বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ফ্র্যানচাইজ কমিটি

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:৩১, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ফ্র্যানচাইজ কমিটি দ্বৈত-শাসন প্রবর্তনের দ্বারা বাংলা প্রদেশটির শতকরা মাত্র ২.২ ভাগ জনসংখ্যা নির্বাচকমন্ডলী গঠন করে। এই সময়ে প্রদেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ৫,০৯,১৩,৯৭২ জন। এদের মধ্যে শহর এলাকায় বাস করত ৩৬,৮৪,৩০০ জন এবং গ্রাম এলাকায় ৪,৬৪,২৯,৬৭২ জন। সাইমন কমিশন কর্তৃক উপস্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি কার্যাবলিতে ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রত্যাশার সঙ্গে ১৯২৯ সালের ৩১ অক্টোবর তারিখে ব্রিটিশ সরকার ঘোষণা করে যে, ভারতীয় শাসনতান্ত্রিক অগ্রগতির স্বাভাবিক উদ্দেশ্য হচ্ছে ডোমিনিয়ন মর্যাদা অর্জন। ১৯৩০ সালে লন্ডনে শুরু হওয়া গোলটেবিল বৈঠকে ভোটাধিকার সম্প্রসারণের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

১৯৩১ সালের শেষ দিকে বিদ্যমান ভোটাধিকারের বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিয়ান ফ্র্যানচাইজ কমিটি গঠন করেন। লোথিয়ান কমিটি নামেও পরিচিত এ কমিটি ১৯৩২ সালের শুরুর মাসগুলিতে ভারত সফর করেন এবং ঐ বছরের শেষ দিকে তাঁদের রিপোর্ট পেশ করেন। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে ভোটাধিকারের যোগ্যতা লোথিয়ান কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিটির ওপর নির্দেশ ছিল এমন একটি নির্বাচকমন্ডলী উদ্ভাবন করা যা সাইমন কমিশনে সুপারিশকৃত মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগের কম না হয় এবং গোলটেবিল বৈঠকে শতকরা ২৫ ভাগের ওপরে না যায়। উভয় সংখ্যার যে কোনটির অর্থ হলো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ১৯০৯ সালে যেখানে বাংলায় ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬,০০০ জন মাত্র, সেখানে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ৬৬,৯৫,৪৮৩ ব্যক্তিকে ভোটাধিকার প্রদান করে। অর্থাৎ ২০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ১৩.৪ ভাগ লোক ভোটাধিকার প্রাপ্ত হয়।

লোথিয়ান কমিটির রিপোর্ট ভারতে ভোটাধিকারের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। গভর্নর ও বঙ্গীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধিবর্গ কর্তৃক মনোনীত বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ফ্র্যানচাইজ কমিটি লোথিয়ান কমিটির সঙ্গে একযোগে কাজ করে। যদিও প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার প্রদান লোথিয়ান কমিটির লক্ষ্য ছিল, কিন্তু এটা অনুরূপ সুপারিশের কিছুটা আগেই নিবৃত্ত হয়। এর একমাত্র কারণ তাঁরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, এত অধিক সংখ্যক ব্যক্তিকে ভোটাধিকার প্রদান করলে তা প্রশাসনিকভাবে কার্যকর করা কঠিন হবে। যেহেতু পরোক্ষ নির্বাচনের আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে, সেহেতু বাংলা সরকার ও বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল ফ্র্যানচাইজ কমিটি শতকরা ১৫ ভাগের অধিক ব্যক্তিকে ভোটাধিকার প্রদানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কোন প্রশাসনিক অসুবিধা ছাড়াই বাস্তবে বৃহৎ নির্বাচকমন্ডলী প্রত্যক্ষ ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণে অংশ নেয়।

ভোটাধিকার যোগ্যতা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয় যে, প্রদেশের ২১ বছর বয়সের ঊর্ধ্বের যে-কোন বাসিন্দা যারা যে-কোন রকম কর, অভিকর অথবা ফি প্রদানকারী, অথবা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার অধিকারী, অথবা সামরিক চাকরিতে অন্য কোন সাফল্য অর্জনকারী তাদের প্রত্যেকেই উপযুক্ত। সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে ন্যায়সম্মতভাবে সমতা নিশ্চিত করতে হিন্দু ও মুসলমানদের যোগ্যতার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য করা হয়। ভোটাধিকারের নতুন যোগ্যতা প্রবর্তনের ফলে নারী ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়; ১৯২৯ সালের ৪২,০০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে তা ১৯৩৬ সালে ৯,৭০,০০০ হয়। মুসলমান নারীদের অর্জিত অগ্রগতি ছিল বিস্ময়কর; শতকরা ৫০০ ভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধি পায়। মোট মুসলমান নির্বাচকমন্ডলীর আকার বাংলার সমগ্র জনসমষ্টিতে তাদের শতকরা হারকে মোটামুটি ঠিক ঠিক ভাবে প্রতিফলিত করে।  [এনায়েতুর রহিম]