মালিক, এ.এম

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১১:২৩, ৪ মার্চ ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

মালিক, এ.এম (১৯০৩-১৯৭৭)  চক্ষু চিকিৎসক, রাজনীতিক, কূটনীতিক ও পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর।  আবদুল মোত্তালেব মালিক ১৯০৩ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বগুড়া, বাঁকুড়া ও কলকাতায় পড়াশুনা করেন। তিনি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যয়ন করেন। এ.এম মালিক ১৯৩১ সালে চক্ষু চিকিৎসার ওপর ভিয়েনা থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

এ.এম মালিক কলকাতায় একজন চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চিকিৎসক হিসেবে তিনি একাধিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন। ১৯৩৬ সালে তিনি ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। তিনি নিখিল পাকিস্তান লেবার কনফেডারেশনের নির্বাহি কমিটির সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি কলকাতার কোয়ার্টারমাস্টার ইউনিয়ন ও ভারতীয় সেইলর্স ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। ডাঃ মালিক প্রেস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন, ডকার্স ইউনিয়ন, পোর্ট কমিশনার্স ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি সর্বভারতীয় সি-ফেয়ারার্স ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি এবং বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি সর্বভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস নির্বাহি কমিটির সদস্য এবং দেশ বিভাগের পর নিখিল পাকিস্তান ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

এ.এম মালিক ১৯৪০ এবং ১৯৪৬ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদে সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৪৬ সালে অতিরিক্ত চীফ হুইপ ছিলেন। ১৯৪৭ সালে তিনি পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৪৯ সালে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রথমে সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং পরে স্বাস্থ্য, শ্রম ও পূর্তমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি সংবিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন। শ্রমমন্ত্রী হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় (আই.এল.ও) একাধিকবার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৫৩-৫৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ছিলেন। এই সংস্থার উদ্যোগে এশিয়া ও ইউরোপে অনুষ্ঠিত একাধিক সম্মেলনের তিনি উদ্বোধন করেন। ১৯৫৫ সালের আগস্ট মাসে তাঁকে সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হয়। একই সাথে তাঁকে অস্ট্রিয়া ও যুগোস্লাভিয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত করা হয়। তিনি ১৯৫৮-৬১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং ১৯৬১-৬৫ সালে ফিলিপাইনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি ১৯৬৫-৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে পাকিস্তানের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ.এম মালিক ১৯৬৭ সালে কূটনৈতিক চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অতঃপর তাঁকে ১৯৬৯ সালের আগস্ট মাসে স্বাস্থ্য, শ্রম, পূর্ত ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে তাঁকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারি নিয়োগ করা হয়। এ সময় তিনি উদ্বাস্ত্তদের জন্য ত্রাণ তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় এবং তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব পালন করেন।

এ.এম মালিক ১৯৭১ সালের ৩১ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিযুক্ত হন এবং ৩ সেপ্টেম্বর শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর বিমান হামলায় গভর্নর হাউজ (বর্তমান বঙ্গভবন) আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঐ দিন ডাঃ এ এম মালিক ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যগণ পদত্যাগ করেন এবং আন্তর্জাতিক রেডক্রস কর্তৃক ঘোষিত ‘নো ওয়ার জোন’ হিসেবে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে (বর্তমান হোটেল শেরাটন) আশ্রয় গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর এ.এম মালিককে গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ করা হয়।

১৯৭৭ সালে আবদুল মোত্তালেব মালিকের মৃত্যু হয়। [আবু জাফর]