আইসিডিডিআর,বি


Mukbil (আলোচনা) কর্তৃক ১১:২২, ১২ জুন ২০১৪ পর্যন্ত সংস্করণে

(পরিবর্তন) ←পুর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ→ (পরিবর্তন)

আইসিডিডিআর.বি (ICDDR,B/আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) ঢাকা শহরের মহাখালীতে অবস্থিত চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা এবং সেবা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটির আন্তর্জাতিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৯ সালে, এর ইতিহাস শুরু ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে। ব্যতিক্রমধর্মী এ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্দীপনা যুগিয়েছে কলেরা নামের ভয়াবহ এক রোগ, যা দীর্ঘদিন ভারতীয় উপমহাদেশের বহু লক্ষ মানুষের প্রাণ সংহার করেছে। এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল সারা বছর এবং অনেক সময় তা ভয়াবহ মহামারী আকারে দেখা দিত। স্বভাবতই এ রোগের ওপর গবেষণা কাজ পরিচালনা করতে বিজ্ঞানীরা আকৃষ্ট হয়েছেন এবং বিশেষ করে ভিয়েতনাম যুদ্ধ এতে অতিরিক্ত উৎসাহের যোগান দিয়েছে। কমিউনিজম বিস্তাররোধে ১৯৫৬ সালে গঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় চুক্তি সংস্থা (SEATO) এ এলাকায় যুদ্ধরত আমেরিকান সেনাদের নিরাপত্তার জন্য কলেরা গবেষণায় সমর্থন দানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ওই সময় বর্তমান বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তানের একটি অংশ। তাই পাকিস্তান ও SEATO-এর সমন্বিত প্রকল্পের অধীনে ১৯৬০ সালে ঢাকায় স্থাপিত কলেরা গবেষণাগারের নাম ছিল ‘পাকিস্তান কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরি’ (PCRL)।

ঢাকা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত মতলব নামক স্থানে এ গবেষণা কেন্দ্রের মাঠ পর্যায়ের একটি গবেষণা কেন্দ্র আছে। প্রায় ২ লক্ষ জনবসতিসহ এ এলাকায় জনস্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি ও সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এখানে বিভিন্ন কলেরা টিকার কার্যকারিতার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়। সে সঙ্গে বিভিন্ন ঔষধ, পুষ্টি এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপরও গবেষণা পরিচালনা করা হয়।

আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের এক কমিটি ১৯৭৮ সালে কলেরা রিসার্চ ল্যাবরেটরিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট প্রস্তাব পেশ করে। প্রস্তাবটির অনুকূলে সাড়া দিয়ে সরকার জাতীয় সংসদের এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে CRL কে আন্তর্জাতিক এক গবেষণাগার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এর নাম দেওয়া হয় International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh (ICDDR,B)।

এ কেন্দ্র একটি অলাভজনক সংস্থা হিসেবে উদরাময় রোগ, পুষ্টি ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে গবেষণা পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত। এর প্রশাসনিক দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে একটি বোর্ড অব ট্রাস্টি-এর (Board of Trustees) উপর। এখানকার সব গবেষণাকর্ম একটি রিভিউ কমিটি (Research Review Committee) দ্বারা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ সরকার এবং অনেক আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর অনুদানে আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত হয়। প্রধান আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও অন্যান্যরা। অর্থসংস্থানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির মধ্যে UNDP, UNICEF, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব ব্যাংক, এবং ফোর্ড ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন ও সাসাওয়াকা ফাউন্ডেশনসহ কতকগুলি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।

এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় অবদান ওরস্যালাইন (Oral Rehydration Solution/ORS) উদ্ভাবন। লবণ ও গুড় অথবা চিনির সংমিশ্রণে তৈরী এ দ্রবণ তীব্র উদরাময় রোগে আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে দ্রুত বের হয়ে যাওয়া দেহ রসের পুনঃযোগান দেয়। দেহের শুষ্কতারোধে ORS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং আজ পর্যন্ত বহু রোগীর জীবন বাঁচাতে সহায়ক হয়েছে। আইসিডিডিআর,বি-এর গবেষণা কার্যক্রম পরবর্তীতে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে, এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শ্বাসরোগ, যৌনরোগ, এইডস, হেপাটাইটিস, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং বিভিন্ন অন্যান্য সংক্রামক রোগ।

[জিয়া উদ্দিন আহমেদ]

আরও দেখুন উদরাময় রোগ; কলেরা; খাওয়ার স্যালাইন