আহমদ, নিজামউদ্দিন

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০০:৪৮, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

আহমদ, নিজামউদ্দিন (১৯২৯-১৯৭১)  সাংবাদিক, শহীদ বুদ্ধিজীবী। জন্ম ১৯২৯ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার মাওয়া গ্রামে। তিনি কাজীরপাগলা অভয়কুমার তালুকদার স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ থেকে আই.এ পাস করেন। ১৯৫২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি লাহোরের সিভিল ও মিলিটারি গেজেট, ঢাকার দৈনিক মিল্লাত এবং এপিপি ও অন্যান্য সংবাদ সংস্থায় চাকরি করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি পাকিস্তান প্রেস ইন্টারন্যাশনাল সংস্থায় যোগ দেন। ঢাকায় এ সংস্থার অফিস স্থাপিত হলে তিনি সংস্থার সম্পাদক হন। ১৯৭১ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি পিপিআই এর জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন। এ সংস্থা ছাড়াও তিনি ইউপিআই, বিবিসি, অ্যাসোসিয়েট প্রেস অব আমেরিকার ঢাকাস্থ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যক্ষ্মা সমিতি, কেন্দ্রীয় পাট বোর্ড, ফিল্ম সেন্সর বোর্ডসহ কাতপয় সংস্থার সদস্য ছিলেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিজামউদ্দিন আহমদ ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ষাটের দশকে কয়েক বছর মুসলিম লীগ (কনভেনশন) রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় হন। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই তিনি পাকবাহিনীর নির্যাতন, নিষ্ঠুরতার সংবাদ নানাভাবে বিদেশি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। তাঁর এ ভূমিকার বিষয়ে জানতে পেরে দুবার তাঁকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনীর একটি দল নিজামউদ্দিন আহমদকে তাঁর রোকনপুরের বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। সাংবাদিকতা এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৩ সালে তাঁকে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করে।  [আবু মো. দেলোয়ার হোসেন]