বিমান পরিবহণ

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:২৯, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বিমান পরিবহণ  স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে ১৯৭২ সালে একটি মাত্র বিমানপোত নিয়ে ঢাকার তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশের বিমান পরিবহণ শিল্প তার কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের চাহিদা মেটানোর জন্য ঢাকার কুর্মিটোলায় নতুন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মিত হয় এবং ১৯৮০ সালের প্রথম দিকে বিমান চলাচলের জন্য তা উন্মুক্ত করা হয়। ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিমান বন্দরটি জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে পরিচিত ছিল। ২০০৯ সালে এটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচল অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংরক্ষণ করে থাকে।

বর্তমানে বাংলাদেশে আটটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর, আটটি স্টল (Short-take off and landing) জাতীয় অবকাঠামো এবং থানা সদরে কিছু হেলিপোর্ট আছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবস্থিত বিমান বন্দরগুলিতে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পরিচালনা করা হয়ে থাকে। শুধু অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহূত বিমান বন্দরগুলি যশোর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, কক্সবাজার এবং বরিশালে অবস্থিত। চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা কালে (১৯৯২-১৯৯৭) বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এগুলির মধ্যে রয়েছে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য নির্মিত টার্মিনাল ভবনের সম্প্রসারণ, আরোহণ সেতু স্থাপন এবং আইএলএস ও এএমএসএস স্থাপন, বরিশালে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বগুড়া ও মংলায় স্টল বিমানবন্দর নির্মাণ। পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সময়ে (১৯৯৭-২০০২) তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বিমান চলাচলের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া এ সময় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দর এবং সিলেটের ওসমানী বিমান বন্দর দুটিকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তর করা হয়।

ঢাকার অদূরে ১৯৮১ একর জমির উপর অবস্থিত হজরত শাহজালাল (রঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর। আগমন ও বহির্গমনের প্রায় অর্ধ মিলিয়ন যাত্রীকে এই বিমান বন্দর সেবা প্রদান করে থাকে। বিমানযাত্রীর সংখ্যার পরিমাপে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমান বন্দরগুলির অবস্থান ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট ও বরিশালে। দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ আগমন-বহির্গমনের প্রায় ৫২% জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান বন্দর প্রায় ১৭% যাত্রী পরিচালনা করে থাকে।

জাতীয় পতাকা বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত ছিল দেশের একমাত্র বিমান সংস্থা। বিশ্বের ৪৩টি দেশের সঙ্গে বিমানের চুক্তি রয়েছে কিন্তু ২০১১ সালে বিমান ১৬টি দেশের ১৮টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতো। এছাড়া ঢাকা থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ তিনটি গন্তব্যেও বিমানের ফ্লাইট চালু ছিল। এ সময় বিমানের বহরে ছিল চারটি ডিসি-১০, একটি বোয়িং ৭৭৭ ও দুটি বোয়িং ৭৩৭, দুটি এয়ার বাস এ-৩১০, তিনটি এফ-২৮সহ এক ডজন আকাশযান।

১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানিসমূহকে বিমান পরিবহণ ব্যবসায়ের অনুমতি দিয়ে আসছে। বর্তমানে কার্যরত কোম্পানিসমূহের মধ্যে রয়েছে জিএমজি এয়ারলাইন্স, বেস্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ইত্যাদি।  [জোবায়ের বিন আলম]

আরও দেখুন বিমান বন্দর; বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স; বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ