প্লাইউড

NasirkhanBot (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ০৪:১৫, ৫ মে ২০১৪ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (Added Ennglish article link)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

প্লাইউড (Plywood)  আঠা দ্বারা একসঙ্গে সংযোজিত কাঠের পাতলা শীট, যেখানে শীটগুলি পর্যায়ক্রমিক স্তরে সাধারণত সমকোণে বিন্যস্ত থাকে। প্রতি স্তরে কাঠের প্রজাতি, পুরুত্ব ও জমিনের দিককে (grain direction) অভ্যন্তরভাগের বিপরীতে অবস্থিত স্তরের সঙ্গে মানানসই করে তৈরি করা হয়। এতে মোট স্তর হয় বিষম সংখ্যক (তিন, পাঁচ বা তার অধিক)। প্লাইউড উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান কাজগুলি হচ্ছে ভিনিয়ার (veneer) তৈরি, ভিনিয়ার শুষ্ককরণ, শুষ্ক ভিনিয়ার জোড়া লাগানো, রজন সংমিশ্রণ ও প্রসারণকরণ, চাপপ্রয়োগ, প্রয়োজনীয় অবস্থায় আনয়ন এবং ছাটাই ও শিরিস করে সম্পূর্ণ করা। বাংলাদেশে প্লাইউডের সর্বাধিক ব্যবহার হয় চায়ের বাক্স (tea-chest) তৈরির কাজে। অন্যান্য যে সব কাজে ব্যবহার হয় তা হলো বাস ও বিমানের অভ্যন্তরীণ অলঙ্করণ, কেবিনেট প্রস্ত্তত (ওয়ার্ডরোব, টেবিল, ড্রেসার প্রভৃতি), গৃহ নির্মাণ (দেয়াল, সিলিং, মেঝে, দরজা প্রভৃতি) এবং খেলার সরঞ্জামাদি তৈরি। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্লাইউড চায়ের কার্টন প্রস্ত্ততকারী ২৫টি কারখানা রয়েছে এবং সেগুলির অধিকাংশই চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে অবস্থিত।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন ভিনিয়ার (veneer) ও প্লাইউড হিসেবে ব্যবহারের জন্য ১৬টি প্রজাতির কাঠ সুপারিশ করেছে। এছাড়া ১৭টি প্রজাতি জাহাজ তৈরির প্লাইউডের জন্য, ৪৬টি প্রজাতি সাধারণ ব্যবহারের প্লাইউডের জন্য এবং ৩৬টি প্রজাতি চা বাক্সের প্লাইউড তৈরির জন্য সুপারিশ করেছে। কতিপয় প্রজাতি ছত্রাকের প্রতি সংবেদনশীল, তাই সেগুলি বোরাক্স (borax), বরিক এসিড (boric acid) ও জিঙ্ক ক্লোরাইড জাতীয় (zinc chloride) সংরক্ষণকারী দ্রব্য দ্বারা শোধন করার প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে প্লাইউডের জন্য প্রধান প্রজাতির কাঠ হলো সিভিট (Swintonia floribunda), উরি আম (Mangifera sylvatica), আম (Mangifera indica), গর্জন (Dipterocarpus speceis), চাপলাইশ (Artocarpus chaplasha), চিকরাশি (Chuckrasia tabularis) ও কড়ই (Albizia species)।  [মোঃ আবদুস সাত্তার]