বাথান

Mukbil (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৪:৩৭, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বাথান  বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশু প্রতিপালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্মিত বিশেষ ধরনের আবাসস্থল। ‘বাথান’ শব্দটি প্রাকৃত ভাষা থেকে আগত, এর অর্থ গবাদিপশুর বাসস্থান, যেখানে রেখে তাদের পালন ও পরিচর্যা করা হয়। প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্যে গোয়ালা বা গোপ তথা দুগ্ধ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে দেবদেবীদের সম্পর্ক গড়ে তোলার বিস্তৃত উল্লেখ রয়েছে। কিংবদন্তি অনুসারে দেবী মনসা ছদ্মবেশে বাথানে অবতরণ করেন এবং গোয়ালার কাছে আশ্রয় চান। এ কাহিনী গ্রামাঞ্চলের সমাজে বাথানের বা গোপ সম্প্রদায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানকেই প্রতিষ্ঠিত করে। বাথান-এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হচ্ছে কৃষিজীবী সমাজের একটি ব্যবসায় কেন্দ্র যেখানে রাখাল সম্প্রদায় পেশাগতভাবে নিজের ও অন্যান্যদের গৃহপালিত পশুসমূহ প্রতিপালন করে থাকে। তারা গ্রামের নির্দিষ্ট গোচরণ ভূমিতে এসব পশু চরায় ও পরিচর্যা করে। গ্রামীণ অর্থনীতি ও সমাজবিন্যাসে গবাদিপশুর অনস্বীকার্য ভূমিকা ও গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাথানের প্রভূত বিকাশ ও বিস্তার ঘটেছিল। রাখাল বা বাথানিয়া সম্প্রদায় গ্রামের গবাদিপশু সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করে সংশ্লিষ্ট গবাদিপশুর মালিকের কাছ থেকে পারিশ্রমিক বাবদ বিভিন্ন দ্রব্যাদি গ্রহণ করত। সাধারণত শস্য ও পশুসম্পদ ছিল রাখাল ও মালিক পক্ষের মধ্যে বিনিময় মাধ্যম।

বাথান

পুরানো আমলে বাংলাদেশের পল্লী এলাকার প্রায় সর্বত্র বাথানের প্রচলন ছিল। কোন মালিক গবাদিপশুর সংরক্ষণে অসমর্থ হলে বাথানিয়াদের কাছে হস্তান্তর করত। উনিশ শতকের প্রথমদিক থেকে জনসংখ্যার বৃদ্ধি, ব্যাপকভাবে জমি চাষাবাদের ফলে গোচারণ ভূমির স্বল্পতার কারণে বাথান ব্যবস্থাটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ে। সাধারণত, সরকারি খাস জমির পাশেই বাথান গড়ে উঠত। কিন্তু ক্রমশ খাসজমি কমে আসায় বাথানের সংখ্যাও হ্রাস পায়। বর্তমানে বাংলাদেশের কোন কোন এলাকায় বাথান ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়, যেমন হাওর তটভূমে, নতুন জেগে-ওঠা চরাঞ্চলে এবং সমুদ্রোপকূলের দ্বীপাঞ্চলে। সিলেট, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকায় শীতকালে কিছু অস্থায়ী বাথান গড়ে ওঠে। খরার মৌসুমে এগুলি গুটিয়ে ফেলা হয়। খাদ্যাভাবের সময় কিংবা খরা মৌসুমে হাওর এলাকা থেকে বাথানগুলি সরিয়ে নিয়ে স্থাপন করা হয় পাহাড়ি এলাকায়, যেখানে বর্ষার সময় প্রচুর ঘাস জন্মায়। এছাড়া, পাবনা ও নাটোর জেলাস্থ চলনবিল এলাকায়ও কিছু বাথান দেখা যায়। বর্তমানে দুগ্ধজাতীয় পণ্যাদির শিল্প-কারখানা বা আধুনিক ডেইরি ফার্মের কাছাকাছি স্থানে বাথান স্থাপন করা হয়।  [সিরাজুল ইসলাম]