হোসাইন, বিচারপতি সৈয়দ এ.বি মাহমুদ

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৫:১৯, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

হোসাইন, বিচারপতি সৈয়দ এ.বি মাহমুদ (১৯১৬-১৯৮২)  বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। সৈয়দ এ.বি মাহমুদ হোসাইন ১৯১৬ সালে হবিগঞ্জ জেলায় লস্করপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকা জেলা আদালতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি কিছু সময়ের জন্য দারুল আলম আহসানিয়া মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪২ সালে তিনি হবিগঞ্জ মহকুমা আদালতে যোগ দেন এবং ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত সেখানে সহকারি সরকারি উকিল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সৈয়দ এ.বি মাহমুদ হোসাইন ১৯৪৮ সালে ঢাকা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায়ে যোগ দেন। তিনি পাকিস্তানের ফেডারেল কোর্টের এটর্নি (১৯৫১) ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট হিসেবে (১৯৫৮) তালিকাভুক্ত হন। ১৯৬৫ সালে তিনি হাইকোর্টের বিচার বিভাগীয় বেঞ্চে বিচারক পদে আসীন হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মাহমুদ হোসাইন ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে যোগদান করেন। একই বছর তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারক নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে এ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

বিচারক হিসেবে সৈয়দ এ.বি মাহমুদ হোসাইন আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যখ্যাসহ অনেকগুলি সুস্পষ্ট রায় প্রদান করেন। যেমন, মাহবুব হোসেনের মামলায় তিনি রায় প্রদান করেন যে, সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীরা যেমন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে গণ্য নয় তেমনি এই দুই পক্ষকে প্রভূ-ভৃত্যের সাধারণ সম্পর্কেরও অন্তর্ভূক্ত করা যায় না। তবে তাদের চাকুরি সরকারি কর্মচারীর বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সংবিধিবদ্ধ পদ্ধতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাদের চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা যায় না।

সৈয়দ এ.বি মাহমুদ হোসাইন হযরত আব্দুল কাদের জিলানীর (রঃ) ফার্সি ভাষায় লিখিত দিওয়ান-এ-গওসিয়া নামক বিখ্যাত গ্রন্থটি ইংরেজি ও বাংলায় অনুবাদ করেন। তিনি ১৯৮২ সালের ২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।  [কাজী এবাদুল হক]