সরকার, সাধন

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৫:০৭, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

সরকার, সাধন (১৯২৯-১৯৯২)  সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার। জন্ম ১৯২৯ সালে খুলনা শহরে। পিতা কেশবচন্দ্র সরকার, মাতা সুখদা সুন্দরী। তাঁদের আদি নিবাস ছিল মানিকগঞ্জের দাশোড়া গ্রামে।

সাধন সরকার খুলনা বিকে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাট্রিক (১৯৬৪) পাস করে সঙ্গীত শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। ইতোমধ্যে পারিবারিক আবহে সঙ্গীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হলেও ওস্তাদ শামসুদ্দীন আহমেদ, কিশোরী বাবু, শাহজাহান এবং ওস্তাদ মুনশী রইসউদ্দীনের কাছে তিনি উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে তালিম গ্রহণ করেন। কালিদাস চট্টোপাধ্যায় ও সুকুমার মিত্রের কাছেও তিনি কিছুকাল সঙ্গীতচর্চা করেন। উচ্চাঙ্গসঙ্গীত, রবীন্দ্রসঙ্গীত, আধুনিকগান ও নাট্যসঙ্গীতে তাঁর পারদর্শিতা লক্ষ করা যায়। তিনি সেতার, বাঁশি, এস্রাজ, তবলা, গীটার প্রভৃতি যন্ত্রেও দক্ষ ছিলেন। অপরদিকে তিনি গণসঙ্গীত ও দেশাত্ববোধক গানের একজন প্রখ্যাত সুর-স্রষ্টা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। এক্ষেত্রে তিনি আবহমানকালের বাঙালি কবিদের কবিতাকে উপজীব্য করেন এবং সমকালীন কবি ও গীতিকারদের মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে অনেক উদ্দীপনামূলক ও রাজনৈতিক গান লিখিয়ে নিয়েছেন। নাজিম মাহমুদের লেখা ও সাধনের সৃষ্ট সুরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান-‘আমাদের চেতনার সৈকতে একুশের ঢেউ’, ‘কমরেড এই রাত অাঁধিয়ার’, ‘অজগর নিঃশ্বাস চারিধার’, ‘দেয়ালে দেয়ালে লটকে দাও একটি নাম... ভিয়েতনাম’; আবুবকর সিদ্দিক রচিত-‘বাংলার ঘরে ঘরে সংগ্রাম জ্বলন্ত জানো কি’, ‘ড্রাগনের বহ্নিবিষ হল্কায়’, ‘গেরিলা বাংলা গুপ্তযোদ্ধা’, ‘বাংলার মাটি অতি দুর্জয় বীর্যের সন্তান’, ‘আমরা কজন আধা আধা আধুনিক নাগরিক’, ‘যদ্দুর চোখ যায় রোদ্দুর’, ‘ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল’ প্রভৃতি।  মাইকেল মধুসূদন দত্তসুকান্ত ভট্টাচার্যজীবনানন্দ দাশকৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারসহ প্রাচীন চর্যাপদের কবি  ভুসুকু পাদ-এর দু’একটি কবিতায় তিনি সুরারোপ করেছেন। তাঁর সৃষ্ট সুরের ‘ব্যারিকেড বেয়নেট বেড়াজাল’ গানটি স্বাধীন বাংলা বেতারে বার বার প্রচারিত হয় এবং জনপ্রিয়তা লাভ করে।

১৯৬৩ সালে খুলনায় সাধন সরকারের উদ্যোগে সন্দীপন নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হাসান আজিজুল হক, আবুবকর সিদ্দিক, নাজিম মাহমুদ, খালেদ রশীদ প্রমুখ কবি ও কথাশিল্পী। সন্দীপন ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা যেমন- অগ্রণী-সংসদ, পারাবত, সুরবিতান, স্কুল অব মিউজিক, খুলনা জেলা সঙ্গীতশিল্পী-সংস্থা, গণশিল্পী সংস্থা ও জাতীয় রবীন্দ্র-সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৫ জুন, ১৯৯২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।  [সাইম রানা]