হোসেন, সৈয়দ সাজ্জাদ

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৮:০১, ২৪ মার্চ ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

হোসেন, সৈয়দ সাজ্জাদ (১৯২০-১৯৯৫)  শিক্ষাবিদ। ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫২ সালে জোসেফ রোডিয়ার্ড কিপলিং এবং ভারতের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি (১৮৬৫-১৯৩৬) বিষয়ে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৪৪ সালে সৈয়দ হোসেন কলকাতা ইাসলামি কলেজে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা পেশা শুরু করেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন এবং ১৯৫৯-১৯৬৯ পর্যন্ত তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার জন্য তাঁর অবস্থান তাঁকে বিতর্কিত করে এবং পরবর্তীকালে তিনি এর ফল ভোগ করছেন।

১৯৭৫ সালে ড. হোসেন তিন মাসের জন্য যুক্তরাজ্যের ক্যাম্রি^জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লেয়ার হল এর ফেলো নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত মক্কার উম্মুল কুইয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। আশির দশকের শেষ দিকে তিনি স্থায়ীভাবে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ১৯৯৫ সালে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

বাংলা ও ইংরেজি ভাষা এবং সাহিত্য ছাড়াও উর্দু, হিন্দি ও ফারসি ভাষা এবং সাহিত্যে তাঁর দখল ছিল। তিনি মূলত ইংরেজিতেই লিখতেন এবং কিছু বাংলায়ও লিখেছেন।

এনভোর মুরজি, ওমর কোরেশী, খালিদ হাসান, আলমগীর হাশমী এবং আহমেদ আলীর মত বিংশ শতব্দীর লেখক হিসেবে সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনও স্বীকৃত। তিনি মূলত সাহিত্য এবং সংস্কৃতি নিয়ে লিখেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার মধ্যে আছে ডেসক্রিপটিভ ক্যাটালগ অব বেঙ্গল মুসলিম (ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি ১৯৬০), ইস্ট পাকিস্তান: এ প্রোফাইল (ওরিয়েন্ট লংম্যান্স, ১৯৬২); নিক্সড গ্রিল: এ কালেকশন অব এসেজস অন রিলিজিওন অ্যান্ড কালচার (ওরিয়েন্ট লংম্যান্স, ১৯৬৩); কিপলিং অ্যান্ড ইন্ডিয়া: এন ইনকরি ইনটু দ্যা ন্যাচার অ্যান্ড এক্সটেন্ড অফ কিপলিঙকস নলেজ অব দি ইন্ডিয়ান সাব-কন্টিনেন্ট (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৫); হোমেজ টু সেক্সপিয়ার (ডিপার্টমেন্ট অব ইংলিশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৬৫); সিভিলাইজেশন অ্যান্ড সোসাইটি (বাংলাদেশ ইন্টিটিউট অব ইসলামিক থট, ১৯৯৪); দি ওয়াস্ট অব টাইম: রিফ্লেকশন অন দ্যা ডিক্লাইন অ্যান্ড ফল অব ইস্ট পাকিস্তান (লাহোর: ইন্সিটিটিউট অব ইসলামিক কালচার, ১৯৯৬); এ ইয়াং মুসলিমস গাইড টু রিলিজিয়নস ইন দি ওয়ার্ল্ড (বিআইআইটি, ১৯৯২); এন এসে অন পাকিস্তানি রাইটিং ইন ইংলিশ (কর্নেল ইউনিভার্সিটি প্রেস, ইউএসএ ১৯৬১); ড্রামা ইন ডেভেলপিং সোসাইটি (১৯৬৯); বুকস অন দি কায়েদে আযম: এ বিবলিওগ্রাফি (ঢাকা সোসাইট ফর পাকিস্তান স্টাডিজ, ১৯৬৯); ইত্যাদি। তাঁর বাংলা বইয়ের মধ্যে আছে নির্ঘণ্ট অভিধান (১৯৭০); বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাস ২ খন্ড (১৯৮৪ ও ১৯৮৯); একাত্তরের স্মৃতি (১৯৯৩) এবং আরবি সাহিত্যের ইতিহাস। [মো. মাহমুদুল হাসান]