সাহা, সত্য

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১০:৩৭, ২২ মার্চ ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

সাহা, সত্য (১৯৩৪-১৯৯৯)  সঙ্গীত শিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক। জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার পটিয়ার ফতেয়াবাদ গ্রামে। পিতা প্রসন্নকুমার সাহা।

সত্য সাহার সঙ্গীতে হাতেখড়ি হয় পিতৃব্য রবীন্দ্রপাল সাহার কাছে। ১৯৪৬ সালে নারায়ণ হাই স্কুলে অধ্যয়নকালে তিনি পন্ডিত সুপর্ণা নন্দীর কাছে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে তালিম গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি ভজন গানেও কিছু পারদর্শিতা অর্জন করেন।

সত্য সাহা

সত্য সাহা ১৯৫৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে সুরকার পঞ্চানন মিত্রের সহকারী হয়ে সঙ্গীত পরিমন্ডলের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫৮-১৯৫৯ সালের মধ্যে সহকারী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তিনি বারোটি ছায়াছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেন। ১৯৬১ সালে তিনি বেতার শিল্পীর মর্যাদায় তালিকাভুক্ত হন। এ সময় তোমার আমার ছায়াছবিতে তাঁকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দেখা গেলেও সঙ্গীত পরিচালকরূপে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে সুভাষ দত্ত পরিচালিত সুতরাং (১৯৬৪) ছায়াছবির মাধ্যমে। এ ছবিতে তাঁর বিখ্যাত গান ছিল ‘তুমি আসবে বলে, ভালবাসবে বলে’। এ ছবির আগে সত্য সাহা তাঁর জীবনের প্রথম ছবি জানাজানির কাজ শুরু করেন, কিন্তু সুতরাং ছবির পরে জানাজানি মুক্তি পায়।

বাংলাদেশের কৃষ্টিনির্ভর এবং সাংস্কৃতিক পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত হয় রূপবান। প্রথমে সাদাকালো, পরে রঙিন। ছবিটি নির্মিত হয় কলকাতা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে। এ বিখ্যাত ছবিটির সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন সত্য সাহা। তাঁর সঙ্গীত পরিচালনায় অন্য যেসব ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে তার মধ্যে সৈয়দ শামসুল হকের ফির মিলেঙ্গি হাম দুনো (১৯৬৬), রওনক চৌধুরীর ভাওয়াল সন্ন্যাসী, সুভাষ দত্তের কাগজের নৌকা, সৈয়দ আওয়ালের গুনাই বিবি, অপরিচিতা, বশির হোসেনের ১৩ নম্বর ফেকু গোস্তাগার লেন (১৯৬৬), আজিজুর রহমানের সাইফুল মূলক্ বদিউজ্জামান, সুভাষ দত্তের আয়না ও অবশিষ্ট ছবির নাম উল্লেখ করা যায়। এছাড়া রয়েছে বাঁশরী, চেনা-অচেনা, এতটুকু আশা, পরশমণি, মোমের আলো প্রভৃতি।

সত্য সাহার স্ত্রী রমলা সাহার প্রযোজনায় আশির দশকে নির্মিত বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্র অশিক্ষিত ও ছুটির ঘণ্টা ছবির কাহিনী, চিত্র, সংলাপ ও সঙ্গীত তৎকালীন বাঙালি সমাজে ব্যাপক সাড়া জাগায়। বাংলা ভালো চলচ্চিত্রের সঙ্কটকালে এ ছবি দুটি সেসময় অসংখ্য দর্শক-মনে স্থান করে নেয়। সত্য সাহার সযত্ন সঙ্গীত পরিচালানায় এ ছবির গানগুলি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

লক্ষ করা যায়, ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে প্রায় দুশো ছায়াছবির সঙ্গীত পরিচালনা এবং বিশটি ছায়াছবি প্রযোজনা করে সত্য সাহা ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন। সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে এবং সঙ্গীত পরিচালনায় তাঁর কৃতিত্বের জন্য তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সংস্থা ও ১৯৯৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৯ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।  [খালিদ হাসান কমল]