বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:২৮, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)  কোন একটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রক্ষেপিত সরকারি খাতের উন্নয়ন নীতিমালা,  কর্মসূচি, বিনিয়োগ এবং লক্ষ্যমাত্রাসমূহ পরিচালনা ও অর্জনের জন্য ঐ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কোন একটি নির্দিষ্ট বছরে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন খাতের প্রকল্পসমূহের তালিকা এবং তাদের জন্য আর্থিক বরাদ্দসহ প্রণীত কর্মসূচি। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী প্রতিটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে লক্ষ্য অর্জনের সুবিধার্থে পাঁচটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিভক্ত করা হয় এবং প্রত্যেকটি প্রকল্পের জন্য স্থানীয় ও বৈদেশিক উভয় মুদ্রায় বরাদ্দ রাখা হয়। প্রতি বছরের এডিপি সে বছরের জন্য জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত উন্নয়ন বাজেটের ভিত্তিতে প্রণীত হয়। একটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বর্ণিত ও নির্ধারিত মৌলিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহের আলোকে দেশের পরিকল্পনা কমিশন বাংলাদেশ সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির খসড়া প্রণয়ন করে। অতঃপর প্রণীত খসড়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়। নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়ার পর পরিকল্পনা কমিশন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বিস্তারিতভাবে মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়নকালে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত খাত এবং প্রকল্পসমূহ অধিকতর গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় মুদ্রা ও বৈদেশিক উৎস হতে প্রাপ্ত তহবিল ব্যবহার করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার তহবিলের জন্য বাংলাদেশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করে। এর ফলে এডিপি প্রণয়নের সময় বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এডিপির মাধ্যমে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৫৫-৬০) সময়কাল হতে চালু হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (১৯৬০-৬৫) অধীনে বাস্তবায়িত ১৯৬২-৬৩ সালের এডিপিতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১,৩৫৮.৩৩ মিলিয়ন রুপি। ১৯৬২-৬৩ সালের এডিপিতে ৩টি প্রধান অংশ ছিল। প্রথম অংশের অন্তর্ভুক্ত খাতসমূহ ছিল পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা, কৃষি, হাউজিং ও সেটেলমেন্ট, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, সড়ক ও যোগাযোগ, শিল্প, এবং জনশক্তি ও কর্মসংস্থান। পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ও পূর্বাঞ্চলীয় রেল বিভাগসহ বৃহৎ শিল্পগুলি ছিল দ্বিতীয় অংশের অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক স্থানান্তরিত স্কিমসমূহের জন্য উক্ত এডিপির তৃতীয় অংশ নির্ধারিত ছিল।

পূর্ব পাকিস্তান সরকারের তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (১৯৬৫-৭০) অধীনে বাস্তবায়িত প্রথম এডিপির (১৯৬৫-৬৬) কাঠামো পূর্ববর্তী এডিপিসমূহের কাঠামো অপেক্ষা ভিন্ন ও সহজতর ছিল। বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করার পরিবর্তে ১৯৬৫-৬৬ সালের এডিপিতে নতুন ধাঁচে সরাসরি ১২টি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং মোট বরাদ্দের ১,৯৫১.৩০ মিলিয়ন রুপি উক্ত খাতগুলিতে বণ্টন করা হয়। এসব খাতগুলি ছিল পানি, বিদ্যুৎ, কৃষি, শিল্প, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, পরিবহণ ও যোগাযোগ, ভৌত পরিকল্পনা ও গৃহায়ণ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, সার্ভে ও পরিসংখ্যান এবং পূর্ত।

১৯৭২-৭৩ সালের এডিপিতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৫.০১ বিলিয়ন টাকা, যার শতকরা ৭৫ ভাগই ছিল বৈদেশিক সাহায্য খাতে প্রাপ্ত। এডিপির আকার বা বরাদ্দের পরিমাণ পরবর্তী বৎসরসমূহে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭৫-৭৬ সালের এডিপিতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৯.৫ বিলিয়ন টাকা যা পরবর্তী সময়ে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯৭৯-৮০ সালে ২১.২৩ বিলিয়ন, ১৯৮৭-৮৮ সালে ৫০.৪৬ বিলিয়ন এবং ১৯৯৫-৯৬ সালে ১২১ বিলিয়ন টাকাতে দাঁড়ায়। শুরু থেকে এডিপি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর হয়ে পড়ে। ১৯৭৯-৮০ সাল পর্যন্ত এডিপি বরাদ্দের শতকরা ৭০ ভাগই আসত বৈদেশিক সাহায্য তহবিল হিসেবে। পরবর্তী দু’বছরে বৈদেশিক সাহায্যের অংশ কমে এলেও ৩ বছর পর তা বৃদ্ধি পেয়ে শতকরা ৮০ ভাগে উন্নীত হয়। ১৯৮৭-৮৮ এবং ১৯৯০-৯১ বৎসরের এডিপিতে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ ছিল মোট বরাদ্দের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ। পরবর্তী বৎসরসমূহে বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসে ১৯৯৫-৯৬ বছরে শতকরা ৬৬ ভাগ-এ দাঁড়ায়। ২০০০-২০০১ সালের এডিপির প্রাক্কলিত বরাদ্দ হচ্ছে ১৭৫ বিলিয়ন টাকা এবং এর শতকরা ৪৩ ভাগ বৈদেশিক সাহায্য খাতে পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা করা হয়।

১৯৯৮-৯৯ সালের এডিপি বরাদ্দ অপেক্ষা ২০০০-২০০১ সালের এডিপি বরাদ্দ ২০ বিলিয়ন বা ১৩% এবং ১৯৭২-৭৩ সাল অপেক্ষা ১৬৯.৯৯ বিলিয়ন বা ৩৩৯৩% বেশি। ২০০০-২০০১ সালের এডিপিভুক্ত মোট ১,২৯৯টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ১৯০টি নতুন এবং ১,১০৯টি হচ্ছে চলতি প্রকল্প। এ সকল প্রকল্পকে আবার প্রধান কর্মসূচি প্রকল্প (১,০৯৭), কারিগরি সহায়তা (১৫০), সংস্থার নিজস্ব তহবিলে বাস্তবায়িত প্রকল্প (৪৬) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি প্রকল্প (৬), এ চারটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া উপজেলা ও পৌরসভাসমূহ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের গৃহীত প্রকল্পসমূহের অর্থায়নের জন্য ২০০০-২০০১ সালের এডিপিতে কিছু থোক বরাদ্দ (Bloc Allocation) রাখা হয়েছে।

২০০০-২০০১ সালের এডিপিতে মোট ১৭টি খাতে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর্থিক বরাদ্দের অংশসহ উক্ত খাতসমূহ হচ্ছে: কৃষি (৫.০৫%), পল্লী উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান (১০.৪২%), পানি সম্পদ (৫.৭০%), শিল্প (২.০৩%), বিদ্যুৎ (১২.৫৮%), তৈল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ (৩.৭৪%), পরিবহণ (১৪.১১%) এবং বঙ্গবন্ধু-যমুনা ব্রিজ (০.৬২%), যোগাযোগ (২.৭৯%), ভৌত পরিকল্পনা ও পানি সরবরাহ (৬.৩৭%), শিক্ষা ও ধর্ম (১৩.১০%), ক্রীড়া ও সংস্কৃতি (০.৬৪%), স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা (৯.২৭%), গণসংযোগ (০.৬১%), সমাজকল্যাণ, মহিলা ও যুব উন্নয়ন (১.২২%), জনপ্রশাসন (১.২৭%), বিজ্ঞান ও কারিগরি গবেষণা (০.৪৩%) এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান (০.১০%)। থোক বরাদ্দপ্রাপ্ত খাতগুলি হচ্ছে থানাসমূহ (১.২৯%), পৌরসভাসমূহ (০.৬৬%) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম (০.২৯%)। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু নতুন প্রকল্পের জন্য ০.১১%, পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত বিশেষ এলাকাসমূহের উন্নয়নের জন্য ০.০৩%, সমতল অঞ্চলের জেলাসমূহের জেলা পরিষদের জন্য ০.৩৭%, ৪টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জন্য ০.৬৬%, ঢাকা সিটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ১.১৩%, ঢাকা সমন্বিত বন্যা প্রতিরোধ-কাম-পূর্ব বাইপাস বহুমুখী সড়ক প্রকল্প ০.০৬% এবং খালখনন খাতে বরাদ্দ করা হয় ০.১৭%। এডিপির প্রায় শতকরা একভাগ অর্থ অবণ্টিত অবস্থায় রাখা হয় এবং দুটি বিশেষায়িত কর্মসূচির মধ্যে সংস্থার নিজস্ব তহবিল খাতে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প (১.৪৬%) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্যে কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা হয় ২%। আশা করা হয় যে, প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ১৭৫.০০ বিলিয়ন টাকার মধ্যে ৯৬.৮৯ বিলিয়ন বা ৫৫.৪% স্থানীয় মুদ্রা এবং ৭৪.৬১ বিলিয়ন টাকা বা ৪২.৬% বৈদেশিক সাহায্য খাতে প্রাপ্ত তহবিল হতে সংস্থান করা হবে। অবশিষ্ট ৩.৫০ বিলিয়ন টাকা বা ২% খাদ্যবণ্টন বাবদ প্রাপ্তব্য টাকা কাউন্টার পার্ট ফান্ড হতে নির্বাহ করা হবে।

প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল ব্যবহারে ক্রমাগত ব্যর্থতার কারণে দাতা সংস্থাগুলি প্রায়শ বৈদেশিক সাহায্যের অর্থ ছাড়করণে বিলম্ব করে থাকে। ফলে সরকার কর্তৃক প্রায় প্রতিবছরেই মূল এডিপি পরিবর্তন করে সংশোধিত এডিপি প্রণয়নের রেওয়াজ চলে আসছে। অনেক সময় নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তকরণ অথবা কোন প্রকল্প বাদ দেওয়ার জন্যও মূল এডিপিতে পরিবর্তন সাধন করতে হয়। প্রায়শই প্রকল্প অনুমোদনে বিলম্ব অথবা যথাযথ কাঠামোগত সুযোগ সৃষ্টি না করার কারণেও মূল এডিপি সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এছাড়া প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা এবং টাকা কাউন্টার পার্ট তহবিলে ঘাটতির কারণেও এডিপি সংশোধন করতে হয়। অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও সংস্থা কর্তৃক অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়ার ফলে স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রার যথাযথ বণ্টনের জন্য এডিপি পরিবর্তন করা হয় এবং ঐসব অতিরিক্ত চাহিদাকৃত অর্থ বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটের অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের খাত হতে মেটানো হয়।

উল্লেখ্য যে, এডিপিতে কোন নির্দিষ্ট বছরের সবগুলি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয় না। কিছু কিছু প্রকল্প এডিপি-বহির্ভূত রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট বছরের রাজস্ব বাজেট হতে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। সকল প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করে। উক্ত নীতিমালার আলোকে মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মনিটর করা হয়।

দেশের আর্থসামাজিক ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, মানব সম্পদের গুণগত মান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস ও আয় বৃদ্ধির জন্য গৃহীত সুনির্দিষ্ট জাতীয় কৌশলের পটভূমিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রতিবছরই বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেখা যায় ২০০৯-১০ অর্থবছর অবধি বিগত দশ বছরে এ খাতে প্রকৃত ব্যয় গড়ে শতকরা বার্ষিক ১০ ভাগেরও বেশি হারে বৃদ্ধি পায়। তবে ২০০১-০২ এবং ২০০৬-০৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্ধের পরিমাণ পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় কম হয়। উল্লেখ্য যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অর্থনীতির সার্বিক বিকাশ অগ্রগতির জন্য বিশেষভাবে অপরিহার্য। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কাঙ্খিত পারঙ্গমতা দেখাতে ব্যর্থ হয়। দেখা যায় ১৯৯৯-০০ অর্থবছরে বরাদ্দের শতকরা প্রায় ৯৪ ভাগ ব্যয়িত হলেও তা ক্রমশ হ্রাস পেয়ে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে শতকরা ৮৩ ভাগে নেমে আসে। অবশ্য পরবর্তীকালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বমুখী ধারা পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার পূর্বের বছরের তুলনায় অনেক বড় হলেও তা বাস্তবায়নের হার পূর্ববর্তী বছরসমূহের তুলনায় অনেক বেশি। এটা সরকারি খাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ইঙ্গিতবহ।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ২০০৯-১০ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত দশকে এ খাতে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে প্রাপ্ত সম্পদের অবদান বৃদ্ধি। ২০০৭-০৮ অর্থবছর ব্যতীত প্রতিবছরই তা প্রায় শতকরা ৫০ ভাগের কাছাকাছি ছিল। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ যথা বন্যা এবং সিডর-এর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে প্রাপ্ত বর্ধিত বৈদেশিক সাহায্যের কারণে উক্ত বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বৈদেশিক সাহায্যের কারণে উক্ত বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় সম্পদের পরিমাণ শতকরা ৪০ ভাগের নীচে নেমে যায়। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে শতকরা ৫৮ ভাগ। এ ধারাকে নিজস্ব উৎসের উপর অধিক নির্ভরতায় ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

২০০৯-১০ অর্থবছরে মোট ১২টি প্রধান খাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলি হচ্ছে: কৃষি (৫.৮০%), পল্লী উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান (১৮.৩৪%), পানি সম্পদ (২.০১%), শিল্প (১.৫৭%), বিদ্যুৎ (৮.৬৩%), তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ (৬.০৩%), পরিবহণ (৫.২৮%), যোগাযোগ (১.৩৯%), ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন (৯০৪১), শিক্ষা ও ধর্ম (১৮.৬০) এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা (১০.৪৬%)। এছাড়া বিবিধ খাতে শতকরা ১২.৪০ ভাগ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।  [আবুল কালাম আজাদ]