমহলের ব্যভিচার এবং বিপথগামী গুরু-পুরোহিতদের চারিত্রিক স্খলন চমৎকারভাবে এতে তুলে ধরা হয়েছে।  [দুলাল ভৌমিক]