সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৫:১০, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ  ১৯৩৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরে প্রতিষ্ঠিত একটি সাহিত্য সংগঠন। সংসদের প্রথম কার্যকরী কমিটিতে সভাপতি ও সম্পাদক ছিলেন যথাক্রমে দেওয়ান একলিমুর রাজা চৌধুরী, এম.এল.এ এবং এ.জেড আব্দুল্লাহ। সাহিত্যসভা ও সমাবেশ; গল্প, প্রবন্ধ ও কবিতা পাঠের আসর; জলসা, সঙ্গীত ও গানের আসর; সংবর্ধনাসভা, প্রীতিসম্মেলন, স্মরণসভা, শোকসভা, গুরুত্বপূর্ণ দিবস ইত্যাদি অনুষ্ঠান পালন করা এর প্রধান কর্মকান্ড। মুসলমান সমাজে সাহিত্যচর্চার ব্যাপক প্রচলন, বৃহত্তর সিলেটের কবি ও সাহিত্যিকদের রচিত সাহিত্য সংকলন, প্রাচীন পুথি সংগ্রহ ও মুসলিম সাহিত্যসেবীদের সাহিত্যচর্চার সুযোগ প্রদানই এই সংসদের মূল উদ্দেশ্য। শুরু থেকে সংসদের মুখপত্র মাসিক আল ইসলাহ্ পাঠক, লেখক ও গবেষক সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। পত্রিকার প্রথম সম্পাদক মুহম্মদ নুরুল হককে সংসদের লাইব্রেরির দায়িত্ব দেওয়া হয়। মাত্র ১৯টি বই নিয়ে শুরু হওয়া লাইব্রেরিতে বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা ৩১০৩৭। এর মধ্যে রয়েছে ২৫৬টি দুর্লভ সংগ্রহ। সম্রাট  আওরঙ্গজেবের নিজ হাতে লেখা একটি কুরআন শরীফ এগুলির অন্যতম।

১৯৩৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সংসদ কর্তৃক বেশ কতগুলি সাহিত্যসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু গুণীব্যক্তি সংসদ পরিদর্শন করেন। তাঁদের মতামত সম্বলিত পরিদর্শন বই ‘কেমুসাম’ একটি মূল্যবান দলিল।  সিলেট গণভোট, ১৯৪৭ এবং ভাষা আন্দোলনে সংসদ ও আল-ইসলাহ্র ভূমিকা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়াও সংসদ জাদুঘর, সেবা সংঘ (১৯৪১), নজরুল সাহায্য ভান্ডার (১৯৪৪-৪৫) প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৩৯ সালের ২৯ জুলাই শিলং-এ এবং ১৯৪০ সালের ১ ডিসেম্বর কলকাতায় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শাখা স্থাপিত হয়েছিল। সরকার, জেলা পরিষদ,  বাংলা একাডেমী প্রভৃতি সংগঠন ও বদান্য ব্যক্তিদের সাহায্য ছাড়াও পৃষ্ঠপোষক, জীবন সদস্য ও সাধারণ সদস্যদের চাঁদায় সংসদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে দরগাহ্ গেইটের পাশে ইমারত নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দিয়ে স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ ও এর মুখপত্র আল ইসলাহ্র অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  [দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী]