হোসেন, কাজী জাকের

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৫:১৯, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

হোসেন, কাজী জাকের (১৯৩১-২০১১) বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ কাজী জাকের হোসেনের জন্ম কুমিল­া জেলার লাঙ্গলকোট উপজেলার পাটওয়ার গ্রামে। তার বাবা কাজী ওয়াইস উদ্দিন ও মা আখতারুন্নেসা। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

চাঁদপুর জেলার গণি স্কুল ও ঢাকা কলেজ থেকে যথাক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের লেখাপড়া শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি প্রাণিবিজ্ঞানে এম.এস.সি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি গবেষণা ডিগ্রিও লাভ করেন।

১৯৫৩ সালে তিনি প্রভাষক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন। ষাটের দশক থেকে শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছাত্রদের জন্য ছিলেন অনুপ্রেরণীয়। বন্যপ্রাণীর উপর নিবিড় গবেষণা ও এই বিষয়ে শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে তাঁর উদ্যোগে ১৯৬৭ সালে প্রাণীবিদ্যা বিভাগে নতুন একটি শাখা খোলা হয়। তিনি নয় বছর বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি জীববিজ্ঞান অনুষদের ডীন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

কাজী জাকের হোসেনের প্রাণীবিজ্ঞানের উপর ২০টি বই ও ৩৮০টি নিবন্ধ প্রকাশিত গবেষণা রয়েছে। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ পরিবেশ সংস্থা (ইউএনপি) তাঁকে ‘গে­াবাল ৫০০-রোল অব অনার ফর এনভায়রমেন্ট এচিভমেন্ট’ সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৯২ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। ২০১০ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং এ বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বঙ্গবন্ধু পুরস্কারও পান। ২০০৮ সালে তিনি তাঁর কর্মজীবনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে হিসেবে নিয়োগ পান। এছাড়াও তিনি  প্রাণিবিজ্ঞান এবং বন্যপ্রাণী বিষয়ক বেশ কিছু সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ছিলেন।

২০১১ সালের ২১ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।  [আনোয়ারুল ইসলাম]