আতাতুর্ক মডেল হাই স্কুল


আতাতুর্ক মডেল হাই স্কুল  ১৯৩৯ সালে প্রথমে মিডল ইংলিশ স্কুল নামে বর্তমান ফেনী জেলার দাগনভূঁঞায় প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন ফেনী মহকুমা অফিসার মিজানুর রহমান এলাকার বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। সহযোগিতাকারীদের অন্যতম ছিলেন আরিফুর রহমান চৌধুরী,  হামিদুল হক চৌধুরী, রায় বাহাদুর অম্বিতা চরণ রক্ষিত, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, খান বাহাদুর গোফরান, প্রকৌশলী কালী বর্মন মুখার্জী, ফজলুর রহমান ঠিকাদার, আবদুল গণি, খান বাহাদুর রেনু মিয়া, রমণী মজুমদার, শামসুল হক, ওবায়দুলাহ্, বগলা মুহুরী ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন আহমদ।

১৯৮১ সালের মার্চ মাসে তুর্কী রাষ্ট্রদূত মি. মেটিন সেরম্যান ও তুর্কী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইলতার তার্কম্যান এবং ২৪শে ডিসেম্বর ১৯৮২ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কেনান এভরেন বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন। পরবর্তীকালে প্রেসিডেন্ট কেনান প্রেরিত একটি টেকনিক্যাল টীমের সুপারিশের ভিত্তিতে তুরস্ক সরকারের অনুদানে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে  ৮ একর সম্পত্তির উপর বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে দ্বিতল প্রশাসন ভবন, দ্বিতল একাডেমিক ভবন, তিন তলা ছাত্রাবাস, সুসজ্জিত মিলনায়তন, মসজিদ ও প্রধান শিক্ষকের দ্বিতল বাসভবন।

কাজী ফজলুর রহমান সাবেক শিক্ষা সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, আমান উল্লাহ সাবেক সচিব, সাইফুল আলম সাবেক সচিব, আবদুর রব সাবেক সচিব, নজরুল ইসলাম সাবেক উপ-সচিব, মোস্তফা কামাল যুগ্ম সচিব, আব্দুল আউয়াল মিন্টু সাবেক সভাপতিএফবিসিসিআই, হাবিবউল্লাহ সাবেক চেয়ারম্যান ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, নুরুল হুদা সাবেক চীফ ইঞ্জিনিয়ার এলজিইডি, আব্দুল ওয়াহাব সি.এ, প্রফেসর এম সফিউল্লাহ সাবেক যুগ্ম সচিব, তায়বুল হক সাবেক অধ্যক্ষ, আবদুস সালাম ভাষা শহীদ, শশধর মজুমদার সাবেক মেয়র কলকাতা কর্পোরেশন, মজিবুল হায়দার চৌধুরী প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ন্যাশনাল ব্যাংক, শামসুজ্জোহা চৌধুরী সাবেক চীফ ইঞ্জিনিয়ার, নূরনবী চৌধুরী সাবেক এসপি ও মফিজুর রহমান সাবেক চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রমুখ কৃতবিদ্য ব্যক্তি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স হিসেবে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলার পেছনে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এই সকল প্রাক্তন ছাত্রের মধ্যে কাজী ফজলুর রহমান, হাবিবউল্লাহ, মজিবুল হায়দার চৌধুরী, আব্দুর রব, প্রফেসর এম সফিউল্লাহ, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, এ কে এম ওয়াজিউল্লাহ, আব্দুল ওয়াহাব ও বজলুর রহমান এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবুল বাশার ও সেক্রেটারি আনিসুর রহমান চৌধুরী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত, প্রাক্তন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ,এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, শিক্ষা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক শামসুল ইসলাম, ফেনী জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ও ন্যাশনাল ব্যাংক-এর সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবীর বিশেষ সহযোগিতা করেন। আতাতুর্ক মডেল হাইস্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন জালালউদ্দিন আহমেদ বিএবিটি। তিনি ১৯৩৯ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

সকল সরকারি বেসরকারি পরীক্ষা, রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানাদি, উপজেলা স্কাউটস্ কর্মকান্ড,  খেলাধুলা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতা এ স্কুল ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি জুনিয়র বৃত্তি  ও এস এস সি পরীক্ষায় ফেনী জেলার মধ্যে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে চলেছে। পুরুষ ১৫ জন ও মহিলা ৩ জন নিয়ে বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা মোট ১৮ জন। ছাত্র ৮৯২, ছাত্রী ১৪১ জন নিয়ে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১০৩৩ জন। শ্রেণিপ্রতি ৩০ জন ছাত্রী ভর্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন একটি বহুতল মার্কেট ভবন রয়েছে। বিদ্যালয়ের বাৎসরিক আয় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।

[এ.বি.এম মোহিববুর রহমান]