ক্যারম

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০১:৫৪, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

ক্যারম  আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রসারিত একটি অভ্যন্তরীণ (ইনডোর) খেলা। ধারণা করা হয় দক্ষিণ ভারতে প্রায় দুইশত বছর পূর্বে ক্যারম খেলাটির উৎপত্তি ও প্রচলন। ১৯৮৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারম ফেডারেশন (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতীয় ক্যারম ফেডারেশনের সংগঠক মি. বঙ্গারু ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্যারম ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক।

৮ মিলিমিটার পুরু প্লাইউড বা কাঠের একটি সমতল এবং মসৃণ বর্গাকার বোর্ড (৭৪ সেমি  ৭৪ সেমি)-এর ওপর ২ জন অথবা ৪ জন এই খেলাটি খেলতে পারে। খেলাটির জন্য উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় ক্যারম বোর্ড, ক্যারম মেন বা ঘুঁটি, স্ট্রাইকার, বোর্ড রাখার স্ট্যান্ড, বসার টুল বা চেয়ার, পাউডার/বরিক, পকেট নেট এবং লাইট প্রভৃতি। ক্যারম খেলায় বোর্ড, ব্রেক, ফিনিশ, প্লেসিং, পকেটিং, পুশ, কুইন, ডিউ, পেনাল্টি, কভারিং, শট, পেয়ার, ক্যানন, থাম্বিং, টার্ন, চিফ রেফারি, আম্পায়ার, হ্যান্ড, ফিঙ্গার, ইমাজিনারি লাইনস, স্ট্রোক, হোয়াইট স্লাম, ব্ল্যাক স্লাম প্রভৃতি পরিভাষা রয়েছে। ক্যারম সিঙ্গেলস (২ জন খেলোয়াড়) কিংবা ডাবলস (৪ জন খেলোয়াড়) দু’ধরণেই খেলা যায়। টুল বা চেয়ারে বসে ক্যারম খেলতে হয়। ক্যারমের নিয়মনীতি ও খেলা পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক ক্যারম ফেডারেশন প্রণীত ‘অফিসিয়াল ল’জ অব ক্যারম’ অনুসরণ করা হয়।

বাংলাদেশে যেসব খেলাধুলা দ্রুত জনপ্রিয় ও বিস্তার লাভ করেছ তার মধ্যে ক্যারমও একটি। এটি একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় খেলা। প্রায় শতবছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই ক্যারম খেলার প্রচলন রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে ক্যারম খেলাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৯৮৮ সালে গঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্যারম ফেডারেশন (ICF)। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ক্যারম এ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন ড. শেখ আবদুস সালাম।

বাংলাদেশ ক্যারম ফেডারেশন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ১৯৯৯ সাল থেকে এটি জাতীয় ক্যারম চ্যাম্পিয়ানশীপ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। ১৯৯৯ সালে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের প্রায় ৭৩টি দেশ অংশ গ্রহণ করে। ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত ‘৩য় ওয়ার্ল্ড ক্যারম চ্যাম্পিয়নশীপ’-এ বাংলাদেশ দল অংশ নেয় এবং টিম ইভেন্টে তৃতীয় স্থান লাভ করে। একই সাথে খেলোয়াড়দের ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং-এ বাংলাদেশের এ.এফ.এম এহতেশামুল হক তুহিন ৭ম, কে.জি হুমায়ুন কবির ৯ম এবং হাফিজুর রহমান ১০ম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশ ক্যারমকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে দেয়। এই প্রতিযোগিতায় ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন ভারত এবং রানারআপ শ্রীলংকার পর বাংলাদেশ ৩য় স্থান অক্ষুন্ন রাখে। ২০০১ সালে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত ‘৫ম সার্ক কান্ট্রিজ ক্যারম চ্যাম্পিয়নশীপ-২০০১’ এ বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করে।

বাংলাদেশ ক্যারম ফেডারেশন এখন এশিয়ান ক্যারম কনফেডারেশন (ACC) এবং আন্তর্জাতিক ক্যারম ফেডারেশন (ICF)-এর সদস্য।  [শেখ আবদুস সালাম]