পিডিংটন, হেনরী

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:১১, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

পিডিংটন, হেনরী (১৭৯৭-১৮৫৮)  ব্রিটিশ ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ। তিনি পূর্ব ভারত এবং চীনে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সামুদ্রিক সার্ভিসে একজন শিক্ষানবিশ হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে কমান্ডার পদে উন্নীত হন। ১৮৩০ সালের কোন এক সময়ে তিনি কলকাতায় স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন এবং নববর্ধিষ্ণু এই নগরীর বিভিন্ন বিজ্ঞান সংস্থার সঙ্গে জড়িত হয়ে বিজ্ঞানচর্চা শুরু করেন। সমুদ্র অভিযানে চাকরির সময় সামুদ্রিক ঝড়ঝঞ্ঝার ওপর কৌতূহলী হয়ে ওঠার কারণে পরবর্তীতে তিনি আবহাওয়া বিজ্ঞানচর্চায় মনোযোগী হন। তখন পর্যন্ত আবহাওয়া বিজ্ঞানের বিকাশ একেবারেই প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছিল। ১৮৩৮ সালে উইলিয়ম রেইড (William Reid) রচিত ঝড়ঝঞ্ঝা সৃষ্টির মূলনীতি বিষয়ক পুস্তক ল অফ স্টর্ম (Law of Storm) প্রকাশিত হলে তা পিডিংটনকে এই বিষয়ে আরও আগ্রহী করে তোলে। তিনি তৎকালীন ভারত সরকারের সহায়তায় হারিকেন, ঘূর্ণিবাত্যা, ঝড়ঝঞ্ঝা প্রভৃতির ওপর ব্যাপক উপাত্ত ও তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। ব্যাপক গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে হেনরী পিডিংটন ১৮৪৪ সালে একটি পুস্তক প্রকাশ করতে সমর্থ হন, যার শিরোনাম The Horn-book for the Law of Storms for the Indian and China Seas। বিশ্বব্যাপী সমুদ্র অভিযাত্রিগণ পুস্তকটির উচ্ছসিত প্রশংসা করেন, যার ফলে গ্রন্থকার পিডিংটন কলকাতায় অবস্থিত ‘মেরিন কোর্ট অব ইনকোয়ারী’-র প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। ১৮৪৮ সালে তিনি এ গ্রন্থের পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম ছিল The Sailor’s Horn-book for the Law of Storms। পিডিংটনের এই পুস্তকটি ছিল একটি বিরাট সাফল্য এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ঝড়ঝঞ্ঝা সংক্রান্ত বিষয়ে এটি তখনকার একমাত্র স্বীকৃত পাঠ্যগ্রন্থের স্থান লাভ করে। এই গ্রন্থে পিডিংটন সর্বপ্রথম ‘সাইক্লোন’ (Cyclone) শব্দটি ব্যবহার করেন, যা দ্বারা তিনি ঘূর্ণন প্রবণতা বিশিষ্ট সামুদ্রিক ঝড়কে যথার্থভাবে বোঝাতে সক্ষম হন। বিশ্বের অন্যান্য খ্যাতিমান আবহাওয়া বিজ্ঞানিগণ পিডিংটনের দেওয়া এই নামকরণকে দ্রুত গ্রহণ করে নেন এবং বর্তমানেও শব্দটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে।

ঝড় সৃষ্টির মূলনীতি বিষয়ে বিশেষত্ব অর্জন ছাড়াও পিডিংটন ভারতীয় গাছ-গাছড়া, মৃত্তিকা রসায়ন, খনিজ বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিষয় নিয়েও গবেষণা করেন। তিনি কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং সোসাইটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৩০ এবং ১৮৪০-এর দশকে হেনরী পিডিংটন এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল-এর জার্নালে ভূতত্ত্ব, খনিজবিদ্যা এবং বিশেষ করে আবহাওয়া বিজ্ঞান সম্পর্কিত বহু প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তিনি কলকাতার এগ্রি-হর্টিকালচারাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। উইলিয়ম কেরীর পরামর্শ অনুসারে তিনি ভারতীয় উদ্ভিদরাজির একটি ইংরেজি সূচি সম্পাদনা করেন। ১৮৩১ সালে প্রকাশিত Gleanings in Science নামক জার্নালের তৃতীয় খন্ডে ‘On the Soil in which the Cinchona Thrives’ শীর্ষক প্রবন্ধ অনুসারে পিডিংটন ছিলেন বিজ্ঞানীদের মধ্যে সর্বপ্রথম, যারা ভারতের পার্বত্য অঞ্চলের সিঙ্কোনা গাছের কথা প্রচার করেন। এছাড়া তিনি সরকারী অর্থানুকূল্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক ভূতত্ত্ব জাদুঘর-এর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সরকার তাঁকে করোনার (Coroner) হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। হেনরী পিডিংটন ১৮৫৮ সালের ৭ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।  [অভিজিৎ মুখার্জী]