বেঙ্গল মোসলেম কাউন্সিল পার্টি

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:৩১, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বেঙ্গল মোসলেম কাউন্সিল পার্টি  বাংলার অল্প কয়েকটি মুসলমান রাজনৈতিক গোষ্ঠীর একটি। মুসলিম সমাজের নেতা হিসেবে ব্রিটিশ আমলাদের স্বীকৃতিলাভের উদ্দেশ্যে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রত রাজনীতির উচ্চাভিলাষী মুসলমান নেতাদের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে দলগুলোর উদ্ভব হয়। ১৯২৭ সালের গোড়ার দিকে অনুষ্ঠেয় প্রাদেশিক আইন সভার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে প্রতিদ্বন্দিততা ও বিদ্বেষ চরম আকার ধারণ করেছিল। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী ও মন্ত্রিত্বের স্বপ্নে বিভোর নেতৃবৃন্দ প্রত্যেকে ১৯২৬ সালের প্রথম থেকে নিজেদের উদ্যোগে নিজ নিজ দল সংগঠিত করতে ব্যস্ত ছিলেন।

১৯২৬ সালের গোড়ার দিকে স্যার আবদুর রহিম বেঙ্গল মোসলেম পার্টি গঠন করলে .কে ফজলুল হক তড়িঘড়ি করে বেঙ্গল মোসলেম কাউন্সিল পার্টি নামে আলাদা একটি উপদল গড়ে তোলেন। দি মুসলমান পত্রিকার সম্পাদক মুজিবুর রহমান উদার এবং কংগ্রেসপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ফজলুল হকের সঙ্গে সাময়িকভাবে বিরোধ মিটিয়ে তাঁর দলের যুগ্ম পৃষ্ঠপোষক হন। এ দলের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ ও আইনগত পন্থায় ভারতের জনগণের দ্বারা ‘স্বরাজ‘ কায়েম করা এবং মুসলমানদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা।

মুজিবুর রহমান এবং ফজলুল হক অবশ্য বেশিদিন একসঙ্গে থাকতে পারেন নি। শীঘ্রই তাঁদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয় এবং মুজিবুর রহমান ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে ফজলুল হকের দল ছেড়ে তরুণ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট মোসলেম পার্টিতে যোগ দেন এবং মোসলেম কাউন্সিল পার্টি সোহরাওয়ার্দীর দলের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। এরপর এ দল সম্পর্কে (অর্থাৎ মোসলেম কাউন্সিল পার্টি সম্পর্কে) আর কিছুই জানা যায় না। নিজের উদ্যোগে সংগঠিত একদল সমর্থককে নিয়ে মোহাম্মদ আকরাম খাঁও সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যোগ দেন। শেষপর্যন্ত রহিমের বেঙ্গল মোসলেম পার্টি এবং সোহরাওয়ার্দীর ইন্ডিপেন্ডেন্ট মোসলেম পার্টি টিকে থাকে এবং এ দুটি মুসলিম দলই ১৯২৭ সালের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে।   [বি.আর খান]