উদরাময় রোগ


উদরাময় রোগ (Diarrhoeal Diseases)  অস্বাভাবিক নরম হতে পানিরমত মলত্যাগের জন্য দায়ী যাবতীয় রোগ। উদরাময় প্রধানত খাদ্য ও পানির সঙ্গে ক্ষতিকর অণুজীব গ্রহণের ফলেই ঘটে যদিও অসংক্রমনীয় অন্যান্য আন্ত্রিক রোগে, বিষাক্ত, অপাচ্য বা শরীরের পক্ষে অগ্রহণীয় খাদ্য খেলে, আর মানসিক চাপেও উদরাময় হতে পারে। অধিকাংশ উদরাময় রোগ ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবীঘটিত।

ভাইরাসঘটিত উদরাময়  ভাইরাসঘটিত উদরাময় সাধারণত তীব্র ধরনের নয়। উদরাময় সম্পৃক্ত দুটি সুপরিচিত ভাইরাস হলো ‘নরওয়া ভাইরাস’ ও ‘রোটা ভাইরাস’। ভাইরাসঘটিত উদরাময়ে প্রায়শই তরল দাস্ত, বমনেচ্ছা, বমি, হালকা জ্বর, মাথা ব্যথা, পেটব্যথা ও সাধারণ অসুস্থতা বোধের লক্ষণ দেখা যায়। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ডায়রিয়া গবেষণা কেন্দ্রে (আইসিডিডিআর,বি/ICDDR,B) রোটা ভাইরাস উদরাময় নিয়ে গবেষণা চলছে, উদ্দেশ্য মুখে খাওয়ার উপযোগী একটি টিকা উদ্ভাবন, যা তরলীকৃত ভাইরাস  পোলিও টিকার মতোই ফোঁটার মাধ্যমে মুখে দেওয়া যাবে।

ব্যাকটেরিয়াঘটিত উদরাময়  বহুব্যাপ্ত ও প্রায়শ অত্যন্ত মারাত্মক ধরনের প্রাণঘাতী উদরাময়। তিন ধরনের ব্যাকটেরিয়াঘটিত উদরাময় বেশি দেখা যায়। Vibrio cholerae ঘটিত কলেরার, Shigella ঘটিত ব্যাসিলারি আমাশয় বা রক্ত আমাশয় এবং অধিবিষ উৎপাদক Eschericia coli প্রজাতির কয়েকটি জাত ঘটিত উদরাময়। সবচেয়ে পরিচিত উদরাময় রোগ  কলেরাE. coli ঘটিত উদরাময়ে পাতলা দাস্ত হয় এবং এটি শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। কলেরা ও ETEC উদরাময় অনাগ্রাসী (non-invasive), কেননা এক্ষেত্রে জীবাণু রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করেনা এবং সেজন্য উপযুক্ত তরল প্রতিস্থাপনেই রোগী সেরে উঠে। বাংলাদেশে প্রতি বছর একত্রে কলেরা ও ETEC উদরাময় সংক্রমণ ঘটনা প্রায় ৭.৫ লক্ষ।

পরজীবীঘটিত উদরাময়  অন্ত্রের পরজীবীঘটিত উদরাময়ের মধ্যে আছে অ্যামিবাঘটিত আমাশয় বা অ্যামিবিয়াসিস যার কারণ এককোষী পরজীবী Entamoeba histolytica এবং ফ্লাজেলাবাহী এককোষী পরজীবী Giardia lamblia ঘটিত জিয়ারডিয়াসিস যাহার তীব্রতা অপেক্ষাকৃত কম। অ্যামিবিয়োসিস ও জিয়ারডিয়াসিস উভয়েই বাংলাদেশে শিশুদের খুবই সাধারণ রোগ। পনের বছরের কমবয়সী শিশুদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশের ক্ষেত্রে দেহে E. histolytica-র প্রতিরোধ সক্ষমতার সাক্ষ্য (immunity evidence) মেলে যা থেকে বোঝা যায় যে এরা জীবনের কোনো না কোনো সময় এতে আক্রান্ত হয়েছিল। আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত উদরাময় আক্রান্ত রোগীর ওপর পরিচালিত পরীক্ষা থেকে ৫% ক্ষেত্রে রোগীর মলে G. lamblia ধরা পড়েছে।  [জিয়া উদ্দিন আহমেদ]